নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষ্টমী তিথিতে নারায়ণগঞ্জের ভক্তরা বরণ করে নিলো কুমারী মাকে।
বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শহরের মিশনপাড়ায় অবস্থিত রামকৃষ্ণ মিশনে সকালে বরণ করা হয় তাকে। এ উপলক্ষে রামকৃষ্ণ মিশনে দিনভর ছিল জনতার ভিড়। প্রতিবছরের মতো এবারো রামকৃষ্ণ মিশনে হাজারো ভক্ত দূর্গা মাকে জয়ধ্বনি দিয়ে বরণ করে নেন কুমারী মাকে।

প্রতিভু হিসেবে দেবীর আসনে বসানো হয় সেই কুমারী মা অনন্তা চক্রবর্তী গুনগুনকে। তার বয়স সাড়ে পাঁচ বছর। শাস্ত্রীয় মতে ৬ বছরের কোন কুমারীকে উমা রূপে অর্চ্চনা করা হয়।

গুণগুণের বাবার নাম অভিজিৎ চক্রবর্তী ও মায়ের নাম উমা চক্রবর্তী। শহরের চাষাঢ়ায় অবস্থিত বেইলী স্কুলের নার্সারির ছাত্রী এই কুমারী মা গুনগুন। কুমারী পূজা পরিচালনা করেন রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী একনাথানন্দজী মহারাজ।

উলুধ্বনি, কাঁসার ঘণ্টা আর ঢাক-ঢোল পিটিয়ে অজস্র ভক্ত মর্ত্যধামে স্বাগত জানায় কুমারী মা গুনগুনকে। প্রতিবছর শ্রীশ্রী শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষ্টমী তিথিতে রামকৃষ্ণ মিশনের পূজামন্ডপে নিস্পাপ এক কন্যা-শিশুকে দেবী দূর্গা রূপে আরাধনা করা হয়। এ কারণে দুর্গোৎসবের অন্যতম প্রধাণ আকর্ষণ হচ্ছে মহাষ্টমীর দিনে রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজা। বিশ্বকে মায়ের জ্ঞান করেই মাতৃরূপে কুমারীকে পূজা দেয়া হয়।

কুমারী পূজা শেষে ভক্তরা দুর্গাপূজার অঞ্জলী প্রদান করেন। অঞ্জলী প্রদান শেষে হাজার হাজার ভক্ত দর্শনার্থীদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। এদিন রামকৃষ্ণ মিশনের মন্দির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ ছাপিয়ে মানুষ রাস্তায়ও দাঁড়িয়ে ছিলেন। শেষে ভিড় কমলে তারা মন্দিরে প্রবেশ করেন। প্রচন্ড গরম উপেক্ষা করেও মাঠে দাঁড়িয়ে পূজা উপভোগ করেন দর্শনার্থীরা। এর আগে সকাল থেকেই হিন্দু সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক নর-নারী সমবেত হন রামকৃষ্ণ মিশন মঠে। সবাই আগ্রহ নিয়ে বসেন কুমারী পূজা দেখার জন্য।

এ সময় কুমারী মাকে মন্ত্র পাঠ করে গঙ্গাজল ছিঁটিয়ে শরীর মন শুদ্ধ করে মাতৃজ্ঞান রূপে পূজা করা হয়। পূজারীরা বলেন, মা হচ্ছেন এই পৃথিবীর রক্ষাকর্তা। প্রত্যেক শিশু-কন্যার ভেতরে আছে আমাদের এই জগৎজননী। তা না থাকলে এই পৃথিবীর সৃষ্টি অগ্রগতি থেমে যেতো। এই পূজা বেলা সাড়ে ১১ টায় শুরু হয়ে শেষ হয় ১২টা ১০ মিনিটে। পূজার আগেই কুমারী মাকে গঙ্গাজল ছিটিয়ে স্নান করানো হয়। এরপর মাকে বস্ত্র, সিঁদুর, আবরণ উপভূষণ প্রটোকলে রেখে ধুপ জ্বালিয়ে ফুলের মালা পরিয়ে পূজা করা হয়। শেষে মাকে মিষ্টিমুখ করানো হয়। এরপর ভক্তরা মাকে প্রণাম করেন।

পূজানুষ্ঠান শেষে কুমারী গুণগুণ তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার অনেক ভালো লাগছে। আমার সৌভাগ্যবতী যে ভক্তরা আমাকে পূজো দিয়েছে।’

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র পরিচালক প্রবীর কুমার সাহা, নাগ মহাশয় আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক তারাপদ আচার্য্য, নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপণ পরিষদের সভাপতি শংকর সাহা, সাধারণ সম্পাদক সুজন সাহা, যুগ্ম সম্পাদক কমলেশ সাহা, নারায়ণগঞ্জ মহানগর পূজা উদযাপণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন, যুগ্ম সম্পাদক উত্তম সাহা প্রমূখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here