নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: অবশেষে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুখে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণের পাশাপাশি নির্বাচনী ভিশন ঘোষণা শোনার পর থেকে এখন পুরোপুরি ভাবে নির্বাচনমূখী হতে শুরু করেছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীসহ দলীয় নেতৃবৃন্দরা।
আর মামলা হামলার শিকারগ্রস্থ হয়ে দীর্ঘদিন পর আগামীতে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে পেরে তৃণমূলে ঘটেছে নব প্রাণের সঞ্চার। যেই কারনে শত বাঁধা বিপত্তি পেরিয়েই গত ১২ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত বিএনপির সমাবেশে স্বত:স্ফূর্ত ভাবে শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে যোগ দেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।

এরপর সমাবেশে বক্তব্যকালে বিএনপি চেয়ারপার্সন যখন আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিতে থাকেন, তখন মুহুর্মুহু শ্লোগানে সমাবেশ স্থলকে কাঁপিয়ে তুলেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

 

আর আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতায় আসতে পারলে খালেদা জিয়া যেসকল সুযোগ সুুবিধা জনগনকে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, তা এখন সাধারন মানুষের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করবেন নারায়ণগঞ্জের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীসহ শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা বলে একাধিক নেতা জানান।

দেখাগেছে, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা সরকারী দলের হামলা মামলার ভয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও সকল প্রতিবন্ধকতাকে পেরিয়ে গত ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিএনপির সমাবেশে স্বত:স্ফূর্ত ভাবে অংশ গ্রহণ করে সমাবেশস্থলে জনসমুদ্রে পরিনত করেন নেতাকর্মীরা। বিএনপি চেয়ারপার্সনের মুখে নির্বাচনমূখী বক্তব্য শোনার পর এখন তৃণমূলে নব প্রাণের সঞ্চার ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ঘটনা সূত্রে প্রকাশ, ২০০৬ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর দীর্ঘ প্রায় এক যুগ যাবত আর ক্ষমতার স্বাদ পায়নি বিএনপি। এতো দীর্ঘ সময় ক্ষমতাহীন থাকার অভিজ্ঞতা ছিলো না দলটির নেতাকর্মীদের। সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদেরও নাজেহাল অবস্থা তৈরী হয়েছিলো। দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু কওে মাঠ পর্যায়ের তৃণমূল কর্মী পর্যন্ত সবাই মামলা হামলায় জর্জরিত। তাছাড়া কমিটি গঠন ও দলীয় মনোনয়ন প্রশ্নে বিরোধের কারনে সৃষ্টি হয়েছিলো চরম বিশৃঙ্খল অবস্থার। জাতীয় কিংবা দলীয় কর্মসূচির প্রতি তাদের সৃষ্টি হয়েছিলো অনিহা।

সময়ের পালাক্রমে সেই দুরবস্থা আস্তে আস্তে কাটাতে শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলীয় চেয়ারপার্সণ বেগম খালেদা জিয়া তিন মাসের বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিওে আসলে ঢাকায় বিশাল শো ডাউন করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। এরপর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর প্রতিবাদে রাজপথে নেমে আন্দোলন এবং খালেদার কক্সবাজার সফর উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে মেঘনা ঘাট পর্যন্ত হাজার হাজার নেতাকর্মী রাস্তায় নেমে আসে।

বিএনপি’র চেয়ারপার্সণ বেগম খালেদা জিয়ার কক্সবাজার সফরে ফেনীতে তার গাড়ি বহরে হামলার প্রতিবাদে আবারো রাজপথে নেমে আসছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পুলিশের ভয়কে পিছনে ফেলে তারা আবারো রাজপথ উত্তপ্ত করে তুলছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সূত্র মতে, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হার্ডলাইনে সরকারী দল। নারায়ণগঞ্জে অবস্থা আরো করুন। প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারনে রাজপথে দাঁড়াতেই পারছে না নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। কিন্তু দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় এখন আর পিছু ফিরে তাকানোর অবকাশ নেই তাদের সামনে। গত নির্বাচনে অংশ না নিয়ে যে ভুল করেছিলো, এবার আর তার পুনরাবৃত্তি করতে চায় না তারা। তাই যে কোন মূল্যে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে এবং নির্বাচনের সুষ্ঠ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বদ্ধ পরিকর সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। আর তাইতো সকল মামলা হামলার ভয়কে জয় করে আবারো রাজপথ মুখর হয়ে উঠছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতৃবৃন্দরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here