নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: রাত পোহালেই শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে মুসলমান সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা। আর কোরবানীর ঈদকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের পাড়া মহল্লায় সক্রিয় হচ্ছে মৌসুমী চামড়া সন্ত্রাসীরা।
বছরের একটি দিন চামড়া ব্যবসা করে মুনাফা লাভের আশায় এখন এই সকল চামড়া সন্ত্রাসীরা ইতিমধ্যেই গড়ে তুলেছে সিন্ডিকেট চক্র। যাদের দায়িত্ব থাকবে ঈদের দিন কোরবানীর পরপরই কোরবানীদাতাদের ভীতি প্রদর্শন পূর্বক কম মূল্যে পশুর চামড়া সংগ্রহ করা।

বিগত সময়ে দেখাগেছে, ঈদের দিন পশু কোরবানীর পর পশুর চামড়া নিয়ে প্রতিবছরই নারায়ণগঞ্জে নানা ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে থাকে। পাড়া মহল্লা থেকে চামড়া সংগ্রহ কালে ঘটে সংঘর্ষ, মারামারির মত ঘটনা। যার পুনরাবৃত্তি এবারও ঘটার শংক প্রকাশ করেছেন ঈদে পশু কোরবানী দাতারা।

কোরবানীর ঈদকে ঘিরে বিশেষ করে শহরে এবং ফতুল্লায় চামড়া সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতা বেড়ে যায়। তাই পশুর চামড়া নিয়ে যাতে সিন্ডিকেট গড়ে উঠতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং চামড়া নিয়ে যেন কেউ সন্ত্রাসী মূলক কর্মকান্ড বা ছিনতাই করতে না পারে সেজন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে তৎপর রয়েছে বলে জানান, সংশ্লিষ্ট থানা গুলোর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

এব্যপারে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর শাহীন শাহ পারভেজ নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, ‘ঈদের দিন কোরবানীর চামড়া নিয়ে যেন কোথাও টানাহেঁচড়া কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেই লক্ষ্যে শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের একাধিক টিম দায়িত্বে থাকবে। যদি কেউ চামড়া নিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে চায় তাহলে তাদের কঠোর হাতে প্রতিহত করা হবে।’

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: কামাল উদ্দিন বলেন, ‘পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে ফতুল্লাবাসীর শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সেই সাথে কোন মৌসুমী চামড়া সন্ত্রাসীরা এলাকায় যেন প্রভাব বিস্তার না করতে পারে সে দিকে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনী। মূলত সরকার নির্ধারিত মূল্যে সাধারন মানুষ চামড়া বিক্রি করতে পারবেন। জোড়পূর্বক চামড়া ছিনিয়ে নেয়া কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে চামড়া সন্ত্রাসীরা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি আরো জানান, ‘চামড়া সন্ত্রাস প্রতিরোধ এবং ফতুল্লাবাসীর সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে ঈদের দিন ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ১২টি টিম মাঠে কাজ করবে। যেখানে অনিয়ম কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ঘটনা ঘটবে তাৎক্ষনিক ভাবে সেখানেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। মূলত চামড়া সন্ত্রাসীরা যতই প্রভাবশালী হউক না কেন সাধারন মানুষের নিরাপত্তাসহ আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে হার্ডলাইনে রয়েছে পুলিশ।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here