নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ক্ষমতাসীন কিংবা বিরোধী দল, নারায়ণগঞ্জে উভয় দলেই চলছে এখন ব্যাক্তি বিরোধী ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। দলের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার পরিবর্তে খোদ শীর্ষস্থানীয় নেতারাই একে অপরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামীলীগ ও বিএনপির তৃণমূল নেতৃবৃন্দরা।
যেই কারনে স্ব-স্ব দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের অনুসারীরা এখন দলীয় সভা সমাবেশে তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে একে অপরের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারন করছেন। আর এতে করে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ব্যাক্তি ইস্যুতে ক্রমশই উত্তেজনার সৃষ্টি হচ্ছে বলে শংকা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জানাগেছে, জানাগেছে, গত ২৮ মে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই ও সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদলের সুপারিশে ইয়সমিন চৌধুরী লিন্ডাকে আহবায়ক ও সৈয়দা ফেরদৌসি আলম নীলা, সাবিরা সুলতানা নীলা, নিলুফার ইয়াসমিন, ফারিয়া আক্তার হেলেনা, হাসিনা বেগমকে যুগ্ম আহবায়ক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট যুব মহিলালীগ নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটি এবং মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন ও সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহার সুপারিশে ৩০ মে নুরুন্নাহার সন্ধ্যাকে আহবায়ক ও সালমা আক্তার, শারমীন আক্তার ডলি, মায়ানূর মায়া, চায়না আক্তার, রুম্পা আক্তারকে যুগ্ম আহবায়ক করে ৪৯ সদস্য বিশিষ্ট যুব মহিলালীগ নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটির অনুমোদন দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নাজমা আক্তার ও সাধারন সম্পাদক অপু উকিল।

এরপর নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের সুপারিশে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নাজমা আক্তার ও সাধারন সম্পাদক অপু উকিল নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের নারী সদস্য সাদিয়া আফরিনকে আহবায়ক ও শারমিন আক্তার মেঘলা, আসমা আক্তারকে যুগ্ম আহবায়ক করে জেলা যুব মহিলালীগ এবং এড. স্ইুটি ইয়াসমিনকে আহবায়ক ও মুনিরা সুলতানাকে যুগ্ম আহবায়ক করে মহানগর যুব মহিলালীগের আরেকটি কমিটি অনুমোদন দেয়ার পরই নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে নতুন করে সৃষ্টি হয় উত্তেজনা।

মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাহমুদা মালা ও মহানগর যুব মহিলালীগের প্রথম কমিটির আহবায়ক নুরুন্নাহার সন্ধ্যা সাংসদ শামীম ওসমানের ঘোর বিরুদ্ধাচরন করতে শুরু করেন।

যার প্রেক্ষিতে শামীম ওসমানের অনুসারীরা একটু দেরীতে হলেও গত ২৬ আগষ্ট দলীয় কার্যালয়ে শোক দিবস উপলক্ষ্যে মহানগর স্বেচ্ছা সেবকলীগ আয়োজিত সভায় আনোয়ার খোকন মালা ও সন্ধ্যাকে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী আখ্যায়িত করে তাদের কঠোর হুঁশিয়ারী প্রদান করেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মোঃ শহীদ বাদল বলেন, ‘শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, শামীম ওসমান হচ্ছেন দীপ্তমান সূর্য। তিনি সকল ষড়যন্ত্র ভেদ করে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করবেন ইনশা আল্লাহ।’

মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ্ নিজাম বলেন, ‘শামীম ওসমানের কর্মীরা দুর্বল নয়। তারা যেমন ধৈর্য্য ধরতে জানে, তেমনি ধৈর্য্যের বাধ ভেঙ্গে গেলে এর দাঁতভাঙ্গা জবাবও দিতে জানে। সুতরাং নোংরা রাজনীতি ছেড়ে সুষ্ঠ ধারার রাজনীতিতে আসুন।’

মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু বলেন, ‘শামীম ওসমানের হাতে তৈরি কিছু বিপথগামী নেতাকর্মীরা আজ নেতার বিরুদ্ধে কথা বলছে। তারা হয়তো ভুলে গেছে শামীম ওসমানের রাজনীতির শিকরটা কতটা শক্ত। তবে তাদের এই ধারণা ভাঙবে। একদিন কোন কূল কিনারা না পেয়ে তারা শামীম ওসমানের পদতলে এসে পড়বে।’

মহানগর কৃষকলীগের যুগ্ম আহবায়ক জিল্লুর রহমান লিটন এড. মালা ও সন্ধ্যাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সন্ধ্যা তো এমনিতেই অন্ধকার। আর মালা গলায় পড়লে জ্বালা কম নয়। দয়া করে এই নোংরা খেলা বন্ধ করুন। অনেক নাটক হয়েছে। যদি আরেকবার আমাদের নেতাকে নিয়ে কোন কটুক্তি করা হয়, তাহলে সেই কটাক্ষকারীর জিহ্বা টেনে ছিড়ে ফেলবো।’

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এহসানুল হাসান নিপু বলেন, ‘খন্দকার মোস্তাকের অনুসারীরা নারায়ণগঞ্জের প্রাণপুরুষ শামীম ওসমানকে নিয়ে নোংরা রাজনীতিতে মত্ত। আমি সেই ষড়যন্ত্রকারীদের হুঁশিয়ার করে বলে দিতে চাই, এখনো সময় আছে এই নোংরা রাজনীতি বন্ধ করুন।’

তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কে উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, ‘বিগত দিন গুলোতে আপনাদের অনেক ইজ্জ্বত দিয়েছি। দয়া করে শামীম ওসমানকে নিয়ে আপনাদের নোংরা খেলা বন্ধ করুন। আমরা যেমন কাউকে ইজ্জ¦ত দিতে জানি তেমনি ইজ্জ্বত নিতেও জানি। শামীম ওসমান আপনাদের যে সম্মান দিয়েছেন তা অক্ষুন্ন রাখুন। পদ পেয়েছেন বলে যা খুশি তা বলবেন এসব বরদাস্ত করা হবে না। অনেক ধৈর্য্য ধরেছি। ধৈর্য্যরে বাঁধ ভেঙ্গে গেলে রক্ষা নাই। শামীম ওসমান যেমন পদ দিতে জানে, তেমনি পদ ছিনিয়ে নিতেও জানে। সুতরাং সাবধান হোন।’

এরআগে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমানকে উদ্দেশ্য করেও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেছিলেন, আওয়ামীলীগের ভিতরে থেকে জাতীয়পার্টিকে প্রতিষ্ঠিত করার ষড়যন্ত্র করতে দেয়া হবে না।’ আর সাথে সুর মিলিয়েছিলেন, সাধারন সম্পাদক খোকন সাহা ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা মালা।

আর র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত যুবদল নেতা ডেভিডের গাড়ীতে থাকার কথা বলায় শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে চরিত্র হননের অভিযোগ এনে তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন মহানগর যুব মহিলালীগের প্রথম কমিটির আহবায়ক নুরুন্নাহার সন্ধ্যা।

অপরদিকে, বিএনপিতেও চলছে ব্যাক্তি বিরোধী ষড়যন্ত্রের খেলা বলে অভিযোগ তৃণমূলের। দলটির নতুন সদস্য সংগ্রহে যখন এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত দাবড়িয়ে তৃণমূলকে সংগঠিত করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছিলেন মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান তখন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ টিপুকে লেলিয়ে দিয়ে ষড়যন্ত্রের জাল বুনেন সভাপতি এড. আবুল কালাম। কারন, আগামী সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে এড. সাখাওয়াত হোসেন খান ধানের শীষ প্রত্যাশী হওয়ায় ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন এড. আবুল কালাম বলে অভিযোগ করেন সাখাওয়াতের অনুসারীরা।

তবে এড. আবুল কালামের দাবী মহানগর বিএনপির সভাপতির পদ দেয়ার পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন যে তাকেই দিবেন সেটা প্রমাণ করে দিয়েছেন খালেদা জিয়া। আর তাই এখন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে ব্যাক্তি বিশেষের লোকেরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here