নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুনরায় আওয়ামীলীগ সরকারকে ক্ষমতায় আনার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি আসনের পাড়া মহল্লায় গণসংযোগসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘নৌকার’ পক্ষে ভোট চাইতে শুরু করে দিয়েছেন ক্ষমতাসীন সম্ভাব্য প্রার্থীসহ আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা।
আর বহু বছর যাবত ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপিতে চলছে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা দেয়ার প্রতিযোগিতা। যা নিয়ে এখন নতুন করে কোন্দলে জড়িয়ে পড়ছেন দলটির শীর্ষ স্থানীয় এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতৃবৃন্দরা।

জানাগেছে, রাজনৈতিক ভাবে মতবিরোধ থাকলেও নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি আসনেই আগামী নির্বাচনে ‘নৌকার’ প্রার্থী দিতে এবং ‘নৌকার’ বিজয় নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত উঠান বৈঠক, গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশীসহ শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।

তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ সাধারন জনগণের কাছে তারা একটি দাবীই করছেন, যা হলো- ‘আগামী নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামীলীগ সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে হবে। জনগণকে নৌকায় ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। অন্যথায় বিএনপি ক্ষতায় আসলে এই দেশের মানুষসহ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের পালানো ছাড়া উপায় থাকবেনা।’

তাই আগামীতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সংসদীয় ৫টি আসনেই দলীয় প্রার্থী দিতে এবং ‘নৌকা’ প্রতীকে ভোট দিতে জনগণের দ্বারে দ্বারে ছুটে যাচ্ছেন সম্ভাব্য এমপি প্রত্যাশীসহ আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা।

আর গত ৩০ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠানে এসে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের ঢাকা বিভাগীয় যুগ্ম সম্পাদক ডা: দিপু মনি এমপি স্থানীয় নেতৃবৃন্দের দাবীর প্রেক্ষিতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘নৌকার’ বিজয় নিশ্চিত করার আহবান জানিয়ে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই আগামীতে দলীয় প্রার্থী দেয়ার আশ^াস দেয়ার পর থেকে ‘নৌকায়’ ভোট চেয়ে মাঠ চষে বেড়াতে শুরু করে দিয়েছেন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ গাজী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতিক, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদল, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সিটি মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ জাতীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. আনিসুর রহমান দিপু, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহাসহ আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানেই করছেন নৌকার জন্য ভোট প্রার্থণা।

অপরদিকে, সরকার বিরোধী আন্দোলন, ধানের শীষে ভোট প্রার্থণা আর ঐক্যের পরিবর্তে একের পর এক প্রার্থী ঘোষণা হওয়ায় নির্বাচনের আগে এখন নতুন করে কোন্দলে জড়িয়ে পড়ছেন বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীসহ শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।

সাম্প্রতিক সময়ে দেখাগেছে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে প্রার্থী হিসেবে নিজের নাম ঘোষণার পর থেকেই মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন একই আসনের সাবেক এমপি ও সম্ভাব্য প্রার্থী মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালামসহ মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু।

প্রার্থী ঘোষণা দেয়া নাকি বেয়াদবি বলে মন্তব্য করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম। আর দলীয় মনোনয়ন কি আলু পটল যে চাইলেই পাওয়া যাবে, বলে মন্তব্য করেন সাংগঠনিক সম্পাদক এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু।

এছাড়া, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার ও জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ধানের শীষ প্রত্যাশায় মাঠে সক্রিয় থাকলেও নিজের মুখে না বলে গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রার্থীতার জানান দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা দিপু ভূইয়া।

তাছাড়া, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে এখন আড়াইহাজার মুখী হয়ে রাজপথে থাকার চেষ্টা করছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির আরেক নেতা নজরুল ইসলাম আজাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here