নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: প্রাচ্যের ডান্ডি খ্যাত নারায়ণগঞ্জে ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ীসহ অপরাধীদের নির্মূলে এখন প্রধান ‘অন্তরায়’ জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদসহ প্রশাসন বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল।
যেই কারনে, বড় বড় জনপ্রতিনিধি রাজনীতিবিদ থেকে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সন্ত্রাস, মাদক নির্মূলে বড় বড় হুংকার দিলেও ‘সর্ষের মধ্যেই ভূত’ থাকায় নারায়ণগঞ্জে সহসাই সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু, মাদক ব্যবসায়ীসহ অপরাধীদের নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জনসাধারন।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, সন্ত্রাস, ভূমিদস্যুতা, মাদক ব্যবসার মত অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়া অপরাধীরা প্রত্যেকেই কোন না কোন জনপ্রতিনিধি বা রাজনীতিবিদের ছত্রছায়ায় থেকে নিজেকে অপরাধ জগতে প্রতিষ্ঠিত করে তুলছে। যার ফলে অনেক সময় পুলিশ প্রশাসনের জালে আটক হলেও ভাগ্যক্রমে সেই সকল জনপ্রতিনিধি রাজনীতিবিদদের তদ্বিরে তাৎক্ষনিক ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা।

আবার কখনো প্রশাসনের কতিপয় সদস্যদের সাথে আঁতাত করে বীরদর্পে সন্ত্রাসী মূলক কর্মকান্ড, মাদক ব্যবসা, ভূমিদস্যুতা চালিয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা।

ফলে জনপ্রতিনিধি হউক বা বড় মাপের রাজনীতিবিদ থেকে প্রশাসন কিংবা সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ যতই নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাস ও মাদক মুক্ত গড়তে অপরাধীদের বিরুদ্ধে হুংকার দিয়ে থাকুক না কেন, বাস্তবে ‘সর্ষের মধ্যেরই ভূত’ (রাজনীতির অন্তরালে অপরাধীদের প্রশ্রয় দেয়া রাজনীতিবিদ এবং আইনশৃংখলা বাহিনীর কতিপয় সদস্য) থাকায় নারায়ণগঞ্জে প্রশাসেনর সাথে ‘বন্দুক যুদ্ধে’ শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী নিহত কিংবা আহত হওয়ার মত ঘটনা ঘটলেও রাজনীতিবিদদের ছায়াতলে যেয়ে অপরাধীরা থেকে যান অঁধরা।

দেখাগেছে, জনপ্রতিনিধি তথা রাজনীতিবিদদের মধ্যে মাদক, সন্ত্রাস, ভূমিদস্যুসহ অপরাধীদের নির্মূলে সবচেয়ে বেশী সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন ক্ষমতাসীন দলের নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমান। যিনি মাদক ব্যবসা নির্মূলে প্রশাসনকে প্রয়োজনে মাদক ব্যবায়ীদের ধরতে গুলি করার নির্দেশ প্রদানের পাশাপাশি খোদ নিজেই মাদক ব্যবসায়ীদের বাড়ীর ইট খুলে ফেলার হুংকার দিয়েছিলেন।

এমনকি এই ব্যাপারে নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি হুঁশিয়ারীও উচ্চারন করছেন শামীম ওসমান। তিনি বলেন, ‘আমি জমি দখল করিনা, চাঁদাবাজি করি না। মাদক, সন্ত্রাস, ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষনা করলাম। আর যদি কেউ করে তার দায়িত্ব আমি নিব না, কাউকে ছাড়ও দিব না।’

তেমনি জেলার পুলিশ প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্তা পুলিশ সুপার মো: মঈনুল হক প্রায়ই সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা নির্মূলে পুলিশের ভূমিকা ‘জিরো টলারেন্স’ বলে দাবী করে আসছেন।

কিন্তু সাংসদ শামীম ওসমান অপরাধী দমনে সোচ্চার থাকলেও তার অনুগামী অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ছত্রছায়ায় সিদ্ধিরগঞ্জ-ফতুল্লা জোনে চলছে সন্ত্রাস, ভূমিদস্যুতা, মাদক ব্যবসা।

শুধু তাই নয়, জনপ্রতিনিধিদের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসায়ীরা বীরদর্পে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী। তিনি আরো অভিযোগ করেন, পুলিশ চাইলেই এক নিমিশেই মাদক নির্মূল করতে পারেন।

ক্ষমতাসীন বা বিরোধীদলীয় রাজনীতির সাথে জড়িত এমন একাধিক সিটি কাউন্সিলর মাদক ব্যবসা, ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসীমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। যাদের মধ্যে কেউ কেউ ইতিমধ্যে মাদকসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর কাছে গ্রেফতারও হয়েছেন।

সোনারগাঁয়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী কয়েকজন রাজনীতিবিদের শেল্টারে চলছে মাদক ব্যবসা। আড়াইহাজাওে ক্ষমতাসীন দলের এমপি আলহাজ¦ নজরুল ইসলাম বাবুর ছত্রছায়ায় থেকে অনেক মাদক ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যু অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রূপগঞ্জেও ক্ষমতাসীন দলের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতিকের ছত্রছায়ায় থেকে একটি পক্ষ, আর কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিকের নেতৃত্বে থেকে আরেকটি পক্ষ সন্ত্রাস, ভূমিদস্যুতাসহ মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বন্দরে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী মূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে একাধিকবার গ্রেফতার হন। আছে মহানগর ছাত্রদল যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশার ছত্রছায়ায় থাকা ছাত্রদলের নেতা জনির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ডিবির সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত নারায়ণগঞ্জে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মনিরুজ্জামান শাহীন ওরফে বন্দুক শাহীনও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের হাত ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। সখ্যতা গড়ে তোলেন তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ এড. আবুল কালামের সাথেও।

তাছাড়া গত মাসে কাশীপুরে সংঘটিত জোড়া খুনের ঘটনায়ও মহানগর বিএনপি উপদেষ্টা আব্দুল মজিদ খন্দকার ও তার ভাই মহানগর বিএনপি নেতা হাসান আহাম্মেদের নির্দেশে হয়েছিল বলে জানাযায়। যারা রাজনীতির আড়ালে মাদক ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যুতার জন্য একাধিক টিম গড়ে তোলেন।

এমন আরো অনেক মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যুরা রাজনীতিবিদদের ছত্রছায়ায় থেকে নিজেদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে শুধু রাজনীতিবিদরাই নয়, আছে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও মাদক ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যুদের সাথে সখ্যতার অভিযোগ। যেই কারনে ইতিমধ্যেই এই জেলা থেকে ওসি, দারোগাসহ অনেক পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলী করতে বাধ্য হন জেলা পুলিশ সুপার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here