নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: প্রায়ই পুলিশী বাঁধার মুখে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের দলীয় কর্মসূচী পালন করতে হলেও বুধবারের দৃশ্যপটটা ছিল একেবারেই ভিন্ন।
নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেল ৩ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দরা বিক্ষোভ সমাবেশ করলেও তাতে তেমন বাঁধা আসেনি পুলিশের পক্ষ থেকে।

প্রেসক্লাবের সিঁড়িতে পিছনের সারিতে দাঁড়িয়ে সমাবেশ করেন মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দরা। আর সামনের সারিতে অস্ত্র হাতে ঢায় দাঁড়িয়ে ছিলেন পুলিশ সদস্যরা। যা দেখে কয়েকজন পথচারী মন্তব্য করেন, বিএনপি নেতাদের পুলিশ ব্যারিকেড নয়, যেন প্রটেকশন দিচ্ছেন!

মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ আবুল কালাম এর সভাপতিত্বে এ বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম মজনু, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টু, এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আওলাদ হোসেন, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক আবুল কাউছার আশা।

এ সময় এড. আবুল কালাম বলেন, আমরা ৭৪ এর দুর্ভিক্ষ দেখেছি। সেটার পুনরাবৃত্তি হউক সেটা আমরা কেউই চাই না। কিন্তু এই অবৈধ সরকার দিন দিন অন্যায় ভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের দাম বৃদ্ধি করে তা জনগনের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। তাতে করে ৭৪ এর সেই দিন আবারও আসছে। আমি সরকারের প্রতি আহবান করবো সামনে জাতীয় নির্বাচন সেই দিক খেয়াল রেখে হলেও দ্রব্য মূল্যের দাম মানুষের সহনীয় অবস্থায় নিয়ে আসুন। সেটা হয়তো নির্বাচনে আপনাদের জন্য কিছুটা হলেও উপকারে আসবে। আপনারা জন-বিছিন্ন হয়ে পরেছেন। এখনো সময় আছে জন-কল্যান মুখী কাজে নিজেদেরকে ব্যবহার করুন। আপনাদের এই মূল্য বৃদ্ধির চাপ শিক্ষার উপরও পরছে। কারন খেটে খাওয়া মানুষ গুলো সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে ছেলে মেয়েদের পড়াশুনার খরচ কোথায় পাবে।।

এ সময় প্রশাসনের উদ্দেশ্যে কালাম বলেন, আপনারা জনগনের সেবক হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন কিন্তু আচরন সেটা প্রমান করছে না। প্রেসক্লাবের মত একটি জায়গায় দেশ ও জনগনের অধিকার আদায়ের জন্য কথা বলতে গিয়েও আপনাদের বেষ্টনীর মধ্যে আমাদের থাকতে হচ্ছে। আপনাদের কর্মকান্ড দেশের মানুষের কাছে প্রশ্নবৃদ্ধ হচ্ছে।

মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন, দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে এই বিজয়ের মাসেও দেশের প্রয়োজনে বিক্ষোভ করতে হচ্ছে। বাংলার মানুষের স্বাধীনতার জন্য দেশ স্বাধীন করলেও সেই স্বাধীনতা এখন আর নেই। এই অবৈধ সরকার মানুষের মৌলিক চাহিদা থেকে শুরু করে, গুম, খুন, হত্যা, নির্যাতন-নিপিড়ন, বাক-স্বাধীনতা, ভোটাধিকার সব কিছুই ছিনিয়ে নিয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যে রাজনৈতিক দল নেতৃত্ব দিয়েছিলো তারই আজ এই কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। জাতির বিবেক সাংবাদিকদের স্থান প্রেসক্লাবেও আজ আমরা প্রতিবাদ করতে পারছি না। জনগন যদি সুষ্ঠ নির্বাচনের পরিবেশ পায় তাহলে এটার উচিৎ জবাব ব্যালটের মাধ্যমে দিবে। সেখানে আওয়ামীলীগ ৩০টি আসনও পাবে না।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মহানগর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মনির, বিএনপি নেতা আরিফ আহম্মেদ গোগা, পিয়ার হোসেন, সুজন হোসেন, মাসুদুর রহমান মাসুদ, সোলেমান, আনোয়ার হোসেন আনু, আব্দুর রহমান, মহাম্মদ হোসেন কাজল, জাহাঙ্গীর মিয়াজী, হাফিজ, ফরিদ, এড. আব্দুল মতিন, মহানগর যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক মনোয়ার হোসেন শোখন, যুবদল নেতা নাজমুল হক রানা, বরকত উল্লাহ, রোমান, মহানগর শ্রমিক দলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মনির মল্লিক, সদস্য সচিব আলী আজগর, ফজলুল হক, হারুণ শেখ, নুর মোহাম্মদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মাকিদ মোস্তাকিম শিপলু প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here