নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: পুনর্বাসনের লক্ষ্যে হকারদের ভোটার আইডি কার্ডসহ নামের তালিকা চেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো: রাব্বী মিয়া।
বুধবার (৩ জানুয়ারী) সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা হকার্স সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দদের সাথে আলাপকালে তিনি এই তালিকা চান।

রাব্বী মিয়া বলেন, ‘আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। আইন শৃঙ্খলার বিষয় জনগনের স্বার্থ, ব্যবসায়ীদের বিষয় গুলো আমাদের দেখতে হবে। নিয়ম নীতি মেনে আমাদেরকে চলতে হবে। তাই আমি চাইবো আপনারা ফুটপাতে না বসে যেন স্থায়ীভাবে বসে ব্যবসা করতে পারেন। সেই লক্ষে আপনারা কতজন সদস্য আছেন তার একটি তালিকা আমাকে দিবেন। তবে সেই তালিকা গুলোর সাথে অবশ্যই ভোটার আইডি কিংবা স্থানীয় এলাকার চেয়ারম্যানের সনদপত্র থাকতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দ্রুত আমাকে আপনাদের তালিকাগুলো দিন। আমি দেখবো কতজন লোকদের আমি পুনর্বাসন করতে পারবো, কোখায় করতে পারবো এটা আমার জানার বিষয় আছে। তালিকা পেলে আমি বুঝতে পারবো কিভাবে আপনাদেরকে পুনর্বাসন করা যায়। আপনাদেরকে মনে রাখতে হবে আপনাদের ব্যবসার কারনে কারো যেন ফুটপাতে স্বাচ্ছন্দে চলাফেরা করতে কোন প্রকার অসুবিধা না হয়। আমি চাই এই তালিকা দেখে আপনাদের জন্য ভাল কিছু করতে।’

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘তালিকা পেলে আমি সিটি কর্পোরেশন, পুলিশ প্রশাসন আর এমপি মহোদয়দের সাথে আলোচনা করে এ বিষয়ে একটি সুন্দর সিদ্ধান্ত নিতে পারবো। কতজন হকারকে আমি স্থায়ীভাবে যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবো এটা আমার দেখার বিষয় আছে। আমি বিশ্বাস করি উন্মুক্ত আলোচনায় আমরা বসলে এ সমস্যার সমাধান হবে। তালিকা দিলে দেখতে পারবেন আমি আপনাদের জন্য কি করি।’

এ সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা হকার্স সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মো: আসাদুল ইসলাম আসাদ বলেন, ‘স্যার জানুয়ারী মাসে আমরা শীতের মালগুলো বেচা-কেনা করতে না পারলে আমাদের ছেলে-মেয়েদের ভর্তি করার সমস্যা হবে।’

এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া বলেন, ‘এর সাথে ছেলে মেয়েদের ভর্তি করার কোন বিষয় নয়। আপনাদের পেইনগুলো আমি বুঝতে পারি। আমি চাই বাংলাদেশের সকল লোকই কর্মমুখী হোক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেছেন দেশে বেশী বেশী কর্মমুখী লোক তৈরী করতে হবে। একটি সুন্দর প্রক্রিয়া আমি চালু করতে চাই।’

এ সময় তিনি শহরের নিতাইগঞ্জ যানজট মুক্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘সকলের যৌক্তিক আলোচনায়ই এটা সম্ভব হয়েছে। আমি চাই সকলের কাছে আপনাদের গ্রহন যোগ্যতা থাকুক। আমি চাই যে সিদ্ধান্তই আসুক তার যেন বাস্তবায়ন হয়।’

এ সময় হকার নেতৃবৃন্দ শীতের গরম কাপড়গুলো আগামী শুক্রবার ও শনিবার বন্ধের দিন বিকাল ৫টার পর ফুটপাতে বিক্রি করার অনুমতি চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে আমি সিদ্ধান্ত দিতে পারি না। আপনারা বলেছেন বিষয়গুলো আমি মাথায় রাখলাম। আমাকে যেন কেউ বলতে না পারে সিদ্ধান্ত গুলো সঠিক আর যৌক্তিক হয়নি। আমি চাই যেন সকলের কল্যান হোক। আমি আপনাদের ডেকেছি এই তালিকার বিষয়ে কথা বলার জন্য। আপনাদের শীতবস্ত্রের বিষয়ে আমি শুনলাম এটা আমার মাথায় রাখছি। দ্রুত তালিকা দিলে দ্রুত সমাধান হতে পারে। মনে রাখবেন আবেগে কোন সমস্যার সমাধান হয় না, বাস্তবতায় সমস্যার সমাধান হয়। সম্প্রতি শহরের মর্গ্যান গার্লস স্কুলের জটিল সমস্যার সমাধানও আমরা করেছি।

এর আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা হকার্স সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দরা বলেন, আমরা ধাারদেনা করে টাকার ব্যবস্থা করে শীতের মালামাল কিনে এখন বিক্রি করতে পারছি না। গত ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭ থেকে আমাদের ব্যবসা বন্ধ রয়েছে। এর আগে গত ২৪ শে ডিসেম্বর আমরা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এর সাথে বসে জনগনের চলাচলের জায়গা রেখে ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিদিন বিকাল ৫টার পর ব্যবসা করার অনুমতি পেলেও পুলিশ আমাদের কোন প্রকাল পূর্ণবাসন ছাড়াই অন্যায়ভাবে উঠিয়ে দেয়।

আলোচনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা কমিনিউষ্টি পার্টির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা হকার্স সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি আসাদুল ইসলাম আসাদ, মহানগর হকার্স লীগের সভাপতি রহিম মুন্সী, সাধারন সম্পাদক আলমগীর হোসেন পলাশ, মোঃ মঞ্জিল, শাহজাহান, মহসিন, নাসিম সহ অন্যন্যরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here