নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগ ঐক্যবদ্ধ, নেই কোন বিভাজন, আছে মনমালিন্য- এমনটা ক্ষমতাসীন দলের এমপিসহ শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা দাবী করলেও বাস্তবতাটা ভিন্ন বলে অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
তাদের মতে, ঐক্যবদ্ধের তুলনায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগে বিভাজনটাই স্পষ্ট। কারন কারো সাথে মনমালিন্যের ফলেই বিভাজন বা কোন্দলের সৃষ্টি হয়। যা কিনা কোন কোন ক্ষেত্রে স্বীকারও করে নিচ্ছেন শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা। যেই কারনে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সবাইকে অতীত ভেদাভেদ ভুলে এখন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানাচ্ছেন তারা।

এমনকি ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরাও নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন।

তাই তৃণমূলের অভিমত, আওয়ামীলীগে ঐক্য ফেরাতে সবার আগে শীর্ষস্থানীয় নেতায় নেতায় চলমান দ্বন্দ মন্যমালিন্য দূর করতে হবে। নিজেকে সত্যিকার অর্থে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতিবিদ দাবী করার পাশাপাশি সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়াতে হবে। আর তা যদি সম্ভব হয় তবেই আগামীতে নারায়ণগঞ্জের আসন গুলোতে নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করে শেখ হাসিনাকে উপহার দেয়া সম্ভব হবে।

জানাগেছে, সাংসদ শামীম ওসমানের সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর বিরোধটা বহু বছরের। গত বছর ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পূর্বেও স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শামীম ওসমান ও আইভীর বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে উভয়কে গণভবনে তলব করে মিলিয়ে দিয়েছিলেন।

এরপর শামীম ওসমান আইভীর জন্য সিটি নির্বাচনে নিরলস পরিশ্রম করেন। ছোট বোনের জন্য দেয়া হিসেবে পাঠান নৌকা সম্বলিত দু’টি শাড়ী। এমনকি আইভী নির্বাচিত হলে তার কাছ থেকে আইসক্রীম খাওয়ারও বায়না করেন শামীম ওসমান। কিন্তু মেয়র নির্বাচিত হলেও অদ্যবধি আইভী শামীম ওসমানের সাথে কোন কথা বলেন নি।

তারপর সম্প্রতি যুব মহিলালীগের কমিটি ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমানের মনমালিন্যের সৃষ্টি হয় মহানগর আওয়ামীলীগের। সংগঠনটির সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা ও সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাহমুদা মালা সরাসরি শামীম ওসমানের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পরে।

কিন্তু তারপরেও গত ১২ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে নগরীতে অনুষ্ঠিত স্মরণকালের সর্ববৃহৎ শোক র‌্যালীতে আব্দুল হাই, আনোয়ার হোসেন, খোকন সাহা, আইভীর উপস্থিতি কামনা করেছিলেন শামীম ওসমান।

তিনি বলেছিলেন, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগে কোন কোন্দল নেই। আওয়ামীলীগ ঐক্যবদ্ধ, আছে শুধু মনমালিন্য। শোক র‌্যালীতে আইভীর উপস্থিতিই প্রমাণ করবে তার সাথে আমার কোন দ্বন্দ নেই।

অথচ শোক দিবসের র‌্যালীতে বৃষ্টি উপক্ষো করে লাখো জনতার সমাগম ঘটলেও আসেননি আওয়ামীলীগের শীর্ষ এই ৪ নেতা। যা নিয়ে নানা সমালোজনার সৃষ্টি হয়। এমনকি দাওয়াত দেয়ার পরেও শোক র‌্যালীতে না আসায় দু:খ প্রকাশ করেন শামীম ওসমান।

শুধু আওয়ামীলীগের এই শীর্ষ ৪ নেতাই নয়, শামীম ওসমানের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে এখন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ জাতীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. আনিসুর রহমান দিপু এবং কেন্দ্রীয় শ্রমিকলীগের শ্রম কল্যান বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ¦ কাউসার আহম্মেদ পলাশের।

আর জেলা পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইয়ের সাথে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেনের মধ্যকার সৃষ্টি হওয়া মনস্তাত্বিক দ্বন্দ এখনো বহাল রয়েছে। যেই কারনে কোন অনুষ্ঠানে উভয়ে এক মঞ্চে উপস্থিত হলেও কেউ কারো সাথে কথা বলেনি।

অপরদিকে, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদলের সাথে একটি লিফলেট বিলি করাকে কেন্দ্র করে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহার সাথে মতবিরোধের সৃষ্টি হওয়ার পর তা নিরসন হলেও এখনো তা স্পষ্ট ভাবে নিষ্পত্তি হয়নি।

এছাড়া রূপগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতিকের সাথে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূইয়ার সাথেও দ্বন্দ চলে আসছে বহু বছর যাবত।

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে সাংসদ আলহাজ¦ নজরুল ইসলাম বাবুর সাথেও স্থানীয় আওয়ামীলীগের একাংশের মনস্তাত্বিক দন্ব বিরাজমান রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাতে সাথেও আছে স্থানীয় আওয়ামীলীগের মতবিরোধ।

সব মিলিয়ে রাজধানীর পাশ^বর্তী জেলা হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগে নেতায় নেতায় দ্বন্দের কারনে কর্মীরাও এখন বিভক্ত হয়ে পড়ছে। যেই কারনে আগামী নির্বাচনের পূর্বে ঐকবদ্ধ হতে এখন নেতারাই সবচেয়ে বেশী তাগিদ দিচ্ছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here