নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, জাসদ একটি প্রাচীণ সংগঠন। দেশ থেকে রাজাকারদের নিশ্চিহ্ন করতে আওয়ামী লীগ যখন জাসদ কে আওয়ামী লীগের সাথে ঐক্য গড়ার আমন্ত্রন জানিয়েছিল, তখন দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে এবং এদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের স্বার্থে আমার নেতৃত্বে জাসদ মহাজোটে যোগ দিয়েছিল। যদি রাজাকার, খুনী ও সন্ত্রাসীরা খারাপ হয়, তাহলে আমার প্রশ্ন, খালেদা জিয়া এদের মদদ দাতা হয়ে ভালো হয় কীভাবে? খালেদা জিয়ার হাতে ক্ষমতা মানে রাজাকারদের হাতে ক্ষমতা। দেশে রাজাকার দেখতে না চাইলে দেশের স্বার্থে, রাজনীতির স্বার্থে বিএনপি-জামায়েত কে এখনি রাজনীতির বাইরে রাখতে হবে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বুধবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর বাণিজ্যিক এলাকা ডিআইটিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জাসদ কর্তৃক আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাসদ জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত রায়হান।

ইনু বলেন, ‘আমার আঙুল তুলতে হয় জিয়াউর রহমান ও এরশাদের দিকে, কেননা তারাই বাংলার মাটিতে রাজাকারদের আমদানী করেছে। তারাই ফুলের মালা দিয়ে রাজাকারদের খালেদার পাশে বসিয়েছে। সুতরাং এদেশ থেকে চিরতরে রাজাকার নিশ্চিহ্ন করতে বাংলার রাজনীতি থেকে বিএনপি-জামায়াত কে চিরতরে উৎখাত করতে হবে। তাহলে অদূর ভবিষ্যতে এদেশে আর কখনো রাজাকার-জঙ্গীবাদ সৃষ্টি হবে না। বঙ্গবন্ধুর মতো আর কোন নেতাকে দেশদ্রোহীদের হাতে খুন হতে হবে না। দেশ উন্নয়নে হোঁচট খাবে না।’


তিনি আরো বলেন, মাঝে মাঝে আমি নিজেকে নিজে প্রশ্ন করি, এত কষ্ট করে দেশ স্বাধীনের পরেও স্বাধীন বাংলায় আবারো রাজাকার, জঙ্গী, সন্ত্রাস কেন? তখন প্রশ্নের উত্তরে খুঁজে পেয়েছি, যেই শাসকগোষ্ঠী ৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ক্ষমতা জবর-দখল করেছিল, তারাই এদেশে খুনী ও দেশদ্রেহীদের পুনর্বাসন করেছে। এটা এদেশের জন্য বড় একটি দুর্ভাগ্য।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অনেকেই বলেন বিএনপি’র সাথে সমঝোতা করতে। কিন্তু যেই দলটি রাজাকারদের লালন করেন, তাদের পক্ষ নিয়ে কথা বলেন, তাদের সাথে আর যাই হইক, কখনো সমঝোতায় যওয়া সম্ভব নয়। খালেদা জিয়ার সাথে সমঝোতা মানে রাজাকারদের বাঁচিয়ে দেয়া, যোল কোটি মানুষের আদালতের রায়ে ঘোষিত সন্ত্রাসী জিয়া পুত্র তারেক জিয়াকে হালাল বলা। যেহেতু খালেদা জিয়া রাজাকারদের হাত ছাড়েনি, সুতরাং তার সাথে সমঝোতার কোন প্রশ্নই আসে না। প্রয়োজনে দেশের সংবিধান ও রাজনীতির ভবিষ্যত রক্ষার জন্য আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাথেই ঐক্য করে নির্বাচন করবো। খালেদা জিয়া কখনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার, কখনো সহায়ক সরকারের দোহাই দিয়ে নির্বাচন বাঞ্চাল করার পায়তারা করেেছন। তিনি জল ঘোলা করতে চাইছেন। যেমনটা ২০১৪ সালের নির্বাচনেও চেয়েছিলেন। কিন্তু আমরা স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, পরিস্থিতি যাই হউক, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দিষ্ট সময়েই অনুষ্ঠিত হবে। এবং ওই নির্বাচনে দেশের মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে থেকে শেষ হাসিনার সরকারের পক্ষেই রায় দিবে। কোন অবস্থাতেই কাউকে নির্বাচন বাঞ্চাল করতে দেয়া হবে না। কেউ যদি ২০১৪ সালের মতো আগুণ নিয়ে খেলা করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শওকত রায়হান বলেন, মুক্তিযোদ্ধারাই জাসদের জন্ম দিয়েছিল। এদেশ থেকে রাজাকারদের চিরতরে উৎখেত করার লক্ষ্যেই স্বাধীনতার চেতনায় জাসদের যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে এক নেক্কারজনক ঘটনার জন্ম দেন বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। তিনি তার দলে দেশদ্রেহীদের স্থান দিয়ে এদেশের রাজনীতিকে কলুসিত করেছেন। আমরা এর বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছিলাম। কিন্তু বর্তমানে তার সহধর্মীনি বেগম জিয়া রাজাকারদের পক্ষ নিয়েই কথা বলেন। তাই সিদ্ধান্ত আপনাদের হাতে, আগামী নির্বাচনে আপনারা কার পক্ষে থাকবেন, স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি নাকী বিপক্ষের শক্তি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক মোহর আলী চৌধুররী, মহানগর জাসদের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here