নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: তারা প্রত্যেকেই হচ্ছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের জনপ্রতিনিধি। যার মধ্যে কেউ এমপি, কেউ মেয়র কারো পদবী চেয়ারম্যান।
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী বছর হিসেবে এই জনপ্রতিনিধিদের এখন দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করাটাই মূল দায়িত্ব হলেও তাদের কার্যকলাপে উল্টো প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ। মূলত, তাদের পরস্পর বিরোধী আক্রোশমূলক বক্তব্য, মারমুখী আচরনের কারনে দলের ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে দাবী করেন দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।

আর ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের ‘নৌকা’ প্রতীকে নির্বাচিত নারায়ণগঞ্জ জেলার এই ৫ জনপ্রতিনিধি হচ্ছেন, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতিক, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ এ কে এম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন ও কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ¦ রফিকুল ইসলাম ওরফে আন্ডা রফিক।

জানাগেছে, শামীম ওসমান ও আইভীর মধ্যকার দ্বন্দ দীর্ঘ বছরের হলেও বছর খানেক যাবত তারা ছিলেন নমনীয়। তন্মধ্যে শামীম ওসমান একাধিকার আইভীর সাথে কোন দ্বন্দ না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করার প্রয়াস চালালেও বরাবরই আশাহত হন।

কিন্তু চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারী নগরীর ফুটপাতে হকার বসাকে কেন্দ্র করে শামীম ওসমান ও মেয়র আইভী সমর্থকদের মধ্যে সৃষ্ট সংঘাতের পর ফের উভয়ের মধ্যকার দ্বন্দ প্রকাশ্য হয়ে যায়। সেই সংঘাতের নেপথ্যে শুরু থেকেই আইভী শামীম ওসমানকে দায়ী করে আসায়, আর শামীম ওসমান গরীব হকারদের আর্তনাদ সহ্য করতে না পেরে তাদের দাবীর প্রেক্ষিতে আইভীর বিপক্ষে অবস্থান করায়, সৃষ্ট সংঘাতের কারনে নারায়ণগঞ্জে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের রাজনীতি।

পরবর্তীতে বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে উভয়কেই ঢাকায় তলব করেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে দলীয় নেতাদের মধ্যকার দ্বন্দ প্রকাশ্যে আসায় শামীম ওসমান ও আইভীকে সতর্ক করে দেয় হাইকমান্ড।

কিন্তু আগামী সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে একদিকে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অপরদিকে শিষ্য শামীম ওসমানের বিরুদ্ধাচারন করে উল্টো নেতাকর্মীদের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করছেন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন বলে দাবী করেন তৃণমূল।

গত ২ ফেব্রুয়ারী বিকালে নগরীর ২নং রেলগেটস্থ জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে সদস্য সংগ্রহ বিষয়ে ওয়ার্ড ভিত্তিক নেতাকর্মীদের সাথে মত বিনিময় সভায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন তার শিষ্য শামীম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে, ‘আওয়ামীলীগ জনগণের দল, কোন ব্যক্তির দল নয়। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে অন্য কোন দল নাই, একটাই দল আছে। আর সেটা হলো “ওসমান দল”। যদি তাই হয়, তাহলে তা দলের জন্য ক্ষতিকর’- এমন মন্তব্য করেন।

তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামীলীগ যদি জনগণের দল হয়, তাহলে জনগণকে সাথে নিয়েই এ দলের কার্যক্রম চালাতে হবে। দলের সু-সময়ে মধু আহরন করবেন আর দু:সময়ে বোঝা ভেবে বিদেশে চলে যাবেন, আমরা এমন নেতৃত্ব চাই না। যারা আওয়ামীগের নেতাকর্মী হয়ে লাঙ্গন নিয়ে দৌড় পারে, আমরা এমন নেতা চাই না। আমরা ত্যাগী নেতাদের নিয়ে দল গঠন করতে চাই।’

আনোয়ার হোসেনের এমন মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তীব্র সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।

কারন, আগামী সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের ইতিমধ্যেই দলীয় কোন সাংসদের বিরুদ্ধে মন্তব্য না করতে কঠোর ভাবে হুঁশিয়ার করে দিয়েছিলেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কিন্তু তারপরেও আনায়োর হোসেনের মত একজন বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ তার শিষ্য শামীম ওসমানের বিরুদ্ধাচরন করায় তা ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে বলে দাবী করেন তৃণমূলের নেতৃবৃন্দরা।

অপরদিকে, রূপগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঠেকাতে মাঠে নেমে উল্টো নিজেরাই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায়, আওয়ামীলীগের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতিক ও কায়েতপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ রফিকুল ইসলাম ওরফে আন্ডা রফিক বলে দাবী করেছেন ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।

কারন, গত ৮ ফেব্রুয়ারী বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের নাশকতা রোধে মাঠে নেমে খোদ এমপি গাজী ও ইউপি চেয়ারম্যান আন্ডা রফিক বাহিনীর লোকজনই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় এবং সেই সংঘর্ষে সুমন মিয়া নামে একজন স্বেচ্ছা সেবকলীগ নেতা নিহত হওয়ার ঘটনায় বিএনপির পরিবর্তে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরাই স্থানীয়দের কাছে সন্ত্রাসী দলের বাহিনী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে বলে দাবী করেন স্থানীয় জনতা।

আর এই সংঘর্ষে স্বেচ্ছা সেবকলীগ নেতা নিহতের ঘটনায় আওয়ামীলীগের ইউপি চেয়ারম্যান আন্ডা রফিককে প্রধান আসামী করে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের হওয়ায়, রূপগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতি সাধারন জণগনের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এতে করে আগামীতে রূপগঞ্জে আওয়ামীলীগের এমপি নির্বাচিত হওয়াটাও কঠিনতর হয়ে পড়তে পারে বলে শংকা প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here