নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বিএনপি’র নেতৃত্বাধীণ ২০ দলীয় জোটের সাথে বৈঠকের পর জোটবদ্ধভাবে বিএনপি চেয়ারপার্সণ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও নারায়ণগঞ্জে খোদ বিএনপি নেতারাই ২০ দলের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র একাধীক নেতা এই সন্দেহ প্রকাশ করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার দাবী করে বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার ৭ থানায় ২০ দলীয় জোটের অস্তিত্ব আমি খুঁজে পাইনি। আর আরেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জল হোসাইন বলেন, নারায়ণগঞ্জে ২০ দলীয় জোট নামে আছে, কামে নাই। দলীয় চেয়ারপার্সণের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট দূর্নিতি মামলার সাজার রায় ঘোষনার দিন নির্ধারণের পর থেকে পুলিশের হামলা মামলার শিকার হয়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। এ সময় জোটের শরীকদের তারা পাশে পাননি। আর তাই জোটের প্রতি তাদের এই ক্ষোভ বলে জানা গেছে।

সূত্রে প্রকাশ, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও ২০ দলীয় জোটের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাভোগ করলেও তার মুক্তির দাবীতে চলমান কর্মসূচী পালনে দুর্দিনে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির পাশে আদৌ দেখা মিলেনি শরিক জোটের নেতৃবৃন্দদের। এমনকি ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের সাধারন সম্পাদক কমরেড সাঈদ আহমেদ নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা হলেও তাকেও গত কয়েকদিনে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কোন কর্মসূচিতে শরিক হতে দেখা যায়নি।

বিগত সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচীতে বিএনপির পাশে বিশেষ করে ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীকে দেখা গেলেও বর্তমানে যুদ্ধাপরাধের দায়ে নিববন্ধন বাতিল হওয়া সেই দলের নেতৃবৃন্দদেরও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সাথে কোন কর্মসূচীতে শরিক হতে দেখা যায়নি।

তবে বছর খানেক পূর্বে জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ একাধিক শীর্ষ নেতাকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলার কারনে জামায়াতে ইসলামী হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচী দিলেও নারায়ণগঞ্জে তাদের সাথে মুখে একাত্মতা পোষণ করলেও তখন বিএনপির নেতৃবৃন্দদেরও মাঠে নামতে দেখা যায়নি।

তাই এখন বিএনপির নেত্রীর দুর্দিনেও কেন্দ্রীয় ভাবে ২০ দলীয় জোট বিএনপির পাশে থাকলেও নারায়ণগঞ্জে বিএনপির পাশে সেই জোটের নেতৃবৃন্দদের কাউকে দেখা যায়নি। গত ৮ ফেব্রুয়ারী দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশ, প্রতিবাদ সভা, অনশন, গণস্বাক্ষর কর্মসূচি ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে। যেগুলোর কোনটিতেই শরিক ২০ দলীয় নেতাদেরই পাশে পায়নি নারায়ণগঞ্জ বিএনপি।

আর দলের দুর্দিনে শরিকদের এমন নীরবতায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির নেতারা বলছেন, ভোটের সময় আসন ভাগাভাগি নিয়ে দর কষাকষিতে পটু জোটের অন্য দলগুলো। জোটের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকলেও শরিকদের রাজপথে অনুপস্থিতি প্রমাণ করে দু:সময়ের মিত্র তারা নয়।

মাঠে থাকা নেতারা জানান, জামায়াতকে নিয়ে বিতর্ক থাকলেও অন্য শরিকদেরও দেখা নেই। তাদের এই নিস্ক্রিয়তায় আন্দোলন হোঁচট না খেলেও জোটবদ্ধ ভোটের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে।

তাই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সাধারণ মানুষও এখন ঐক্যবদ্ধ দাবী করে জোটনেত্রীর মুক্তির আন্দোলনে মিত্র দলগুলোকেও রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা।

উল্লেখ্য, রাজনীতির মাঠে ২০ দলীয় জোটের প্রধান হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। আর অন্যান্য শরিক দল গুলো হচ্ছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ঐক্যজোট, জাতীয় পার্টি(কা.জা), লিবারেল ডেমেক্রেটিক পার্টি(এলডিপি), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি(বিজেপি), খেলাফত মজলিশ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি(জাগপা), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি(এনপিপি), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি(এনডিপি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, মুসলিম লীগ, ইসলামিক পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি(বাংলাদেশ ন্যাপ), পিপলস লীগ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ডেমোক্রেটিক লীগ(ডিএল), ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি(ন্যাপ ভাসানী) ও বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল(এমএল)।

প্রসঙ্গত, বিএনপি চেয়ারপার্সণ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০ দলীয় জোট। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জোটের আসন ভাগাভাগির বিষয়টিও খালেদা জিয়ার মুক্তির পর সুরাহা করা হবে বলে বিএনপির তরফ থেকে জোটের শরিকদের স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে।

শনিবার (২৪ মার্চ) রাতে গুলশান কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ২০ দলীয় জোটের সাথে বৈঠক করে বিএনপি। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে জোটের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এ দায়িত্ব এতদিন মহাসচিব পালন করে আসছিলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বিশ দলীয় জোটের মূল এজেন্ডা হচ্ছে জোটনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন। এ জন্য জেলা ও বিভাগীয় সদরে সমাবেশ করা হবে জোটগতভাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here