নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: কথায় আছে, ‘নিজে বাঁচলে নাকি বাপের নাম’! ঠিক যেন তেমনটাই হয়েছে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান ও বিএনপি নেতা খন্দকার ভ্রাতৃদ্বয়ের ক্ষেত্রে।
অর্থাৎ, একই থানার একই মামলায় দুই ভাই ই আসামী হলেও পেশায় আইনজীবী হওয়ার সুবিদার্থে আসামী হওয়ার পরেরদিনই উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়ে ফেলেছেন একজন। আর গ্রেফতার এড়াতে পলাতক রয়েছেন অপরজন।

ভ্রাতৃদ্বয় হলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

যার মধ্যে এড. তৈমূর আলম খন্দকার উচ্চ আদালত থেকে নিজে আগাম জামিন নিয়ে নিলেও ফেরারী হয়ে আছেন তারই অনুজ মাকসুদুল আলম খন্দকার।

আর তাই ছোট ভাইকে ছাড়াই তৈমূর আলম একা জামিন নেয়ায় তা কোনক্রমেই মেনে নিতে পারছেন না খোরশেদের অনুগামীরা। কেউ কেউ মন্তব্য করেন, ‘নিজে বাঁচলে যে বাপের নাম’ তারই প্রমাণ দিয়েছেন তৈমূর আলম খন্দকার। কারন, তৈমূর যদি নিজে বাঁচার চিন্তা না করতেন, তবে তার অনুজ খোরশেদকে সাথে নিয়ে আদালতে একত্রে জামিন প্রার্থণা করতেন। কিন্তু তিনি তা করেন নি। আগে নিজে জামিন নিয়ে পুলিশের গ্রেফতার যন্ত্রণা থেকে বেঁচেছেন।

তবে তৈমূর আলমের ঘনিষ্টজনদের দাবী, বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপার্সনের রায় ঘোষণার সময় তৈমূর আলম খন্দকার নেত্রীর সাথে আদালতে উপস্থিত থাকবেন। তাই ঝামেলা এড়াতে তিনি প্রথমে নিজের জামিন করিয়েছেন। আর কয়েকদিনে মধ্যে ছোট ভাই খোরশেদসহ অনুগামী নেতাকর্মীদের জামিনের ব্যবস্থা করবেন।

উল্লেখ্য, ৮ ফেব্রুয়ারী বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বর্তমান সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে রেলপথ, রাজপথ, নৌপথ অচল সহ মিল কারখানায় উৎপাদন বন্ধ করে দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে গত শনিবার রাতে নগরীর মিশনপাড়া এলাকায় নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠক করার সময় পুলিশ অভিযান চালালে তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এমন অভিযোগে ৪ ফেব্রুয়ারী রাতে সদর মডেল থানায় পরিদর্শক (অপারেশন) জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার ও তার ভাই মহানগর যুবদলের আহবায়ক এবং নাসিক ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ সহ ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১০/১২ জনসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেন।

অপরদিকে, ৬ ফেব্রুয়ারী রাতে ফতুল্লা মডেল থানার এসআই শাফিউল বাদী হয়ে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে প্রধান আসামী করে নাশকতার দায়ে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

তার একদিন পর ৬ ফেব্রুয়ারী উক্ত মামলায় এড. তৈমূর আলম খন্দকার হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন লাভ করেন। আর আসামী হিসেবে পলাতক রয়ে যান মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here