নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থেকে সরকারী দলের হামলা মামলায় জর্জরিত হয়ে ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পরছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। দলীয় কর্মসূচিগুলোতে এখন আর জেলা বা মহানগরের শীর্ষ নেতাদের দেখা মিলে না। ব্যতিক্রম কেবল নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি কর্মসূচিতেই তিনি তার নেতাকর্মীদের নিয়ে সরকার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথ প্রকম্পিত করে আসছেন। আর এভাবেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র ট্রেড মার্কে পরিনত হয়েছেন এড. সাখাওয়াত হোসেন খান।

সূত্রে প্রকাশ, গত বছরের ফেব্রুয়ারীতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি’র নতুন কমিটি ঘোষনা করা হয়। নতুন কমিটিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সভাপতি করা হয় কাজী মনিরুজ্জামানকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে। আর মহানগর বিএনপি’র সভাপতি সেক্রেটারী হন যথাক্রমে এড. আবুল কালাম ও এটিএম কামাল। দুটি কমিটিরই সভাপতিদ্বয় রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলায় শুরু থেকেই মুখ থুবরে পরে তাদের কার্যক্রম। দুই সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ও এটিএম কামালও তাদের সংগ্রামী চরিত্র হারিয়ে ফেলেন সভাপতিদের সংস্পর্শে। ফলে নারায়ণগঞ্জে সরকার বিরোধী আন্দোলন দানা বাঁধতে পারেনি।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালাম নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দলীয় মনোনয়নের লোভে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে সাহসী ভূমিকা রাখা নেতাকর্মীদের নিজের মতো গৃহবন্দি করার কুট কৌশল অবলম্বন করেন। কিন্তু কালামের এই অপচেষ্টা বুঝতে পেরে নিজেই মহানগর বিএনপি’র উদ্যোগে তৃণমূলকে সংগঠিত করতে থাকেন সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। আর তখনই সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে অপ প্রচার করে তৃণমূল থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র শুরু করেন আবুল কালাম। এমনকি কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছেও সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে নালিশ করেন। কিন্তু তাতেও দমাতে পারেননি তাকে। কখনো মহানগর বিএনপি আবার কখনো অঙ্গ সংগঠনের ব্যানারে আন্দোলন সংগ্রাম অব্যহত রেখেছেন এই জিয়ার সৈনিক। দলীয় চেয়ারপার্সণের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলার রায় ঘোষনার আগে খালেদা জিয়ার সিলেট যাত্রায় নারায়ণগঞ্জে কোন নেতাকর্মী স্বাগত জানাতে সাহস না করলেও সংগ্রামী সাখাওয়াত ঘরে বসে থাকেননি। কয়েকজন বিএনপি পন্থী আইনজীবীকে নিয়ে সাইনবোর্ড এলাকায় দলীয় চেয়ারপার্সণকে স্বাগত জানান মিছিল করে।

আর সেখান থেকেই পুলিশের হাতে আটক হন সাখাওয়াতসহ তিন আইনজীবী নেতা। ১১দিন কারাভোগ করে জামিনে বের হয়ে এসেও তার সংগ্রামী রূপ অব্যহত রাখেন সাখাওয়াত। দলীয় চেয়ারপার্সণ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে বিক্ষোভ মিছিলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি যখন জেলা ও মহানগর বিএনপি চাষাঢ়া বালুর মাঠে দাড়িয়ে ফটোসেশন করে পালন করে, তখন সাখাওয়াত ঠিকই নেতাকর্মীদের নিয়ে হামলা মামলা উপেক্ষা করে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল করেন। আর এ জন্য নিজ দলের গৃহবন্দি নেতাদের রোষানলেও পরতে হয়েছে তাকে।

নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়ায় নেত্রীর মুক্তির দাবীতে লিফলেট বিতরণকালে পুলিশী হয়রানীর শিকার হন সাখাওয়াত। সাখাওয়াতকে খুঁজতে সেদিন কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে পুলিশ বার ভবনের ভিতরেও তল্লাশী চালায়। কিন্তু সাখাওয়াত তার ভূমিকায় অটল, কোন ভয় ডর কিংবা কারো চোখ রাঙানীতে আন্দোলন সংগ্রাম থেকে পিছ পা হননি তিনি। নারয়ণগঞ্জ বিএনপি’র শীর্ষ নেতারা যখন নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টায় ব্যস্ত, তখন সাখাওয়াত হোসেন খান নেতাকর্মীদের নিয়ে দলীয় চেয়ারপার্সণের মুক্তির দাবীতে আন্দোলন সংগ্রাম অব্যহত রেখেছেন। আর তাই নেতাকর্মীদের কাছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র ট্রেড মার্কে পরিনত হয়েছেন এড. সাখাওয়াত হোসেন খান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here