নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: জেলার সর্বত্র জাল টাকার একটি চক্র আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ঈদের বাজারকে টার্গেট করে জাল টাকার এ কারবারিরা নতুন করে নেমে পড়েছে।
ঈদসহ যেকোন উৎসবে সাধারণ মানুষের নতুন টাকার প্রতি আগ্রহ বেশি থাকে। চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংক থেকে নতুন টাকা না পাওয়ায় জাল টাকার কারবারিরা এ সুযোগকে কাজে লাগায়। ফলে প্রতারণার শিকার হচ্ছে সাধারণ জনগণ, বিশেষ করে ব্যস্ত দোকানদার আর কোরবানির হাটের বেপারীরা।

জানা যায়, জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের প্রভাবশালীরা জাল টাকা ব্যবসার মূলহোতা। বিভিন্ন কৌশলে জালনোট চক্রটি সাধারণ জনগণহ তাদের সদস্যদের মাধ্যমে হাটবাজার, পাইকারি দোকান ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। এদিকে জাল চক্রের সঙ্গে বিভিন্ন সুন্দরী রমণীরাও জড়িত বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা শহরের বিভিন্ন মার্কেটের ও বাজারে দোকানের মালিক ও কর্মচারীরা।

যে দোকানে ভিড় সে দোকানেই হানা দেয় জালনোট চক্রের সদস্যরা। দশ থেকে পনেরো হাজার টাকার মালামাল ক্রয় করে অর্ধেক আসল আর বাকিটা জাল টাকা দিয়ে মালামাল ক্রয় করে সটকে পড়ে তারা।

জাল সিন্ডিকেটের প্রায় অর্ধশতাধিক সদস্য নিয়ে বিভিন্ন কায়দায় তারা জাল টাকাগুলো ছড়িয়ে এর বিনিময়ে কাপড়, কসমেটিক, জুতা, স্বর্ণালঙ্কার, খাদ্যসামগ্রী ক্রয় করে বিক্রেতার হাতে জাল নোট ধরিয়ে দিচ্ছে।

আর জেলার বিভিন্ন হাটে জাল টাকা সনাক্তকরণের লক্ষ্যে মেশিন বসানো হলেও সুযোগ বুঝে বেপারীদের জাল টাকা গছিয়ে দিতে সক্রিয় রয়েছেন একাধিক জাল নোট চক্র।

জানাগেছে, জালনোট বিক্রেতার চক্রটি এবং এর সদস্যরা দিনের বেলা থেকে রাতের বেলায় সক্রিয় থাকে বেশি। রাতের অন্ধকারে ও বৈদ্যুতিক বাতির কারণে অনেক সময় জালনোটের নিরাপত্তা সুতা, বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো ও জলছাপ বোঝা যায় না। তাই কোনটি নকল আর কোনটি আসল না বুঝেই ব্যবসায়ীরা জাল টাকা রাখছেন। জাল টাকাগুলো এমনভাবে ছাপানো যে অনেক সময় আসল টাকাকেই জাল মনে হয়।

তবে ঈদকে ঘিরে জাল নোট কারবারিদের বিস্তার রোধে তৎপর রয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।

এব্যাপারে র‌্যাব-১১’র মিডিয়া উইং ও আইন শাখার প্রধান সিনিয়র এএসপি শাহ মো: মশিউর রহমান নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, ‘ঈদকে ঘিরেই জাল টাকা চক্র সক্রিয় হয়ে উঠে। কিন্তু তাদের অপতৎপরতা রোধে র‌্যাব মাঠে সক্রিয় আছে। বিভিন্ন কোরবানীর হাটে জাল নোট সনাক্তে মেশিন বসানো হয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো: ফরুক হোসেন জানান, ‘সম্প্রতি ডিএমপিতে জাল নোট চক্রের একাধিক সদস্য গ্রেফতার হয়েছে। তাই চক্রটি রাজধানীর পাশ^বর্তী হওয়ায় নারায়ণগঞ্জে টার্ন করতে পারে। তবে আমরা এব্যাপারে তৎপর আছি। জাল নোট চক্রকে প্রতিহতে ডিবির একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here