নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বইছে নির্বাচনের হাওয়া। আগামী সংসদ নির্বাচনের আরো এক বছরেরও বেশি সময় থাকলেও নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখনই দলীয় মনোয়ন নিশ্চিত করছে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগের পাশাপাশি স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নতুন বলয় তৈরী করছেন। আর নতুন বলয় সৃষ্টির কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বিভেদও সৃষ্টি হচ্ছে।
এতে করে সাংগঠনিক ভাবে দল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা চিন্তিত নির্বাচন নিয়ে। নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে দলীয় কোন্দল তত চাঙ্গা হচ্ছে।

জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে এখনই দলীয় কোন্দল চরম আকারে রূপ নিয়েছে। এ আসনে নৌকা প্রতীক পেতে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা এখন সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে নিয়ে নতুন বলয় তৈরী করার চেষ্টা করছেন।

আর আওয়ামীলীগের জাতীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. আনিসুর রহমান দিপু এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদল নিজ নিজ ভাবে নির্বাচন মুখী হতে চালিয়ে যাচ্ছেন নানা তৎপরতা।

অপর দিকে, কেন্দ্রীয় শ্রমিকলীগ সভাপতি আলহাজ¦ শুক্কুর মাহমুদ, জেলা যুবলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির, আওয়ামীলীগ নেতা আরজু রহমান ভূইয়া নৌকা প্রতীক পেতে গণসংযোগ করছেন।

এছাড়াও ড্যামী প্রার্থী হিসেবে মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম আরাফাতসহ বেশ কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তবে এ আসনে বর্তমান সাংসদ সেলিম ওসমান উপ-নির্বাচনে জার্তীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত হলেও আগামী নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন বলে একটি সূত্র থেকে জানাগেছে।

কেননা আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনেই প্রার্থী দিবে আওয়ামীলীগ। জাতীয় পার্টিকে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। সেক্ষেত্রে সেলিম ওসমান নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলে আশ্চর্য্য হওয়ার কিছু থাকবে না। কারনম এরই মধ্যে একটি অনুষ্ঠানে সাংসদ সেলিম ওসমান আওয়ামীলীগের স্থানীয় নেতাদের সাথে একমত হয়ে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনেই আগামীতে আওয়ামীলীগের প্রার্থী দেয়ার দাবী জানিয়েছেন। তার এই বক্তব্য দেওয়ার পরই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রথমে চিন্তিত হয়ে পড়লেও বর্তমানে তাদের কাছে এই বক্তব্যের রহস্য স্পষ্ট হচ্ছে।

এদিকে, ওসমান পরিবার বিরোধীরা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জন্য সাবেক এমপি এস.এম আকরামকে নিয়ে কেন্দ্রে দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে ব্যর্থ হন। তাই নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী হয়েই এস এম আকরাম নির্বাচনে অংশ নিবেন বলে জানাগেছে।

অপর দিকে, এ আসনে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম ও সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান নতুন করে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন। পৃথক পৃথক বলয় সৃষ্টি করে পৃথক পৃথক ভাবেই দলীয় কর্মসূচী পালন করছেন তারা। গণমাধ্যমে দিচ্ছেন পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। যার ফলে সম্প্রতি গঠন হওয়া নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আংশক কমিটি এখন পূর্ণঙ্গ হওয়ার আগেই বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে। কমিটি দেওয়ার পর নেতাকর্মীদের মাঝে চাঙ্গা ভাব থাকলেও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন্দলের কারণে এখন তা দেখা যায় না।

এদিকে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকদুল আলম খন্দকার খোরশেদও সম্প্রতি মাঠে নেমেছে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) সাংসদ শামীম ওসমানের নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা এখন ঐক্যবদ্ধ থাকলেও নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশায় নিজের বলয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের ভীড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় শ্রমিকলীগ শ্রম কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ¦ কাউছার আহম্মেদ পলাশ।

আর বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করার মিশনে নেমে বেকায়দায় এখন সাবেক এমপি আলহাজ¦ গিয়াস উদ্দিন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তি লক্ষে দলকে সুসংগঠিত করতে থাকলেও সম্প্রতি ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে ফতুল্লায় এসে আগামী নির্বাচনে উক্ত আসন থেকে শিল্পপতি শাহ্ আলমের নাম ঘোষণা করে দলীয় নেতাকর্মীদের দ্বিধান্বিত করে গেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায় ও সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী হিসেবে প্রথমে সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত আলোচনায় থাকলেও এখন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছেন। সাংগঠনিক ভাবে এবং সাধারন মানুষের সান্নিধ্যে থাকার কারনে স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরাও এখন তার বলয়ে ভীড়তে শুরু করেছে।

তবে জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বর্তমান সাংসদ উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের নিজ বলয়ে রাখতে সক্ষম হলেও আরেকজন সম্ভাব্য প্রার্থী মহিলা পার্টির সাধারন সম্পাদক অনন্যা হুসাইন মৌসুমী এখন নিজ বলয়ে নেতাকর্মীদের ভীড়ানোর চালিয়ে যাচ্ছেন চেষ্টা।

আর বিএনপির নেতাকর্মীরা তো রয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থী ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মাজহারুল ইসলাম মান্নানের কব্জায়। তারপরেও উক্ত আসন থেকে নির্বাচনের লক্ষ্যে সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম ও মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল নিজ বলয়ে নেতাকর্মীদের ভীড়াতে চালিয়ে যাচ্ছেন নানা প্রয়াস।

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে (আড়াইহাজার) স্থানীয় আওয়ামীলীগে বর্তমান সাংসদ আলহাজ¦ নজরুল ইসলাম বাবুর সাম্প্রতিক কর্মকান্ডে উক্ত আসন থেকে নৌকা প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় যুবলীগের তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক এড. ইকবাল পারভেজের বলয়ে এখন ভীড়তে শুরু করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

আর বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ নিজেকে জিয়া পরিবারের সদস্য পরিচয় দিয়ে নেতাকর্মীদের নিজের করায়ত্বে আনার চালিয়ে যাচ্ছেন চেষ্টা।

যদিও আগে থেকেই এই আসনে ধানের শীষ প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ¦ বদিউজ্জামান খসরু ও সাবেক এমপি আলহাজ¦ আতাউর রহমান আঙ্গুরের কারনে বিভক্ত হয়ে আছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে (রূপগঞ্জ) ক্ষমতাসীন দলের বর্তমান সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতিক, রূপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ওরফে আন্ডা রফিক নিজ নিজ বলল গড়ে তুলায় বিভক্ত হয়ে পড়েছেন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা।

তন্মধ্যে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আরো কয়েকজন প্রার্থীও এখন স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নিজ বলয় গড়ে তুলতে অব্যাহত রেখেছেন প্রচেষ্টা।

তবে কোন অংশে কম নেই বিএনপিও। এই আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্য নির্বাহী সদস্য দিপু ভূইয়াও গড়ে তুলেছেন নিজ নিজ বলয়।

সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি আসনেই সকল দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে নিজ নিজ বলয় গড়ে তুলছেন আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরা। আর আসন নিয়ে রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের কোন্দল এখন দিবালকের মত স্পষ্ট হয়ে উঠছে সাধারণ ভোটারদের কাছে। যদিও ভোটাররা বলছে, প্রতীক নয় বরং যোগ্য প্রার্থীদের ভোট দিবেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here