নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বার্ষিক সভা আহবানের ঘোষনা দিয়ে শেষ হয়েছে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাধারণ সভা। আর সেই সাধারণ সভায় গঠনতন্ত্র সংশোধন করে ১৫ জানুয়ারীর মধ্যে প্রতিবছর নির্বাচন অনুষ্ঠানের নতুন আইন পাশ করা হবে বলে আইনজীবীদের আশ^স্ত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. আনিসুর রহমান দিপু।
সোমবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতি ভবনের নীচ তলায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভার শুরুতেই নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. আনিসুর রহমান দিপু চলমান সংকটের দায় স্বীকার করে বলেন, নিশ্চয় স্বীকার করতে হবে আমাদের কার্যকলাপে স্বাভাবিক পরিক্রমায় কিছু ছন্দপতন হয়েছে। আর এর থেকে উত্তরণের পথ আপনাদের বের করতে হবে। আপনারা হচ্ছেন সর্বোচ্চ ফোরাম। আপনাদের সর্বোচ্চ ফেরাম যে রায় দেবে, তা আমরা মাথা পেতে নেবো। তবে আমার অসুস্থ্যতা আমার ইচ্ছায় হয়নি। আল্লাহপাকের ইচ্ছায় অসুস্থ্য হয়েছিলাম, আবার আপনাদের দোয়ায় আল্লাহ’র ইচ্ছায়ই সুস্থ্য হয়ে আবার আপনাদের মাঝে ফিরে এসেছি। আর আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, আমার জন্য আপনারা দোয়ার আয়োজন করেছেন।

বারের সাবেক সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান তার বক্তব্যে বলেন, আজকের এই বিশেষ সভার জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। সাধারণ সভাকে বিশেষ সভা কেন করা হলো তা আমার বোধগম্য না। গঠনতন্ত্রে বলা আছে, সভাপতির অনুপস্থিতিতে সিনিয়র সহ সভাপতি দায়িত্ব নিয়ে সাধারণ সভার আয়োজন করতে পারে। সিনিয়র সহ সভাপতি না থাকলে সহ সভাপতি পারে। কিন্তু তা না কওে যেটা করা হয়েছে, সেটা ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে। গঠনতন্ত্র মোতাবেক ২৫ অক্টোবরের মধ্যে বার্ষিক সাধারণ সভা আহবানের কথা। কিন্তু তা ৩০ অক্টোবর কেন ডাকা হলো? ১০ অক্টোবর যদি সাধারণ সভা ডাকা হতো, তাহলেতো আয়োজনে কোন বাঁধা ছিলো না। কারন সভাপতি এড. আনিসুর রহমান দিপু তখন অসুস্থ্য ছিলেন না। আসলে সর্ষেতে ভুত থাকলে সে ভুত তাড়াবেন কিভাবে! তবে আমরা এখন আর বির্ত করতে চাই না। আজকের এই বিশেষ সভাকেই সাধারণ সভায় কনভার্ট করা যায়, নতুবা আগামী দু-একদিনের মধ্যে সাধারণ সভা ডেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। তবে এই কমিটি চাইলে জোর কওে দুই মাস কেন ১০ বছরও থাকতে পারে। শক্তি থাকলে সবই সম্ভব।


বিশেষ সভায় নারায়ণগঞ্জ বারের সিনিয়র আইনজীবী এড. হারুন ইর রশিদ আরো একটি বিষয় উল্লেখ কওে বলেন, নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্রে ৪৫ ধারা নামক আরো একটি ধারা সংযোগিত ছিলো। সে ধারায় উল্লেখ ছিলো যে, যদি এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়, তখন নয় সদস্যের এডহক কমিটি গঠন করে নির্বাচিত কমিটিকে বিদেয় করে দিতে পারবেন এবং এডহক কমিটি নির্বাচনের আয়োজন করতে পারবে। কিন্তু ছাপানোর সময় এ ধারাটি বাদ দিয়ে ছাপানো হয়েছে। যারা করেছে, তারা কোন ক্ষমতাবলে এটা করলো তা জানা দরকার। আর তা নাহলে সংবিধান রেখে লাভ কি, যদি তা কেউ না মানে। তবেতো সকলের জন্য আলাদা আলাদা একটা কওে সংবিধান তৈরী করতে হবে। আমাদের সকলের মধ্যে সংবিধান মেনে চলার অভ্যাস করতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ সভাপতি এড. সরকার হুমায়ুন কবীর বলেন, বিশেষ সাধারণ সভা আমি বিশেষভাবে মানতে পারলাম না। সময় ও কাল বসে থাকে না। বিশেষ সাধারণ সভা ডাকার কারনে সাধারণ সভা শেষ হয়ে গেছে। সংবিধান নষ্ট হয়ে গেছে। তাই আর এর দিকে চেয়ে থেকে লাভ নাই। অইনজীবীদের সাথে কথা বলে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।

নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকএড. হাবিব আল মুজাহিদ পলুর সঞ্চলনায় অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় বাবের সিনিয়র জুনিয়র প্রায় সকল আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here