নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগে ঐক্য বিনষ্টের নেপথ্যে কারা, মানবরূপী শকুন, কাউয়া, হাইব্রীড নাকি বিএনপি জামাত- এনিয়ে দ্বিধাদ্বন্দে ভুগছেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।
কারন, সম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সভা সমাবেশে স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদল, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহাসহ হেভীওয়েট নেতৃবৃন্দরা।

তারা কখনো দাবী করছেন, বিএনপি জামায়াতের লোক ছদ্মবেশে আওয়ামীলীগে ঢুকে এখন ঐক্য বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। দলের মধ্যে থাকা ছদ্মবেশীরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে আওয়ামীলীগে বিশৃংখলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে।

আবার আওয়ামীলীগে এতদিন ‘কাউয়া’ আর ‘হাইব্রীড’ থাকার দাবী করা হলেও শামীম ওসমান ও আনোয়ার হোসেনের দৃষ্টিতে এখন দলে মানবরূপী ‘শকুনের’ সন্ধান মিলেছে।

যা নিয়ে রীতিমত তৃণমূলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবী, শকুন, কাউয়া, হাইব্রীড, বিএনপি জামাত যেই হউক না কেন, দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টিকারীদের চিহিৃত করে দ্রুত তাদের দল থেকে বহিস্কার করে দলে ঐক্য ফেরাতে হবে। অন্যথায় নেতৃবৃন্দরা যতই নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান না কেন, ঐক্য আর গড়ে উঠবে না।

জানাগেছে, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে নগরীতে ১২ আগষ্ট অনুষ্ঠিত স্মরণকালের সর্ববৃহৎ শোক র‌্যালী পূর্বক সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান দাবী করে বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনাকে দূর্বল করতে মহাষড়যন্ত্র চলছে। আমি মরে গেরেও সমস্যা নাই। কিন্তু শেখ হাসিনা মরে গেলে দেশটা নরকে পরিণত হবে। আজকে দেশে যে রাজাকারদের বিচার হচ্ছে, তারা এর প্রতিশোধ নিতে মুখিয়ে আছে। সুযোগ পেলেই তারা আমাদের মরণ কামড় দিবে। কিন্তু আওয়ামীলীগের সকল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোন ভাবেই ওই শকুনীদের সুযোগ দেয়া যাবে না।’

শামীম ওসমান দাবী করেন, মরণ কামড় দিতে ‘শকুনরা’ আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গত ১১ আগষ্ট বন্দর গকুল দাশেরবাগ চৌরাস্তায় আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন দাবী করেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের অত্যন্ত পরিশ্রমের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীগকে নিয়ে কঠিন ষড়যন্ত্র হচ্ছে। দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করার জন্য ছদ্দবেশে ‘শকুন’ প্রবেশ করেছে। ছদ্দবেশে আমাদের দলে ঢুকে পড়েছে। অতি সাবধানে আমাদের এগোতে হবে।’

অথচ, এরআগে আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা বিভিন্ন সভা সমাবেশে দাবী করতেন আওয়ামীলীগে ‘কাউয়া’, ‘হাইব্রীড’ জাতীয় লোকের অনুপ্রবেশ ঘটে দলের মধ্যে বিভাজনের সৃষ্টি করছে। এছাড়াও বিএনপি জামাতের লোকেরাও ছদ্মবেশে আওয়ামীলীগে প্রবেশ করে বিভাজনের সৃষ্টি করছে। আর এই সকল ছদ্মবেশীদের খুঁজে দল থেকে বিতারিত করে আওয়ামীলীগে ঐক্য ফেরাতে হবে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here