নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের প্রত্যেকটি অঙ্গসংগঠনের দু’টি করে ইউনিট, অর্থাৎ জেলা ও মহানগর কমিটি থাকলেও ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে যুবলীগের ক্ষেত্রে।
জেলা ও মহানগরের ব্যানারে নেতৃত্বে থাকা নেতাদের একইদিনে দুই বার পৃথক ভাবে কর্মসূচী পালনের দৃশ্য দেখে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মন্তব্য করেন, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের একটি করে অঙ্গসংগঠন থাকলেও জেলা ও শহর কমিটির নেতৃত্বে এবার ‘ডাবল যুবলীগের’ আবির্ভাব ঘটেছে!

যার একটির নেতৃত্বে রয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান অনুগামী নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল এবং শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু।

আর অপরটির নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী অনুগামী নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির এবং শহর যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আলী আহাম্মদ রেজা উজ্জল বলে অভিমত তৃণমূলের।

যেই কারনে, একটি সংগঠনের জেলা ও মহানগর দু’টি আলাদা ইউনিট হলেও শনিবার (১১ নভেম্বর) সকালে আব্দুল কাদির এবং উজ্জলের নেতৃত্বে জেলা ও মহানগর যুবলীগের ব্যানারে আর বিকেলে বাদল উপস্থিত থাকলেও শামীম ওসমানের শ্যালক হাজী এহসানুল হক নিপু এবং সাজনুর নেতৃত্বে আবারো জেলা ও মহানগর যুবলীগের ব্যানারে দলের ৪৫ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে র‌্যালী করেছে নেতাকর্মীরা।

সকালে কাদির-উজ্জলের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী। আর বিকেলে বাদল-সাজনুর র‌্যালীর উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমান।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও শহর যুবলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই দীর্ঘদিন যাবত। সম্মেলনের পর বর্তমান জেলা কমিটির মেয়াদ পার করেছে প্রায় ১০ বছর। আর নারায়ণগঞ্জ এখন মহানগর হলেও শহর কমিটি হিসেবেই চলছে সাংগঠনিক কার্যক্রম।

বিগত ২০০৬ সালের অক্টোবরে বিএনপির নেতৃত্বে চার দলীয় জোট সরকার আমলে জেলা যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা যুবলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন আব্দুল কাদির ও সাধারন সম্পাদক হন অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল। তখন সভাপতির পদে প্রতিদ্বন্দীতা করেন সিনিয়র সহ-সভাপতি জাকিরুল আলম হেলাল।

এরপর বিগত ৪ দলীয় জোট সরকার আমলে শীর্ষপদে থাকা যুবলীগের নেতৃবৃন্দরা দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখলেও পরবর্তীতে যুবলীগের নেতৃত্ব বিভক্ত হয়ে যায়। জেলা ও শহর যুবলীগ কমিটির নেতৃত্বে থাকা নেতাদের মাঝে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ার কারনে বিভক্তি ক্রমশই স্পষ্ট হয়ে উঠে তৃণমূলে।

জেলা যুবলীগ সভাপতি দক্ষিন মেরুর সিটি মেয়র আইভীর ভগ্নিপতি আর সাধারন সম্পাদক উত্তর মেরুর সাংসদ শামীম ওসমানের বন্ধু হওয়ায় কমিটি গঠনের পর থেকেই দুই মেরুর দুই জনের নেতৃত্বের কারনে সূচনালগ্ন থেকেই জেলা কমিটি বিভক্ত হয়ে যায়।

যার প্রভাব শহর কমিটির উপরে গিয়েও বর্তায়। শহর কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু শামীম ওসমানের অনুসারী আর সাধারন সম্পাদক আলী আহাম্মদ রেজা উজ্জল আইভীর ভাই হওয়ায় এরাও কোনদিন একসাথে কোন কর্মসূচী পালন করেনি।
অর্থাৎ নারায়ণগঞ্জে যুবলীগ মানেই নেতৃত্বে বাদল-সাজনু অথবা কাদির-উজ্জল, এমনটাই প্রতীয়মান হয় বলে মন্তব্য করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here