নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র সাইনবোর্ডে রাজনীতি করা আওয়ামীলীগের ঘনিষ্ট নেতা এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ^াস, আতাউর রহমান মুকুল, মনিরুল আলম সেন্টু ও শওকত হাশেম শকু বিএনপি না আওয়ামীলীগের জন্য বেশী ক্ষতিকর-সে প্রশ্ন এখন নারায়ণগঞ্জের সর্বত্র।
বিএনপি’র রাজনীতিতে নাম থাকলেও সরকারী দলের দুই সাংসদের সাথে এদের ঘনিষ্ট সম্পর্কের কারনে বিএনপিতে এরা এখন ‘হাইব্রীড’ বলে দাবী করছেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এদের কারনে সাংসদ সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমানকে বেকায়দায় পরতে হতে পারে বলে মনে করছে একটি মহল। অপরদিকে সরকারী দলের দালালী করায় এদের কারনে আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে বিএনপি’র ভরাডুবির সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। তাই সকলের কাছে এখন প্রশ্ন, এরা কার জন্য বেশী ক্ষতিকর!

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ^াস ও ফতুল্লা থানা বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি মনিরুল আলম সেন্টু বিএনপি’র আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে থাকেন না। এ নিয়ে দলের মধ্যে তাদের বদনাম দীর্ঘদিনের। বিএনপি’র রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের সাথে বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়মিত দেখতে পাওয়া যায় তাদেরকে। এমনকি আওয়ামীলীগের দলীয় কর্মসূচিতেও একই মঞ্চে উঠেন আজাদ বিশ^াস ও সেন্টু। যার ফলে বিএনপিতে এরা দালাল নামে অভিহিত হন। এ কারনে জেলা বিএনপি’র কর্মীসভায় লাঞ্ছিত হন আজাদ বিশ^াস। আর দল থেকে একবার বহিস্কার করা হয় মনিরুল আলম সেন্টুকে।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সহ সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল ও সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত হাশেম শকু বিএনপি’র রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে তাদের দেখা মিলেনা। সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা যখন মামলা হামলায় দিশেহারা, তখন এ দুই নেতা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমানের গাড়ি বহরে ঘুরে বেড়ায়। আওয়ামীলেিগর দলীয় প্রতীক নৌকা হাতে মুকুলের হাসি মুখের ছবি কিংবা সাংসদ সেলিম ওসমানের পক্ষে কাজ করার ঘোষনা দেয়া বক্তব্যেও কারনে বারবার বিতর্কিত হয়েছেন মুকুল। আর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১২ নং ওয়ার্ডে সাংসদ সেলিম ওসমান শওকত হাশেম শকুর জন্য ভোট প্রার্থনা করেন। সেলিম ওসমানের যে কোন অনুষ্ঠানে শকুর উপস্থিতি এখন নিয়মিত হয়ে দাড়িয়েছে।

এই চার নেতার এই দ্বিমুখি আচরণে দ্বিধান্বিত হয়ে পরেছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। এরা প্রকৃতপক্ষে কোন দলের লোক আর কোন দলের জন্য কাজ করেন সেটাই এখন সবচেয়ে বড় রহস্যের বিষয়। তাছাড়া তাদের এই বহুরূপী আচরনের কারনে কার বিপদ বেশী সে প্রশ্ন আসছে ঘুরে ফিরে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here