নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: চাল-ডাল-পেঁয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ও গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং গৃহকর বাড়ানোর প্রতিবাদে আগামী বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।
আর তাই কেন্দ্রীয় কর্মসূচী পালনে অতীত ধারাবাহিকতা ধরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি। কিন্তু একই স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশের পরিকল্পনা থাকলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং পুলিশের অবস্থান জেনে কর্মসূচী পালনের কৌশল ঠিক করবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি।

কারন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে গত ৩ ডিসেম্বর সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে হাতেগোনা স্বল্প সংখ্যক নেতা নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করতে আসার কারনেই পুলিশের বাঁধার মুখে পড়তে হয়েছিল মহানগর বিএনপিকে।

কারন, তাদের বিক্ষোভ সমাবেশে যতজন না নেতা উপস্থিত ছিলেন, তার চেয়ে বেশী ছিল পুলিশ। যার ফলে বিক্ষোভ সমাবেশ করতে এসে পুলিশের বাঁধার সম্মুখীন হতে হয় মহানগর বিএনপির নেতাদের।

আর তন্মধ্যে মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল সদর মডেল থানার ওসি মীর শাহীন শাহ্ পারভেজের সাথে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের কথা বলে অনুমতি নিলেও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে বার বার ব্যানার দিতে তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও টিপু ভয়ে ব্যানার দিতে দেরী করায় এবং সভাপতি এড. আবুল কালাম পুলিশী ঝামেলা এড়াতে সমাবেশের শেষ সময়ে এসে যোগদান করেই সমাবেশের সমাপনী ঘোষণা করায় আগামীতে সরকার বিরোধী আন্দোলনে মহানগর বিএনপির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তৃণমূণ নেতৃবৃন্দ।

তাই তো বুধবার বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচী পালনের লক্ষ্যে এখন পুলিশের অবস্থান চিন্তা করে কৌশল নির্ধারনের পরিকল্পনা করছে মহানগর বিএনপি।

এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, ‘আমরা নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করবো। পুলিশের অবস্থান দেখে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সব কিছু চুড়ান্ত করা হবে। কারন এর আগের কর্মসূচীতেও আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাই নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করানোর জন্য কোন প্রকার বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি আমরা করবো না।’

তিনি আরো বলেন, ‘গত কর্মসূচীতে পুলিশ আমাদের বলেছিলো কর্মসূচীর আগে অনুমতি নিতে। তাই আমরা মঙ্গলবারেই (১২ ডিসেম্বর) পুলিশকে জানাবো কর্মসূচীর কথা। তাছাড়া পুলিশের মনতো হলো বর্ষাকালের আকাশের মতো, ক্ষণে ক্ষনে তাদের মত পাল্টায়। তাই কর্মসূচীতে জেলা বিএনপি যেটা পেরেছে, সেদিন আমরা তা পারি নাই। তাই জেলা বিএনপিকে আমি কনগ্রেচুলেশন জানাই।’

অপরদিকে, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে গত ৩ ডিসেম্বর বিকেলে শহরের চাষাড়া শহীদ মিনার এলাকা হতে বেশ দাপটের সাথেই সরকার বিরোধী নানা শ্লোগান দিয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এসে বিক্ষোভ সমাবেশ করে যায়।

কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীদের তুলনায় নিজেদের লোকবল কম থাকায় পুলিশ সদস্যরাও তখন নীরব দর্শক বনে যায়! দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বিএনপির নেতৃবৃন্দদের মুখে সরকার বিরোধী নানা শ্লোগান আর ঝাঁজালো বক্তব্য শোনা ছাড়া আর কিছুই করা সম্ভব হয়নি সদর মডেল থানা পুলিশের।

আর তাই সেদিনের ন্যায় বুধবারও কেন্দ্রীয় কর্মসূচী দাপটের সাথেই পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এখন জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দরা বলে জানাযায়।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, ‘আমরা কর্মসূচী অবশ্যই পালন করবো। সভাপতির সাথে কথা বলে সব চূড়ান্ত করা হবে। আন্দোলন সংগ্রামে আমাদের সামর্থের পুরোটা এখনো প্রদর্শণ করিনি। আরো বেশী শক্তি আমাদের হাতে সঞ্চিত আছে, ষ্টেটিজি অনুযায়ী তা আমরা প্রয়োগ করি। এটা আমাদের রাজনীতির একটা কৌশল। আমরা আশা করছি আগের কর্মসূচীর ধারাবাহিকতা এবারেও অক্ষুন্ন থাকবে।’

উল্লেখ্য, রবিবার (১১ ডিসেম্বর) চাল-ডাল-পেঁয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ও গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির এবং গৃহকর বাড়ানোর প্রতিবাদে বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) দেশজুড়ে প্রতিবাদ সভা বা প্রতিবাদ মিছিল কর্মসূচী পালনের ঘোষণা দেয় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here