নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বহুবছর যাবত ক্ষমতার বাইরে থাকা সরকার বিরোধী আন্দোলনে অনড় নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ফের ‘গৃহবন্দি’ হয়ে পড়ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি কর্মসূচী পালনকালে পুলিশী বাঁধার সম্মুখীন হওয়ায় নতুন করে আর মামলায় না জড়াতে এখন রাজপথের পরিবর্তে কার্যালয়ের ভিতর দলীয় কর্মসূচী পালন করছেন দলীয় নেতৃবৃন্দরা।
ফলে আগামী দিনে সরকার বিরোধী আন্দোলনে গ্রেফতার ভয়ে ঘরে বসে চালাতে হলে তা কতটা ফলপ্রসু হবে, সেই নিয়ে সন্দিহান প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।

জানাগেছে, মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) বিপ্লব ও সংহতি দিবস থাকলেও পুলিশী ঝামেলা এড়াতে ঘরের ভিতরেই দিবসটি উদযাপন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি। জেলা বিএনপি করে সিদ্ধিরগঞ্জস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে, আর মহানগর বিএনপি আলোচনা সভা করে শহরের কালীরবাজারস্থ অস্থায়ী দলীয় কার্যালয়ের ভেতর। ফলে জায়গা স্বল্পতার কারনে শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ব্যাতীত তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চাইলেও আলোচনা সভায় যোগ দিতে পারেন নি বলে জানান একাধিক নেতাকর্মী।

আর একই দিবস উদযাপনে প্রথমবারের মত নিজ কার্যালয়ে ১৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজনে আলোচনা সভা করে মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। কেননা, মাস খানেক পূর্বে দলীয় কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে নাশকতার মামলার আসামী হয়ে গিয়েছিলেন তিনি, আর গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেন মহানগর স্বেচ্ছা সেবকদলের নেতাকর্মীরা।

এরআগে, গত ২ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলার প্রতিবাদে আহূত বিক্ষোভ কর্মসূচী যথাস্থানে পালন করতে পারেনি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি। পুলিশের ভয়ে পূর্বনির্ধারিত স্থান ত্যাগ করে কর্মসূচী পালন করতে হয়েছে তাদের অন্যত্র গিয়ে।

দুপুর ৩ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মহানগর বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচী পালনের নির্ধারিত স্থান থাকলেও পুলিশের চাপে গ্রেফতার এড়াতে সেই কর্মসূচী বন্দর গিয়ে পালন করতে হয়েছে নেতৃবৃন্দদের।

আর বিকেল ৪ টায় শহরের চাষাড়াস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচী পালনের স্থান থাকলেও সেখানে আগে থেকেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ দেখে ঝামেলা এড়াতে নেতৃবৃন্দরা চাষাড়া বালুর মাঠ সড়কের গলিতে তিতাস গ্যাস কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করে।

তাছাড়াও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে পুলিশের ধাওয়া দেখে দ্রুত মোটর সাইকেলে পালিয়ে যান জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ও সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ।

এরপর বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে সম্প্রতি আহূত বিক্ষোভ কর্মসূচী পালনের ঘোষণা দিয়েও কেন্দ্রের অজুহাত দেখিয়ে সমাবেশ স্থগিত করে বিতর্কের জন্ম দেয় জেলা বিএনপি।

আর একই কর্মসূচী পালনে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এসে বিক্ষোভ করতে চাইলেও মহানগর বিএনপির নেতৃবন্দদের দাঁড়াতেই দেয়নি পুলিশ। ফলে বাধ্য হয়ে নেতাকর্মীরা মহানগর বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে গিয়ে কর্মসূচী পালন করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here