নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: মানের মান রাখতে প্রাথমিক পর্যায়ে পুরাতন ফেরী দিয়েই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জবাসীকে দেয়া বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের দেয়া প্রতিশ্রুতি।
যা কিনা আগামী বছরের পহেলা জানুয়ারীতে শীতলক্ষ্যা নদীর হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ পয়েন্ট দিয়ে চলাচল করবে। এরপর জুন মাসে সেই পুরাতনটি পরিবর্তন করে এখানে ফের সংস্থাপন করা হবে নতুন ফেরী।

জানাগেছে, শীতলক্ষ্যা নদীতে একটি সেতুর স্বপ্ন প্রায় ৪৬ বছর যাবত দেখে আসছে সদর-বন্দরবাসী। যার ফলশ্রুতিতে গত ২৩ নভেম্বর যখন বন্দর উপজেলায় নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের জাতীয় পার্টির সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ একেএম সেলিম ওসমানের অর্থায়নে নির্মিত তিনটি স্কুল উদ্বোধনে প্রথমাবারের মত নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা পাড়ে সেতুমন্ত্রী এসেছিলেন, তখন শীতলক্ষ্যা নদীর নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ ঘাট দিয়ে একটি ব্রীজ নির্মানের জোরালো দাবী জানিয়েছিলেন স্থানীয় হাজার হাজার জনতা।

এরপর বন্দরের ত্রিবোনী মিনারবাড়ি এলাকায় শামসুজ্জোহা মুছাপুর বন্দর (এম.বি) ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্বোধনের পর এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে সাংসদ সেলিম ওসমানের প্রশংসা করাসহ স্থানীয়দের অভ্যর্থণায় মুগ্ধ হয়ে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের পক্ষকালের মধ্যে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেরী সার্ভিস চালুর ঘোষণা দেন।

স্থানীয়দের দাবীর প্রেক্ষিতে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন একটি সেতু করতে অনেক সময় লাগে। শীতলক্ষ্যা সেতু আমরা অনেক আগেই করতে পারতাম। এটি বিদেশি প্রজেক্ট। ধাপে ধাপে সবকিছু করতে হয়। একটি ব্রীজ করতে হলে কতগুলো প্রসেস লাগে, যেগুলো আমাদের ফলো করতে হয়। প্রথমত সার্ভে লাগে, তারপর আসবে নির্মান প্রক্রিয়া। সেখানে বিদেশী সহযোগিতা লাগে। যদি তা নাও পাই তাহলেও আমরা ব্রীজ করবো। কারন সেলিম ওসমানের মত বড় মনের ব্যবসায়ীরা থাকাতে আমরা সাহস পাই। যদি পদ্মা সেতুর মত কোটি কোটি টাকার প্রজেক্ট আমরা নিজেরা করতে পারি তবে শীতলক্ষ্যা নদীতে একটি ব্রীজও আমরা নিজেদের অর্থায়নে করতে পারবো। বিদেশী সহায়তা না পেলেও আমরা চেষ্টা করবো।’

তারপর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক পক্ষকালের মধ্যে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেরী সার্ভিস চালুর ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘প্রথমত আমি খেয়াঘাটের স্থানে ফেরী চালু করে দিচ্ছি। আমি মন্ত্রী হিসেবে বলে দিলাম আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ফেরি চালু হবে। কারন আমি সেই কথা বলবো না, সেই ওয়াদা দেবনা যেটা রাখতে পারবো না। কারন এটাই শেখ হাসিনার অঙ্গীকার। জনগনকে ধোকা দিয়ে বোকা বানানোর কাজ আমরা করিনা। তবে সেতুর নির্মান কাজ শুরু হবে। নিয়ম অনুযায়ী যা করার আমরা করছি। যতটুকু বলা আছে তা হবে, আর যা কথা দিয়েছি তা রাখবো।’

কিন্তু গত ৮ ডিসেম্বর সেতুমন্ত্রীর ঘোষিত পক্ষকাল অর্থাৎ ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও শীতলক্ষ্যা নদীতে প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে দেখা মিলেনি ফেরী সার্ভিসের।

কারন অনুসন্ধানে জানাযায়, হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ পয়েন্ট দিয়ে ফেরী সার্ভিস চালুর লক্ষ্যে স্থানীয় নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ একেএম সেলিম ওসমানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে যা যা করনীয় তা করা হয়েছে।

এছাড়াও ফেরীতে যানবাহন উঠানামার জন্য দু’টি ঘাটের সামনে এপ্রোচ সড়ক নির্মানের নকশা প্রস্তুত করে ইতিমধ্যেই সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মেকানিক্যাল উইং বিভাগে প্রেরণ করেছে নারায়ণগঞ্জ সার্কেল সওজ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আলীউল আহম্মেদ।

কিন্তু দু’টি ঘাটের জন্য দু’টি পল্টুন ও ফেরীর সংস্কার কাজ চলায় শীতলক্ষ্যায় ফেরী সার্ভিস চালু করতে বিলম্ব হচ্ছে।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মেকানিক্যাল উইং বিভাগের অতিরিক্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: রফিকুল ইসলাম নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, ‘মন্ত্রী মহোদয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কিন্তু আপাদত প্রথম পর্যায়ে পুরাতন ফেরী সংস্কার করেই হাজীগঞ্জ টু নবীগঞ্জ পয়েন্ট দিয়ে আগামী বছরের পহেলা জানুয়ারী থেকে ফেরী সার্ভিস চালুর প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে নতুন ফেরী আমদানীর টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে গেছে। যা আগামী বছরের জুন নাগাদ প্রাপ্তির পর এখানেও পুরাতনটি পরিবর্তন করে নতুন ফেরী সংস্থাপন করা হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here