নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের কোন আসনে জাতীয় পার্টিকে আসন ‘ছাড়’ না দেয়ার দাবীতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় একটি পক্ষ অনড় অবস্থানে থাকলেও আরেকটি পক্ষের রয়েছে দ্বিমত।
ফলে জাপা ইস্যুতে এখন আওয়ামীলীগে মতানৈক্যের সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবী করেছেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দরা।

দলীয় সূত্রে জানাগেছে, জাতীয় পার্টিকে নিয়ে মহাজোট গঠন করায় বিগত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি জাতীয় পাির্টকে ছাড় দেয় আওয়ামীলীগ। তখন বিএনপির প্রার্থী এড. আবুল কালামকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ এ কে এম নাসিম ওসমান।

এরপর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণ না করার ফলে মহাজোট ভেঙ্গে জাতীয় পার্টির সাথে আসন ভাগাভাগি করে নির্বাচন করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ। তখন চাহিদা মোতাবেক নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনটিও জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেয় আওয়ামীলীগ। আর তখন বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে পুনরায় নাসিম ওসমান এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে প্রথমবারের মত জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আলহাজ¦ লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি নির্বাচিত হন।

কিন্তু ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল নাসিম ওসমান মারা গেলে তার শূণ্য আসনের উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের পদত্যাগকৃত সাবেক আহ্বায়ক এস এম আকরামকে ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম সেলিম ওসমান। আর উক্ত নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করলেও শেষতক জাতীয় পার্টিকে এই আসনটি ছাড় দেয়ার কারনে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেন তিনি।

ফলে চলতি বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মহাজোটের বাইরে থাকা জাতীয় পার্টিকে নারায়ণগঞ্জে আর একটি আসনও ছাড় না দেয়ার দাবীতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

অতীতে জাতীয় পার্টিকে দু’টি আসন ছাড় দেয়া হলেও আগামীতে যে সদর-বন্দর আসনটিকে কোন অবস্থাতেই ছাড় দিতে নারাজ তা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে স্পষ্ট করে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল, সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা: সেলিনা হায়াত আইভী, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাহমুদা মালাসহ দলটির শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতাসহ উক্ত আসনের নৌকা প্রত্যাশীরা।

যেই কারনে বরারবরই আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয়রা দাবী করে আসছেন, সদর-বন্দরে জাতীয় পার্টির দ্বারা লাঞ্ছিত-বঞ্চিত আওয়ামীলীগের কর্মীরা। স্কুল-কলেজ, মসজিদ মাদ্রাসা এমনকি ব্যবসায়িক সংগঠন, সর্বক্ষেত্রেই বিরাজ করছে জাতীয় পার্টির আধিপত্য আর ক্ষমতাসীন দল হয়েও আওয়ামীলীগ ছিল অবহেলিত। তাই আগামীতে আর এই আসনে জাতীয় পার্টিকে কোনক্রমেই ছাড় দিবে না আওয়ামীলীগ। আর তৃণমূলের এই দাবী বাস্তবায়নে প্রয়োজনে দলীয় প্রধানের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানিয়েছেন আওয়ামীলীগের একাধিক শীর্ষ নেতা।

কিন্তু একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে আওয়ামীলীগ নারায়ণগঞ্জে কোন আসন ছাড় দিবে কি দিবে না, সেই ব্যাপারে দলীয় নেতৃবন্দকে আগে থেকেই কারো বিরোধীতা না করে বরং দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের অপেক্ষায় থাকার অনুরোধ জানিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যকরী সদস্য আলহাজ¦ এ কে এম শামীম ওসমান।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে গত বছরের ১২ আগষ্ট নগরীতে নিজ উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণকালের সর্ববৃহৎ শোক র‌্যালী উপলক্ষ্যে ৭ আগষ্ট অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাবে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে শামীম ওসমান বলেছিলেন, ‘শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন, থাকবেন। নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে যে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে, কেউ বুঝে সেই বিভেদে পা দিচ্ছেন কেউ না বুঝে। তবে আমরা নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না করে আগে দেখি শেখ হাসিনা কি নির্দেশ দেন। তিনি যদি বলেন সংসদে ৩৮০ টি আসনই হবে নৌকার, তবে সেটাই, যদি বলেন মহাজোট কিংবা মহা-মহাজোট, তাহলে আমাদের সেই পথেই চলতে হবে। তার কথার বাইরে আমরা এক চুলও নড়বো না।’

যার ফলশ্রুতিতে জাপাকে আসন ছাড় না দেয়ার ক্ষেত্রে কোনরূপ মন্তব্য না করে শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন, শামীম ওসমান অনুসারী নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী, মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীগ সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি জুয়েল আহম্মেদ, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শেখ সাফায়েত আলম সানি, মহানগর ছাত্রলীগ আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান রিয়াদসহ ক্ষমতাসীন দলের থানা আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতৃবৃন্দ বলে জানাগেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here