নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বিগত ২০১১ সালে সর্বপ্রথম অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগের সমর্থণে শামীম ওসমান মেয়র প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই তাদের পরিবারের সাথে আইভীর শত্রুতার সম্পর্কের সূত্রপাত ঘটলেও ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর প্রথমবারের মত দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সব ভেদাভেদ ভুলে তখন আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী ছোট বোন ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর পক্ষেই নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী এমপি আলহাজ¦ এ কে এম শামীম ওসমান।

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দসহ শামীম ওসমানকে গণভবনে তলব করে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা নৌকার প্রার্থী আইভীর বিজয় নিশ্চিতে অতীত অভিমান ভুলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে সবাইকে কাজ করার নির্দেশ দেয়ার পরের দিনই নির্বাচনী আচরনবিধি মেনে তখন সিটি এলাকার বাহিরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের জালকুড়িতে অবস্থিত নম পার্কে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ছোট বোন আইভীর পক্ষে নেতাকর্মীদের কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন শামীম ওসমান।

শুধু তাই নয়, ছোট বোন আইভীর রাগ অভিমান ভাঙ্গাতে সেদিন তাঁর জন্য নৌকা প্রতীক সম্বলিত দু’টি শাড়ীও উপহার পাঠিয়েছিলেন তিনি। আর নির্বাচনে ছোট বোন আইভীই মেয়র নির্বাচিত হবে এমনটা প্রত্যাশা করে সেদিন শামীম ওসমান আইভীর কাছে বিজয়ের আইসক্রীম খাওয়ানোর আবদারও করেছিলেন।

এমনকি, নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করেই ভোটের দিন ব্যালট পেপারে নৌকা প্রতীকে প্রকাশ্যে সীল মেরে সমালোচিতও হয়েছিলেন আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী এই নেতা শামীম ওসমান।

তবে নির্বাচিত হওয়ার পরদিনই আইভী তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দী বিএনপির পরাজিত মেয়ার প্রার্থী এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের বাড়ীতে মিষ্টি নিয়ে গেলেও বড় ভাই শামীম ওসমানের আইসক্রীম খাওয়ার আবদার আর পূরণ করেনি।

তন্মধ্যেই চলতি বছরের ১৬ জুন নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে হকার বসাকে কেন্দ্র করে চাষাড়ায় শামীম ওসমান ও আইভী গ্রুপের সাথে সৃষ্ট রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর তাঁরা আবারো নিজেদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দের বহি:প্রকাশ ঘটান।

তারপরেও দল ও উন্নয়ণের স্বার্থে নানা কৌশলে চেষ্টা চালিয়ে আদৌ ছোট বোন আইভীর মান ভাঙ্গাতে পারেন নি মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যকরী সদস্য শামীম ওসমান।

আর তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিটি নির্বাচনের সময় আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে শামীম ওসমান যেমন অভ্যন্তরীণ কোন্দল ভুলে তখন দলীয় মেয়র প্রার্থী ছোট বোন আইভীর জন্য মাঠে নেমে পড়েছিলেন, ঠিক তেমনি এবার পালা এসেছে আইভীর!

অর্থাৎ, আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে কেন্দ্র করে নৌকার বিজয় নিশ্চিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ভুলে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে যেহেতু ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন, সেহেতু অভিমান ভুলে এখন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের নৌকার প্রার্থী শামীম ওসমানের পক্ষে নির্বাচনী আচরন বিধি মেনেই মাঠে নামার ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতার মধ্যে পড়ে গেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা: সেলিনা হায়াত আইভী।
নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মহাজোটের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারনায় নামতে ইতিমধ্যেই জেলা আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটি বৈঠক করে একটি নির্বাচন পরিচালনা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছেন। যেই কমিটিতে সিটি মেয়র আইভীকে যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে রাখা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামীলীগের দু’টি সভা অনুষ্ঠিত হলেও একটিতেও দেখা মিলেনি আইভীসহ তাঁর অধিকাংশ অনুগামী নেতাদের।

তাই শামীম ওসমান অনুসারীসহ তৃণমূলের মাঝে এখন প্রশ্নের উদ্রেগ হয়েছে- “মেয়র আইভী কি এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক দ্বন্দ ভুলে সত্যিই দলীয় স্বার্থে নৌকার প্রার্থী চিরশত্রু শামীম ওসমানের পক্ষে মাঠে নামবেন নাকি স্থানীয় সরকার বিভাগের জনপ্রতিনিধি হওয়ায় নির্বাচনী আচরন বিধির অজুহাত দেখিয়ে আইভী নিজেকে বিরত রাখবেন?”

কেননা, গত ১০ ডিসেম্বর প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার পর থেকেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারনা শুরু হয়ে গেছে। যা চলবে আগামী ২৮ ডিসেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here