নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: রাজধানীর পাশ্ববর্তী জেলা হিসেবে রাজনীতির মাঠে নারায়ণগঞ্জ জেলাকে সবচেয়ে বেশী মূল্যায়ণ করে থাকে প্রতিটি দলেল হাইকমান্ড। ফলে দলীয় কোন বৃহৎ কর্মসূচী তথা জনসমাবেশে ব্যাপক জনসমাগম ঘটানোর লক্ষ্যে হাইকমান্ড নারায়ণগঞ্জের শীর্ষস্থানীয়দের প্রতিই একটু বেশীই ভরসা করে থাকেন।
কিন্তু বিধি বাম! দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দাবীতে গত ফেব্রুয়ারী ও ১২ মার্চ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কেন্দ্রীয় বিএনপি আহূত জনসমাবেশে যোগদানের লক্ষ্যে পুলিশী ধরপাকড় মামলা ভয়কে উপেক্ষা করে ব্যাপক প্রস্তুতি নিলেও শেষতক সেই সমাবেশে আর যেতে পারেনি নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা।

অপরদিকে, আগামী ২৪ মার্চ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল জনসভা করার ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। যেই সমাবেশে যোগদানের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচারনা চালানোসহ নানা ভাবে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।

এই সমাবেশের মাধ্যমে এরশাদ জাতীয় পার্টির শক্তির জানান দেয়ার যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন, তা বাস্তবায়নে যথাসম্ভব লোক সমাগম ঘটানোর চেষ্টা চলছে বলে জানান, নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।

তবে, পরপর দুই দফা সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে ডিএমপির অনুমতি না মেলায় রাজধানীতে সমাবেশ করার সুযোগ না পেলেও আগামী ১৯ মার্চ তৃতীয় দফায় একই স্থানে নেত্রীর মুক্তির দাবীতে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দরা।
আর তাই অনুমতি মিললে এই সমাবেশে ব্যাপক লোক সমাগম ঘটিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রস্তুত আছেন বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা। তাদের দাবী, যদি সমাবেশের দিনও ডিএমপি অনুমতি দেয়, তাহলে আগমুহুর্তেও যেন সমাবেশস্থলে নেতাকর্মীরা যোগদান করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই দেয়া হচ্ছে প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা।

দলীয় চেয়ারপার্সণের মুক্তির দাবী এখন বিএনপি নেতাকর্মীদের অস্তিত্বের লড়াইয়ে পরিনত হয়েছে। আর তাই এ লড়াইয়ে অংশ নিতে সকল বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে সমাবেশের দিন ঢাকায় যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি’র নেতাকর্মীরা।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, “আমাদের নেত্রী আমাদের ‘মা’, আর মায়ের মুক্তির দাবীতে তার সন্তানদের কোনদিন আটকে রাখা যায়! আমরা অবশ্যই ঢাকায় যাবো এবং সে লক্ষ্যে আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।”

একই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল জানান, “আমাদের দলীয় চেয়ারপার্সণ ও তিনবারের প্রধাণমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে আয়োজিত জনসভায় যোগ দিতে আমরা বদ্ধ পরিকর। ইতিপূর্বে দুই দফা সমাবেশের ঘোষণার পর ডিএমপি বিএনপি অনুমতি না দেয়ায় সেই সমাবেশ করা সম্ভব হয়নি। মূলত সরকার ভয় পাচ্ছে বলেই বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দিচ্ছে না। তবে এবার যদি অনুমতি দেয়, তাহলে সকল প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি’র উদ্যোগে প্রায় ৩০ হাজার নেতাকর্মী সমাবেশে যোগ দিবে। আমাদের নেত্রীর মুক্তির দাবী এখন আমাদের অস্তিত্বের লড়াইয়ে পরিনত হয়েছে। আর তাই এ লড়াইয়ে অংশ নিতে আমাদের কেউ আটকে রাখতে পারবে না।”

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার বলেন, “আমাদের নেত্রী, আমাদের মা বেগম খালেদা জিয়ার জামিন হলেও সরকার ইচ্ছাকৃত ভাবে তাকে রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করে রেখেছে। কিন্তু বিগত দুইবার আহূত সমাবেশে ডিএমপি অনুমতি না দেয়ার কারনে আমরা সমবেত হতে না পারলেও আগামীদিনের সমাবেশে যোগ দিতে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।”

আর জনসভায় যোগদানের বিষয়ে অটল অবস্থানে আছে জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, “এবার ডিএমপি অনুমতি না দিলেও মায়ের মুক্তির দাবীতে রাজধানীর রাজপথে অবস্থান করবে যুবদলের নেতাকর্মীরা। আর যদি সমাবেশও হয়, তাহলে সেই সমাবেশে জনশক্তির জানান দিবে মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীরা।”

গত ফেব্রুয়ারী মাসে এবং গত ১২ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আহূত বিশাল জনসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষস্থানীয়দের সাথে একাধিক প্রস্তুতি মূলক বৈঠকও করেছিলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিন্তু সমাবেশের প্রস্তুতি নিলেও শেষতক আর সেই নির্ধারিত সময়ে সমাবেশ অনুষ্ঠানের অনুমতি না মেয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে ফের ১৯ মার্চ তৃতীয় দফায় সমাবেশের ডাক দেয় কেন্দীয় বিএনপি।

এদিকে, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগে নিজেদের শক্তি জানান দিতে আগামী ২৪ মার্চ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ।

মূলত, জাতীয় পার্টি কতটা শক্তি সঞ্চয় করেছে এবং আগামীতে জনগণের রায় নিয়ে এককভাবে ক্ষমতায় যেতে প্রস্তুত থাকার বিষয়টি দেখাতে কমপক্ষে পাঁচ লক্ষাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢাকায় জমায়েতের যেই প্রত্যাশা এরশাদ করেছেন, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপিদ্বয়, সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীসহ দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।

প্রায় ৩ বছর যাবত কার্যালয়হীন থাকায় সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়লেও ২৪ মার্চের জনসমাবেশে ঠিকই বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটাতে সক্ষম হবেন নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম সেলিম ওসমান এবং জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব ও নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের এমপি আলহাজ¦ লিয়াকত হোসেন খোকার নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন শীর্ষস্থানীয়রা।

এছাড়াও আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে ‘লাঙ্গল’ প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক সালাউদ্দিন মোল্লা খোকা ২৪ মার্চের সমাবেশে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে যোগদানের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।

আর প্রস্তুতির ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আবুল জাহেরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে উক্ত জনসমাবেশে বিপুল জনসমাগম ঘটাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচারনা চালানোর পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নিতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন জাতীয় ছাত্র সমাজ নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি শাহাদাত হোসেন রুপু, সহ-সভাপতি ই¯্রাফিল সোহাগ, মহানগর আহ্বায়ক শাহ আলম সবুজ।

তারা নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান,“নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রয়াত সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসিম ওসমানের একামাত্র পুত্র আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে জাতীয় ছাত্র সমাজের নেতাকর্মীরা ২৪ মার্চের জনসভায় তাক্ লাগিয়ে দিবে। এই লক্ষ্যে জেলা ও মহানগর ছাত্র সমাজের নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেয়ার দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here