নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামীলীগের তুমুল বিরোধীতা স্বত্তেও আওয়ামীলীগের ছাড়ে নারায়ণগঞ্জের দু’টি আসনে নৌকার প্রার্থীর পরিবর্তে লাঙ্গল প্রতীকে মহাজোটের প্রার্থী দেয়ার পরেও নারায়ণগঞ্জের আরো দু’টি আসনে নৌকার প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দী হিসেবে ‘লাঙ্গলের উন্মুক্ত প্রার্থী’ দিয়েছে জাতীয় পার্টি।
গত ৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে জাতীয় পার্টির ‘উন্মুক্ত প্রার্থী’ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে দলটির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন মোল্লা খোকা ও নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মো: আজম খানকে ‘লাঙ্গল’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে চিঠি প্রেরণ করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা।

যার প্রেক্ষিতে সোমবার (১০ ডিসেম্বর) জাতীয় পার্টির এই দুই উন্মুক্ত প্রার্থীর হাতে লাঙ্গল প্রতীক তুলে দেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার রাব্বী মিয়া।

আর নারায়ণগঞ্জের দু’টি আসনে জাতীয় পার্টিকে আওয়ামীলীগ আসন ছাড় দেয়ার পরেও অন্য দু’টি আলোচিত আসনে খোদ নৌকার প্রার্থীদেরই প্রতিদ্বন্দী হিসেবে জাতীয় পার্টি লাঙ্গলের প্রার্থীতা বহাল রাখায় এখন বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগ।

আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দদের মতে, যেখানে তৃণমূলের বিরোধীতা স্বত্তেও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে লিয়াকত হোসেন খোকাকে মনোনীত করার পর তাদের পক্ষে লাঙ্গল প্রতীকের বিজয় নিশ্চিতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন উক্ত দু’টি আসনের নৌকা বঞ্চিত প্রার্থীরাসহ আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দরা, সেখানে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিগঞ্জ) আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীককে নৌকার মনোনয়ন দেয়ার পরেও ফের এই দু’টি আসনে লাঙ্গলের উন্মুক্ত প্রার্থী দিয়ে জাতীয় পার্টি আওয়ামীলীগের সাথে ছলনা করেছে।

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জের সংসদীয় ৫টি আসনে নৌকা ও লাঙ্গল প্রতীকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত মহাজোটের প্রার্থী ঘোষণার পরেও জাতীয় পার্টি এককভাবে দু’টি আসনে নিজেদের দলীয় প্রার্থী দিয়ে নেত্রীর সাথে দ্বিমুখী আচরন করেছেন। এতে করে দলের মধ্যে যেমন এর প্রভাব পড়বে তেমনি নির্বাচনে ভোটের ক্ষেত্রেও বিরূপ প্রভাব পড়বে।

কারন, আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টি মহাজোটগত ভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় নারায়ণগঞ্জে লাঙ্গলকে ছাড় দেয়া দু’টি আসনের মহাজোটের প্রার্থীদের পক্ষে স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা মাঠে নামলেও আবার দু’টি আসনে জাতীয় পার্টির বিরোধী পক্ষ হিসেবে নৌকার প্রচারনায় মাঠে নামতে হবে। এতে করে নেতাকর্মীরা বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন বলে শংকা প্রকাশ করেছেন জেলা আওয়ামীলীগের একাধিক শীর্ষ নেতা।

এব্যাপারে জানতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইয়ের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে নিয়ে বহু আগে থেকেই আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। এই আসনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ জোটবদ্ধ হয়ে আওয়ামীলীগের বর্তমান সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজীর পক্ষে-বিপক্ষে ৩২ জন নৌকা প্রত্যাশায় দলীয় মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিলেন।

অপরদিকে, এই আসনটিতে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে সাইফুল ইসলামকে মনোনয়ন দিলেও পরবর্তীতে দলীয় চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ নিজেই এ আসনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। তারপক্ষে সরকারী ভাবে মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া তিনি ঢাকা ও রংপুর থেকেও মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন।

সে সময় আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা এরশাদকে রংপুরের বাইরে ঢাকা অথবা রূপগঞ্জের মধ্যে একটি আসন বেছে নিতে নির্দেশ দিলে সে অবস্থায় জোটের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগের সঙ্গে চূড়ান্ত ফয়সালা না হওয়ায় এবং এরশাদ হাসপাতালে নিরুদ্দেশ হওয়ায় প্রার্থী সংক্রান্ত স্থবিরতা নেমে আসে এখানে।

পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ এরশাদের দাবীকৃত আসন ঢাকা-১৭ থেকে চিত্রনায়ক ফারুক ও রূপগঞ্জ আসন থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নৌকার মনোনয়ন দেন। এরপর গত ২৮শে নভেম্বর গাজী মনোনয়ন পত্র দাখিল করলেও দাখিলের শেষদিন বিকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা রিটার্নিং অফিসার রাব্বী মিয়ার কাছে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য আজম খান মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন।

তারপর রিটার্নিং অফিসার গত ৫ ডিসেম্বর তাঁর মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণার আজম খান ১০ ডিসেম্বর রিটার্নিং অফিসারের নিকট হতে জাতীয় পার্টির উন্মুক্ত প্রার্থী হিসেবে ‘লাঙ্গল’ প্রতীক সংগ্রহ করেন।

অপরদিকে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শামীম ওসমানকে নৌকার মনোনয়ন দেয়ার পরেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ইসিতে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন সালাউদ্দিন মোল্লা খোকা। কিন্তু হলফনামা ২০০ টাকা মূল্যমানের স্ট্যাম্প না হওয়ায় নির্বাচন কমিশন তাঁর মনোনয়ন পত্রটি বাতিল করে দেন। পরবর্তীতে তিনি ইসিতে আপিল করে প্রার্থী হিসেবে বৈধতা ফিরে পান। তারপর দলীয় কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে উক্ত আসনে জাতীয় পার্টির উন্মুক্ত প্রার্থী হিসেবে সোমবার জেলা রিটার্নিং অফিসারের নিকট থেকে ‘লাঙ্গল’ প্রতীক সংগ্রহ করেন সালাউদ্দিন মোল্লা খোকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here