নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: দীর্ঘ আন্দোলন সংঘাতের পর কোন উপায়ান্তর না পেয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মালামাল নিয়ে ফুটপাতে বসেও শান্তিতে আর মালামাল বিক্রি করার সুযোগ হলো না হকারদের।
মাল বিক্রির আশায় ফুটপাতে বসে উল্টো জরিমানা গুণতে হবে এখন হকারদের।

শুক্রবার (২৩ মার্চ) বিকেলে নগরীর বি.বি রোডস্থ ২নং রেলগেট এলাকা থেকে চাষাড়া পর্যন্ত দু’পাশের ফুটপাতে থাকা হকারদের ভাগ্যে এমন ঘটনাই ঘটে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনসহ প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা স্বত্তেও বি.বি রোডের ফুটপাতে বসায় এদিন হকারদের উচ্ছেদ করে মালামাল জব্দ করে নিয়ে যান সদর মডেল থানায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) জামান।

ফুটাপাতে বসে উচ্ছেদের স্বীকার একাধিক হকার জানান, শুক্রবার বন্ধের দিনে আমরা কিছু মাল লইয়্যা ফুটপাতে বইছিলাম। কিন্তু কই থেইক্যা পুলিশ অইয়্যা আমাগো সব মাল লইয়া চইলা গেল। মাল বেইচ্চা লাভ করমু তো দূরের কথা অহন উল্টা জরিমানা গুণতে হইবো আমাগো।


এসময় আক্ষেপের সুরে আরো কয়েকজন ভুক্তভুগী হকার বলেন, আমরা তো চুরি ডাকাতি করি না। সপ্তাহে দুইডা দিন ফুটপাতে বইতে চাইছিলাম। কিছু মাল বেইচ্চা বউ পোলপাইনের মুহে খাওন দিতে চাইছিলাম। এইডাই কি আমগো অপরাধ?

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর থেকে প্রশাসনের টানা উচ্ছেদ অভিযানের কারনে ফুটপাতে বসার সুযোগ না পেয়ে আন্দোলনে নামেন হকাররা। এরপর কোথাও উপায়ান্ত না পেয়ে সাংসদ শামীম ওসমানের নির্দেশক্রমে গত ১৬ জানুয়ারী নগরীর ফুটপাতে হকার বসাকে কেন্দ্র করে চাষাড়ায় সাংসদ শামীম ওসমান, হকার এবং মেয়র আইভী গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে মেয়রসহ প্রায় অর্ধশত ব্যাক্তি আহত হয়েছিলেন। রণক্ষেত্রে পরিনত হয়েছিল নগরী।

এরপর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান, জেলা প্রশাসক মো: রাব্বী মিয়া ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে বৈঠক করে হকার নেতবৃন্দ প্রতি সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার হলিডে মার্কেটের মত বিবি রোডের ফুটপাতে মালামাল বিক্রির দাবী জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিবি রোডে হকারদের কোন ক্রমেই বসতে না দেয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থানে থাকেন সিটি মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী।

যার প্রেক্ষিতে নাসিকের উচ্ছেদ কর্মী ও পুলিশ প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিবি রোডের ফুটপাতে সুযোগ বুঝে মালামাল বিক্রির চেষ্টা চালিয়ে যান হকাররা। কিন্তু শুক্রবার আর শেষ রক্ষা হয়নি তাদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here