নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি, সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: মাদক ব্যবসায়ী ও সোর্সদের সাথে সখ্যতা থাকায় জিমিয়ে পড়েছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানের কার্যক্রম। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ হিসেবে আব্দুল সাত্তারের যোগদানের পর কোন সফল মাদক বিরোধী অভিযান নেই। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ এবং সোর্সদের সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক সম্পর্কের কারণেই চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে না। সিদ্ধিরগঞ্জের নয়াআটি মুক্তিনগর এলাকায় (ডাচবাংলা ব্যাংকের উত্তর পাশে) মাদকের অন্যতম বড় ষ্পট নাজমার মাদকের ষ্পটে প্রকাশ্যে ইয়াবা, গাঁজা ফেন্সীডিল বিক্রি করা হলেও পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে না। মাদক স¤্রাজ্ঞী নাজমার ছেলে একাদিক মামলার আসামী রাজুর সাথে রয়েছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের সব চেয়ে বড় কর্তার সাথে মামা-ভাগিনা সম্পর্ক। ওই মাদক ব্যবসায়ী এলাকায় বলে বেড়ায়, মাসে নাকি তার মামাকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে ফেলেছেন। তাই সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কোন পুলিশ অফিসার নাজমার মাদকের ওই ষ্পটে অভিযান পরিচালনা করেন না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ওই ষ্পটে দৈনিক লক্ষাধিক টাকার মাদক বিক্রি হয় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বিভিন্ন এলাকাঘুরে লোকজনের সাথে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যাক্তি বলেন, কি নেই আমাদের এই সুন্দর সিদ্ধিরগঞ্জে। ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, বাংলা মদ ও হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকের ছড়াছড়ি। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জের ১০টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় শতাধিক স্পটে অবাধে বিক্রি চলছে এসব মাদকদ্রব্য। সহজলভ্য হওয়ায় এলাকার যুবসমাজ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এতে উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা।

ইতিপূর্বে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, ডিবি পুলিশ মাদক বিরোধী অভিযান চালালেও এখন তা আর চোখে পড়ে না। তবে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আঃ সাত্তার দাবী করেছেন, থানা পুলিশ প্রতিনিয়তই মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। তবে উল্লেখ্য যোগ্য কোন মাদক উদ্ধার নেই তথ্য দিতে পারেনি।

অন্যদিকে সিদ্ধিরগঞ্জে র‌্যাব-১১ এর প্রধান কার্যালয়। কিন্তু মাদক উদ্ধার বা মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে র‌্যাবের তৎপরতাও তেমন চোখে পড়েনি। অপর দিকে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা চোখে টিনের চশমা পড়ে বসে আছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

দেশের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত দিয়ে সড়ক, মহাসড়ক এবং মেঘনা ও শীতলক্ষ্যা নদীপথে মাদকের চালান নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকায় প্রবেশ করে। এসবের একটি অংশ সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ও খুচরা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে মাদক নিয়ন্ত্রকরা তাদের নিজস্ব লোক দিয়ে পৌঁছে দেয় বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

নাসিক ৪নং ওয়ার্ডের শিমরাইলের বন্ধকৃত তাঁতজুট মিল এলাকা, কাঁচপুর সেতু সংলগ্ন এলাকাসহ অন্তত ১০টি স্পটে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হচ্ছে। এখানে আলোচিত একটি স্পটে মা ও মেয়ে হেরোইন বিক্রি করছে। আটিওয়াপদা কলোনি এলাকায় ৮টি স্পটে মাদক বিক্রি হচ্ছে। এখানে বাংলা মদ বিক্রি করছে এক নারী মাদক ব্যবসায়ী। সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিং, আজিবপুর, কলাবাগ, আউলাবন ও সিদ্ধিরগঞ্জ রেললাইন এলাকায় ৬টি স্পটে মাদক বিক্রি হচ্ছে। এখানে এক নারী মাদক স¤্রাজ্ঞাী দীর্ঘদিন যাবত মাদক বিক্রির পাশাপাশি নকল স্বর্ণ ও জাল টাকা বিক্রি করারও অভিযোগ রয়েছে।

এ স্পটে এক মাদক ব্যবসায়ী খুন হলে কিছুদিন বন্ধ থাকার পর পুনঃরায় একই ব্যবসা একই ব্যক্তি কর্তৃক অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ৫নং ওয়ার্ডের সাইলো গেট ও ওমরপুর রেললাইন রয়েছে মাদকের একাধিক ষ্পট। এদিকে শ্রমিক অধ্যুষিত ৭নং ওয়ার্ডের কদমতলী এলাকায় মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে। এখানেও পুরুষের পাশাপাশি নারী বিক্রেতা রয়েছে। বিশেষ করে কদমতলী উত্তরপাড়া, ভূইয়া সিটি, কাশেমপাড়া এবং ৬নং ওয়ার্ডের বার্মা স্ট্যান্ড, এসও রোড, চরশিমুলপাড়া, আদমজী বিহারী কলোনি, নাভানা সৈয়দ পাড়াসহ অন্তত ২৪টি স্থানে ফেনসিডিল, ইয়াবা, মদ, গাজা বিক্রি হচ্ছে। সিদ্ধিরগঞ্জের ৮নং ওয়ার্ডের চৌধুরী বাড়ি, এনায়েতনগর, ধনকুন্ডা, তাঁতখানা এলাকায় রয়েছে ছোট বড় ১২টি মাদকের ষ্পট। ওই মাদকের ষ্পটগুলো নিয়ন্ত্রনের নেপথ্যে রয়েছে এক যুবলীগ। অন্যদিকে ৯নং ওয়ার্ডের জালকুড়ি, নাইন্তারপাড়া ও মধুঘর এলাকায় রয়েছে কয়েকটি ফেন্সডিল ও ইয়াবার ষ্পট। এছাড়াও ১০ নং ওয়ার্ডের রয়েছে ছাত্রলীগের সাবেক নেতার বিরুদ্ধে শেল্টার দিয়ে একক ভাবে মাদক নিয়ন্ত্রনের অভিযোগ রয়েছে। গোদনাইল, বাগপাড়া, এসিআই পানির কল, মীরপাড়া, কুলুপাড়া, আরামবাগ, লক্ষীনারায়ন, জিএমসি মিলস, চিত্ররঞ্জন কটন, জাইল্লাপাড়াপুলসহ ১০টি ষ্পট রয়েছে।

১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের মিজমিজি পূর্বপাড়া, মিজমিজি বাতানপাড়া, পাইনাদী নতুন মহল্লা, পাইনাদী পূর্ব, সিআইখোলা, হিরাঝিল, বউবাজার, চিটাগাংরোড ডাচবাংলা ব্যাংকের উত্তর পাশে, নায়াআটি মুক্তিনগর, রসুলবাগ, নিমাইকাশারী, আদর্শনগর. বটতলা, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে সানারপাড় লন্ডন মার্কেট, বাগমারা, মাদানীনগর, মৌচাক, সাহেবপাড়া, মিতালী মার্কেট, মিজমিজি দক্ষিনপাড়া, মিজমিজি চৌধুরীপাড়া, মিজমিজি আবদুল আলীরপুল ও ধনুহাজীরোড এলাকা ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় এসব এলাকার অন্তত অর্ধশতাধিক ষ্পটে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে মাদক। এসব এলাকার বাসিন্দারা জানায়, মাদক দ্রব্য সহজলভ্য হওয়ায় এলাকার উঠতি বয়সের যুবকরা মাদকের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে। এতে চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে অভিভাবকরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মাদক ব্যবসায়ীনাও জানায়, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে মাদক ব্যবসা করছেন, তাই কোনো সমস্যা হয় না।

এ বিষয়ে কথা হলে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সাত্তার জানান, প্রতিদিনই আমরা মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছি। মাদকের বিষয়ে আমরা কাউকে ছাড় দিবো না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here