নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও এবারের ঈদে তরুণদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ‘কাটাপ্পা পাঞ্জাবি’। ভারত থেকে আসা ঈদের সেরা আকর্ষণ এটি। ‘বাহুবলী-২’ ছবির আলোচিত চরিত্র কাটাপ্পার পোশাকের আদলে তৈরি এ পাঞ্জাবি। দাম তিন থেকে ছয় হাজার টাকা। পাওয়া যাচ্ছে শহরের বিভিন্ন অভিজাত শো রুমে। আর মেয়েদের পছন্দ হলো বাহুবলী-২। এটিও এবারের ঈদের সেরা আকর্ষণ। ভারত থেকে আনা। দাম ৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা। নামের সঙ্গে মিলিয়ে ধুমছে চলছে বিক্রি।

শুক্রবার (১৬ জুন) সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় ঈদের কেনাকাটায় সরগরম এখন নারায়ণগঞ্জ শহরের মার্কেট-বিপণি কেন্দ্র। একই অবস্থা অভিজাত শপিং সেন্টারের ফ্যাশন হাউজগুলোতেও। জমজমাট ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা। ভিড়ে দম ফেলানোর সুযোগ নেই বিক্রয়কর্মীদের। প্রায় বেশীরভাগ দোকানে একদরে কেনাবেচা চলছে। একটি পোশাকের দোকানে খুব আগ্রহ নিয়ে কয়েকটি থ্রিপিস দেখছিলেন কলেজ ছাত্রী টুম্পা ও ফারহানা নামে দুই ক্রেতা। বিক্রয়কর্মী বললেন, আপা লন বাহুবলী-২। এই ঈদের সেরা আকর্ষণ। ভারত থেকে আনা। নারায়ণগঞ্জ শহরের অভিজাত শপিং সেন্টার আল জয়নাল শপিং সেন্টারে শুক্রবার সকালের চিত্র এটি। দেখা গেল আলো ঝলমলে শপিং সেন্টারের সবগুলো পোশাকের দোকানেই জমে উঠেছে জমজমাট ঈদবাজার। এখানে আবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ধুমছে কেনাবেচা চলছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ক্রেতার ভিড় তত বাড়ছে। একই চিত্র নামিদামি ফ্যাশন হাউজগুলোতেও। মধ্যরাত পর্যন্ত সরগরম সবখানে।

ব্যবসায়ীরা জানান, রোজার প্রথম থেকেই সরগরম মার্কেট বিপণি কেন্দ্র। সকাল থেকে সেহরি রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ঢল নামছে। বিক্রেতারা জানান, এবার বেচাবিক্রিও অন্যবারের চেয়ে ভালো।

শহরের স্বপ্ননীড় ফাতেমা টাওয়ারে অবস্থিত আড়ংয়ের শোরুমে গিয়ে দেখা গেল, ক্রেতাদের প্রচন্ড ভীড়। আড়ংয়ের বিক্রয়কর্মী নিউজ প্রাচ্যেও ডান্ডিকে বলেন, ক্রেতারা এখানে স্বাচ্ছন্দে কেনাকাটা করতে পারছেন। কারণ পরিবারের সব বয়সীদের পছন্দের পোশাক রয়েছে এখানে। ঈদে তরুণীদের বেশি পছন্দ জিন্সের প্যান্টের সঙ্গে মানানসই ড্রেস ‘তাগা’। দাম ৭০০ থেকে ৭৫০০ টাকা। এ ছাড়া পাঁচ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে মসলিন, হাফ সিল্ক, জামদানি, মীরপুর কাথান শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে এখানে। ছেলেদের পাঞ্জাবি মিলছে এক থেকে সাত হাজার টাকা এবং শার্ট সাড়ে ৬শ থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে।

এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া সান্তনা মার্কেট, বেইলি টাওয়ার, মার্ক টাওয়ার, হক প্লাজা, সমবায় মার্কেট, সায়াম প্লাজা, জামান টাওয়ার, ফ্রেন্ডস মার্কেট, ডিআইটির বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ, শপিং মল, বিপণি বিতান ও পোশাক বিপণিতেও জমে উঠেছে ঈদবাজার। প্রায় সব দোকানেই একদামে পোশাক বিক্রি হচ্ছে। তবে দামাদামির দোকানও রয়েছে কিছু।

নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন মার্কেটে ভারত, পাকিস্থান ও চীন থেকে আনা জর্জেট ও সুতি কাপড়ের ফোর টাচ টপস, শর্ট টপস, লেহেঙ্গা এবং থ্রিপিস বেশি বিক্রি হচ্ছে। জর্জেট থ্রিপিস দেড় হাজার থেকে ১৫ হাজার, পাকিস্থানি সুতি থ্রিপিস দেড় হাজার থেকে ৫০০০, লেহেঙ্গা চার হাজার থেকে ১৪ হাজার, টপস এক হাজার থেকে ৫০০০, জামদানি শাড়ি পাঁচ হাজার থেকে ৭০০০, শিশুকন্যাদের পোশাক ৮৫০ থেকে ৫৫০০ এবং ছেলেদের পাঞ্জাবি এক থেকে আড়াই হাজার টাকায় মিলছে।

পাঞ্জাবীর ক্রেতা বেশির ভাগই তরুণ। বিক্রয়কর্মী পোশাক মেলে ধরে বললেন, ‘কাটাপ্পা পাঞ্জাবি’। ভারত থেকে আসা ঈদের সেরা আকর্ষণ। ‘বাহুবলী-২’ ছবির আলোচিত চরিত্র কাঃাপ্পার পোশাকের আদলে এই পাঞ্জাবি। দাম তিন থেকে ছয় হাজার টাকা। মধ্যরাত পর্যন্ত ঈদবাজার করতে আসা মানুষের ¯্রােত শহরের নিউমার্কেটের দোকানগুলোতেও।

বিক্রেতারা জানান এবারের ঈদ ফ্যাশনে ভারতীয় পোশাকের জয়জয়কার চলছে। এর মধ্যে বাহুবলী-২ সাড়ে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার, লাভিনা, এভন ও ভারসা সাড়ে তিন থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার, অমটেক্স অন্তর তিন থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার, বুটিকস-এর পিউর জর্জেট জারা সাড়ে ৪ থেকে সাত হাজার, পিউর জর্জেট চার হাজার, পাকিস্থানি কটন বুটিকস সাড়ে তিন থেকে সাড়ে ৬ হাজার এবং সুতি কটন ৭০০ থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here