নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের সমন্বয়ে গঠিত মহাজোট এবং বিএনপিসহ ২৩ দলীয় জোটের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি অংশ নেয়ায় জোটের শরিকদের আসন ছাড় দেয়ার ফলে চাহিদা স্বত্তেও দলীয় মনোনয়ন পাননি প্রধান এই রাজনৈতিক দল দু’টির অধিকাংশ সম্ভাব্য প্রার্থী।
যার ফলে নারায়ণগঞ্জ জেলার সংসদীয় ৫টি আসনেই নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবীতে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দরা অনড় অবস্থানের থাকার পরেও জোটগত কারনে জাতীয় পার্টিকে দু’টি আসন ছাড় দেয়ায় শেষতক নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসন থেকে বর্তমান এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ এ কে এম সেলিম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আলহাজ¦ লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি পুনরায় হন মহাজোটের মনোনীত প্রার্থী।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে একটি আসনও ছাড় না দেয়াসহ এই দুই এমপির বিরুদ্ধে মাসখানেক পূর্বেও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দরা অবস্থান করলেও এখন প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে তাঁর মনোনীত মহাজোটের এই দুই প্রার্থীর পক্ষেই লাঙ্গল প্রতীকে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ।

তবে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের মহাজোটের প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকার ডাক না পাওয়ায় তার পক্ষে নির্বাচনের মাঠে নামার ক্ষেত্রে গত ৩ ডিসেম্বর শহরের ২নং রেলগেটস্থ দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় উক্ত আসনে নৌকার মনোনয়ন বঞ্চিত দুই সম্ভাব্য প্রার্থী সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. শামসুল ইসলাম ভূইয়া ও সাধারন সম্পাদক আলহাজ¦ মাহফুজুর রহমান কালাম প্রথমে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও পরবর্তীতে মহাজোটের নৌকা ও লাঙ্গলের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার লক্ষ্যে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচন পরিচালনা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে জেলা আওয়ামীলীগ।

যেখানে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইকে আহ্বায়ক, সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা: সেলিনা হায়াত আইভীকে যুগ্ম সদস্য সচিব ও সাধারন সম্পাদক এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার মনোনয়ন বঞ্চিত সম্ভাব্য প্রার্থী এড. আবু হাসনাত মো: বাদলকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

আর থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকদের কমিটিতে রাখা হয়েছে সদস্য হিসেবে।

এরআগে, মহানগর আওয়ামীলীগও ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মহাজোটের প্রার্থী সেলিম ওসমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনায় নামার সিদ্ধান্ত নেয়।

এরপর ধারাবাহিক ভাবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের ১৮টি ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগ নেতাদের নিয়ে পৃথকভাবে বৈঠক করে সবাইকে মাঠে নামার নির্দেশনা দেন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন ও সাধারন সম্পাদক এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ ও ৩ আসনে নৌকার মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী এড. খোকন সাহা।

পরবর্তীতে গত ১১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় একাদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বন্দরে সিটি কর্পোরেশনের ২১নং ওয়ার্ডের সোনাকান্দা বড় মসজিদ এলাকায় মহানগর আওয়ামীলীগ(১৯-২৭ ওয়ার্ড) এর উদ্যোগে আয়োজিত মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত মহাজোটের প্রার্থী সেলিম ওসমানকে লাঙ্গল প্রতীকে বিজয়ী করে ঘরে ফেরার ঘোষণা দেয় মহানগর আওয়ামীলীগ।

ওই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহামুদা মালা, বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবেদ খান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিব আল মুজাহিদ পলু সহ মহানগর আওয়ামীলীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা। মত বিনিময় সভাটি সঞ্চালনা করেন মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা।

সভায় আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘আমি আওয়ামীলীগ করে বলেই সেলিম ওসমানের লাঙ্গল মার্কায় নির্বাচন করতে নেমেছি। কারন সেলিম ওসমান আমাদের সবার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত মহাজোটের প্রার্থী। আর আমরা শেখ হাসিনার অনুগত এবং নেতৃত্বে বিশ্বাসী। আর সেলিম ওসমান আগামীতে আবারো এমপি হলে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের কর্মীরা মূল্যায়িত হবে বলে আমি আশা করি। তাই আগামী নির্বাচনে সেলিম ওসমানকে লাঙ্গল মার্কায় বিপুল ভোটে বিজয়ী করে তবেই আমরা ঘরে ফিরবো।’

ফলে মহাজোটের প্রার্থীতা নিয়ে প্রথমে মতবিরোধ থাকলেও দলীয় প্রধানের নির্দেশনার পর নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের সাথে জোটগত ঐক্য গড়ায় অবশেষে আওয়ামীলীগই এগিয়ে গেছে বলে দাবী করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কিন্তু এক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে বিএনপি। বছরের পর বছর যাবত রাজপথে সরকার বিরোধী নানা আন্দোলন মামলা হামলার শিকার হয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রচেষ্টায় দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করলেও শেষতক রাজপথের ত্যাগীদের পরিবর্তে নারায়ণগঞ্জ-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলের প্রার্থীদের ধানের শীষের মনোনয়ন দেয় বিএনপি।

যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী ২০ দলীয় জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে জেলা সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাশেমী একেবারেই অপরিচিত।

জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ মনোনয়ন পত্র জমা দিলেও প্রথমে কালাম ও খোরশেদকে ধানের শীষের মনোনয়ন পত্র দেয় বিএনপি।

একই সাথে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে সাবেক এমপি নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরাম ও ২০ দলীয় জোটের শরিক সাম্যবাদী দলের সাধারন সম্পাদক কমরেড সাঈদ আহম্মেদকেও মনোনয়ন পত্র দেয়া হয়।

কিন্তু শেষতক চূড়ান্তভাবে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে এস এম আকরামকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রদান করে বিএনপি।

অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনেও ধানের শীর্ষ প্রত্যাশায় একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করলেও হেভওয়েটদের মধ্যে প্রথমে মনোনয়ন বঞ্চিত হন সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ।

তবে উক্ত আসনে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ও সহ-সভাপতি শাহ আলমকে মনোনয়ন পত্র প্রদান করা হলেও শেষতক ঐক্যফ্রন্টের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান ২০ দলীয় জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে জেলা সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী।

কিন্তু এরপরেও অতীত অভিমান ভুলে আওয়ামীলীগ মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে নেমে পড়লেও এখনো নিজেদের অভিমান ভুলতে না পারায় ঐক্যফ্রন্টের দুই প্রার্থী এস এম আকরাম ও মুফতি মুনির হোসাইন কাসেমীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনায় নামার ব্যাপারে ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারেনি জেলা ও মহানগর বিএনপি।

তবে বিএনপির নেতৃবৃন্দরা ঐক্যফ্রন্টের এই দুই প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামার ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ না নিলেও স্ব উদ্যোগেই মহানগর বিএনপির কালীরবাজারস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে গিয়ে মহানগর বিএনপির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী এড. আবুল কালাম ও সাধারন সম্পাদক এটিএম কামালের সাথে সাক্ষাতে মিলিত হন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী এস এম আকরাম।

অপরদিকে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মুফতি মুনির হোসাইন কাসেমী স্ব উদ্যোগে ইতিমধ্যেই মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামালের বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাত করলেও জেলা বিএনপির একাংশ তার বিপক্ষে রয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here