নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: অপরাধ, মাথার চুল বড়। আর তাই চুল বড় রাখা সেই শিক্ষার্থীদের শায়েস্তা করতে এবার খোদ শিক্ষকই অবতীর্ণ হলেন নাপিতের ভূমিকায়। দুই শিক্ষার্থীকে নির্মম নির্যাতনের পর নিজহাতে কাঁচি দিয়ে চুল কেটে দেয় এক শিক্ষক।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুলে। শ’ শ’ শিক্ষার্থীর সামনে ক্লাসরুম থেকে ধরে এনে চুল কেটে দেয়ার পর লজ্জায় অপমানে বিমর্ষ হয়ে পড়েছে ৯ম শ্রেণীর ২ শিক্ষার্থী কাশফি ও শান্ত। এ ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ছাত্র-ছাত্রীসহ অভিভাবক মহলেও। ম্যানেজিং কমিটি ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও দেয়া হয়েছে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত মঙ্গলবার ২৭ মার্চ চুল বড় রাখার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলের নবম শ্রেণির কাশফি ও শান্ত নামের দুই শিক্ষার্থীকে শারীরিক শাস্তির পাশাপাশি মাথার চুল কেটে দেন স্কুলটির শিক্ষক বিপুল সরকার। অন্যান্য শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে দুই ছাত্রকে ক্লাসরুমের দরজায় এনে নির্যাতন এবং চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় সকলেই হতবাক। ঘটনার পর বুধবারও স্কুল ছিলো উত্তপ্ত। শারীরিক নির্যাতন ও চুল কেটে দেয়ার পরও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এঘটনাকে মধ্যযুগীয় বর্বরতা হিসেবে অাখ্যা দিয়ে দ্রুত ঐ শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছে অভিভাবকরা

নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী কাশফির বাবা মো. রাসেল জানান, আমরা অনেক আশা নিয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠাই, আমি মনে করতাম, মা-বাবার পরে সন্তানদের নিরাপদ স্থান হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর সেই প্রতিষ্ঠানে এসে যদি এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হয়, তাহলে কী ভাবে ছেলে মেয়েরা পড়া লেখা করবে।

অন্যান্য অভিভাবকরা উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষক বিপুল সরকার মানসিক ভারসাম্যহীন, এধরণের শিক্ষকদের কাছে শিক্ষার্থীরা অনিরাপদ। চোর ধরা পড়লে যেমনটি করা হয় সেভাবে শ শ শিক্ষার্থীর সামনে এভাবে চুল কেটে দিয়েছে শিক্ষক বিপুল সরকার সুস্থ্য হতে পারে না। অভিভাবকরা আরো অভিযোগ করেন, এই ধরনের ঘটনায় অনেক সময় নির্যাতিত ও লাঞ্ছিত শিক্ষার্থীরা লজ্জায় ঘর থেকে বের হতে চায় না। আবার অনেক সময় স্কুলেও আসতে চায় না। অতএব এই শিক্ষকের বহিস্কার চাই।
এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক কমল কান্তি সাহা বলেন, এ ঘটনাটি অত্যন্ত দু:খজনক। আমরা শিক্ষক বিপুল সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তবে এখনো কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বিষয়টিকে স্বাভাবিক ভাবেই নিয়ে ছিলাম।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি চন্দন শীল বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে সত্যি দুঃখজনক। আমি নারায়ণগঞ্জের বাইরে আছি। রবি, সোমবার ফিরবো। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ঠ অভিভাবক লিখিত অভিযোগ দিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা শিক্ষা অফিসার শরিকুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের বাইরে ছিলাম। তাই বিষয়টি আমার জানা নেই। আমরা ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এবিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি মো. রেজাউল বারী বলেন, এধরণের ঘটনা খুবই ভয়াবহ ব্যাপার। বিষয়টি এর আগে কেউ আমাকে জানায়নি। ঘটনার খোঁজ নিয়ে আমি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এবিষয়ে অধিকারের সমন্বয়ক রবিন বিল্লাল বলেন, যেখানে শিক্ষার্থী নির্যাতন রোধে উচ্চ আদালত ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা সম্পূর্ন বেআইনী ও অমানবিক। তাই নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলে এ ধরণের কর্মকা-ের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করছি ‘এবিষয়ে যথাযোগ্য আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

প্রকাশ থাকে যে, এর আগে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে চড়-থাপ্পড় মেরে গালমন্দ করায় শহরের গণবিদ্যা নিকেতনের নবম শ্রেণির ছাত্রী উম্মে হাবিবা আক্তার শ্রাবণী (১৫) আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যার কারণ হিসেবে স্কুল শিক্ষক নাসরিন বেগম ও খ-কালীন শিক্ষক কামরুল হাসান মুন্নার নাম উল্লেখ করে চিরকুট লিখে যায়। অন্যদিকে সর্বশেষ চলতি বছরের ২৭ মার্চ আড়াইহাজার উপজেলায় চোর আখ্যা দিয়ে চুল কেটে নির্যাতন করায় এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here