নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনে বাড়ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ ও বিরোধীদল বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীর সংখ্যা। তন্মধ্যে ৩টি আসনে ইতিমধ্যেই জাতীয় পার্টির প্রার্থীর নাম খোদ দলীয় চেয়ারম্যান ঘোষণা দেয়ায়, দলটির প্রার্থীও চূড়ান্ত হয়ে গেছে বলে জানান, শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।
তবে সম্ভাব্য প্রার্থী বাড়তে থাকায় আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে বেশ বেগ পোহাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এদিকে, একাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের কয়েকটি তালিকা প্রস্তুত করেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড। এছাড়া গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতেও একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে আওয়ামীলীগ। কিন্তু সেই তালিকার মধ্যে থাকা ব্যাক্তিদের ছাড়াও এখন নতুন করে প্রধান দু’টি দলে প্রতিনিয়তই বাড়ছে সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সংখ্যা।

তবে আগামী নির্বাচনেও যদি আওয়ামীলীগ জাতীয় পার্টির সাথে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে তাহলে সেক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রস্তুতিসহ এমপি হওয়ার স্বপ্নও ভেস্তে যাবে বলে শংকা প্রকাশ করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কারন, আওয়ামীলীগ ও জাতীয়পার্টি জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করলে সেক্ষেত্রে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মত একাদশ নির্বাচনেও কমপক্ষে দু’টি আসন জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে হবে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন আওয়ামীলীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা। যদিও আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের কোন আসনই জাতীয়পার্টিকে ছাড় না দিতে এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছেন বলে জানান, দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা। কিন্তু শেষতক কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের উপরই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে দলীয় নেতাকর্মীদের বলে জানান বাজনীতিবিদরা।

যার প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান বলে দিয়েছেন, ‘আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনা যার পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিবেন, তার পক্ষেই আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে। তাই নারায়ণগঞ্জে কাকে কে কোন আসন ছাড় দিবে কি দিবে না সেটা শেখ হাসিনাই নির্ধারন করে দিবেন।’

জানাগেছে, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) ও নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে প্রতিনয়তই আওয়ামীলীগের পাশাপাশি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা বাড়ছে। আর এ দু’টি আসনেই গত নির্বাচনে জাতীয়পার্টিকে ছাড় দিয়েছিল আওয়ামীলীগ।

দলীয় সূত্রে জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ): আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় আছেন বর্তমান এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতিক, আওয়ামীলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম ওরফে আন্ডা রফিক।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী দলীয় চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এড. তৈমুর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ও কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তফিজুর রহমান দিপু ভূঁইয়া।

কিন্তু এই আসনে নেই জাতীয় পার্টির কোন সম্ভাব্য প্রার্থী।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার): আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান এমপি আলহাজ¦ নজরুল ইসলাম বাবু ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিষ্টার ইকবাল পারভেজ।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী, কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বদরুউজ্জামান খসরু, সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর, কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম আজাদ ও শিরিন সুলতানা।

আর জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সম্প্রতি আড়াইহাজার এসে দলীয় চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ আলমগীর সিকদার লোটনের নাম ঘোষণা করেন।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ): উক্ত আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবেও আগামী নির্বাচনে বর্তমান এমপি আলহাজ¦ লিয়াকত হোসেন খোকার নাম ঘোষণা করেছেন হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ। তবে বর্তমান সাংসদ ছাড়াও জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশায় জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মহসী, জাতীয় মহিলা পার্টির সাধারন সম্পাদিকা ও সোনারগাঁ উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অনন্যা হুসাইন মৌসুমী।

আর আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আছেন, সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের উপ-কমিটির সাবেক সহ সম্পাদক এইচ এম মাসুদ দুলাল, বাংলাদেশ স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: আবু জাফর চৌধুরী বীরু ও আনোয়ারুল কবির ভূইয়া।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম মান্নান, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ ইমতিয়াজ বকুল, সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচাক ওয়ালিউর রহমান আপেল।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ): আওয়ামীলীগের প্রার্থী তালিকায় আছেন, বর্তমান এমপি আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমান ও কেন্দ্রীয় শ্রমিকলীগ শ্রম কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ¦ কাউসার আহম্মেদ পলাশ।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি আলহাজ¦ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহ আলম।

কিন্তু এই আসনেও নেই জাতীয় পার্টির কোন সম্ভাব্য প্রার্থী।

নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর ও বন্দর): জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে আগামী নির্বাচনে ইতিমধ্যেই বর্তমান এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম ওসমানের নাম ঘোষণা করেছেন দলীয় চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ।

আর আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আছেন, নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা ও আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি এস এম আকরাম, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ জাতীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. আনিসুর রহমান দিপু, জাতীয় শ্রমিকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ¦ শুক্কুর মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদল, মহানগর আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা আলহাজ¦ আরজু ভূইয়া, জেলা যুবলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির, শহর যুবলীগ সাধারন সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর ছোট ভাই আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জল, মহানগর আওয়ামীরীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত।

তবে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রথমে সাবেক এমপি ও মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের নাম শোনা গেলেও বর্তমানে এই আসনে বিএনপি নেতা আব্দুল মজিদ খন্দকার এবং মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here