নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: চলতি বছরের ডিসেম্বরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাই তো উক্ত নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন ৫টি সংসদীয় আসনে এমপি প্রার্থী হওয়ার বাসনায় বেশ জোরেশোরেই মাঠে নেমে পড়েছেন বর্তমান এমপিগণ সহ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ, বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও বিএনপির কয়েক ডজন নেতা।
কিন্তু নতুনদের সুযোগ দেয়ার পরিবর্তে বর্তমান এমপিরা পুনরায় আগামীতেও এমপি হওয়ার প্রস্তুতি নেয়ায়, সম্ভাব্য নবীণ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে দলীয় মনোনয়ন বাগানোটা অনেকটাই চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কারন হিসেবে তারা বলেন, ‘বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন (৫) আসনের এমপি হিসেবে আছেন জাতীয় পার্টির বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম সেলিম ওসমান, (৪) আসনে আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী আলহাজ¦ এ কে এম শামীম ওসমান, (৩) আসনে জাতীয় পার্টির আলহাজ¦ লিয়াকত হোসেন খোকা, (২) আসনে আওয়ামীলীগের আলহাজ¦ নজরুল ইসলাম বাবু ও (১) আসনে আওয়ামীলীগের গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতিক। যাদের প্রত্যেক্যেই আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনেও রয়েছেন এমপি নির্বাচিত হওয়ার প্রত্যাশায়।’

যার মধ্যে, আগামী নির্বাচনেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সেলিম ওসমান এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আলহাজ¦ লিয়াকত হোসেন খোকার নাম ইতিমধ্যেই ঘোষণা করে দিয়েছেন দলীয় চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ।

আর সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছেন বর্তমান এমপিরা। কেননা, আসন্ন নির্বাচনেও যে তারা নিজ নিজ দলের প্রার্থী হয়েই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেন, তা জাতীয় পার্টির ২ এমপি অনেকটাই নিশ্চিত হলেও আওয়ামীলীগের এমপিদের মাঝে রয়েছে কিছুটা শংকা।

তন্মধ্যেই, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে নারায়ণগঞ্জের ৩ এমপি এগিয়ে থাকার পাশাপাশি আগামীতেও এমপিত্ব বজায় রাখার লক্ষ্যে নির্বাচনী কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটি গঠনের পাশাপাশি জোর প্রয়াস চালানোয়, জেলার ৫টি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য নবীণ এমপি প্রার্থীদের তৃণমূলের সমর্থণ আদায় থেকে শুরু করে মনোনয়ন নিশ্চিতকরন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে বলে দাবী করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কিন্তু বর্তমান এমপিদের পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তি এবং এমপি নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটাই আশাবাদী হয়ে নির্বাচনী মাঠ গুছানোয় নেমে পড়েছেন আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য নবীণ প্রার্থীরা।

আর আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নবীণ প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু, জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আলহাজ¦ শুক্কুর মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম আবু সুফিয়ান, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম আরাফাত, শহর যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আলী আহাম্মদ রেজা উজ্জল।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে আওয়ামীলীগের নবীণ প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের অর্থ ও পরিকল্পনা উপ-কমিটির সদস্য কামাল মৃধা ও জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় শ্রম কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ¦ কাউসার আহাম্মেদ পলাশ আলোচনায় থাকলেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সদ্য আলোচনায় এসেছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন মোল্লা খোকা।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে নবীণদের তালিকায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা: আবু জাফর চৌধুরী বীরু ও সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আলহাজ¦ মাহফুজুর রহমান কালাম থাকলেও জাতীয় পার্টির কেউ আলোচনায় নাই।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা ব্যারিষ্টার ইকবাল পারভেজ। আর জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে একজনের নাম ঘোষণা করেছেন এরশাদ।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে আওয়ামীলীগের নবীণ প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ¦ রফিকুল ইসলাম। এখানে জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য কেউ নাই।

তবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল বিএনপি আসন্ন একাদশ নির্বাচনে অংশ নিলে বর্তমান এমপিদের এমপিত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে যেমন কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে, তেমনি বিএনপি অংশ না নিলেও প্রার্থী তালিকায় রাজনৈতিক কৌশলগত কারনে পরিবর্তন আসতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here