নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: যেই পুলিশ সোর্স দিয়ে অপরাধ দমন করা হয় সেই পুলিশ সোর্সরাই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ যেন শর্ষেতে ভূত! কার্যত এখন পুলিশ সোর্সরাই চালাচ্ছে ফতুল্লা থানার কার্য্যক্রম। ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ কর্মকর্তারা হয়ে পড়ছেন সোর্স নির্ভরশীল। ফতুল্লা পুলিশের সোর্সদের দৌরাত্ব হয়রানি, চাঁদাবাজি উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। এতে থানা পুলিশের ভাবমূর্তি মারাত্মক ক্ষুণœ হচ্ছে। সোর্সদের দৌরাত্বে থানার কার্যক্রম বেহাল হয়ে পড়েছে।

ফতুল্লা থানার সোর্সরাই এখন বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজিতে নেমে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দেন। আর এ ক্ষেত্রে থানা এলাকার সাধারণ মানুষ তাঁদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এলাকার ফুটপাথের দোকান থেকে চাঁদাবাজি, জমি দখল নিয়ে মধ্যস্থতা, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোয়ারা আদায়,সোর্সদের দাবিকৃত মাসোয়ারা প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করানো এমনকি সোর্সদের মধ্যস্থতায় ছাড়ানো থেকে শুরু করে সব ধরনের সিদ্ধান্তই নিচ্ছে সোর্সরা।

ফতুল্লা থানার এলাকা গুলোতে এখন পুলিশের চেয়ে সোর্সদের দৌরাত্ব বেশি হয়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে এই সোর্সরাই থানার ওসির ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। অনেক সোর্স মামলার আসামিদের পক্ষ নিয়ে পুলিশের নাম পরিচয় ব্যবহার করে বাদীকে হুমকি দেন। মূলত থানা চালাচ্ছেন পুলিশ সোর্সরা এমনটাই অভিযোগ ফতুল্লার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকজন।

ফতুল্লা থানা এলাকার যে সকল সোর্সদের দৌরাত্ব বেশি তাদের মধ্যে অণ্যতম ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকার সুরুজ্জামান ওরফে চায়না, সেলিম, পারভেজ, জাহাঙ্গীর, রাসেল, হরিহর পাড়া আমতলা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বর্তমানে পুলিশ সোর্স আকাশ, পাপ্পু, শান্তিনগর এলাকার, শান্ত, ভোলাইল এলাকার জলিল, কাদির, ওয়াসিম, সহিদ, মাসদাইর এলাকার দিলীপ, ল্যাংড়া মান্নান, শান্ত, কাইল্যা রিপন, পাগলা এলাকার লিয়াকত, আনার, আলমগীর, লিটন, শিবুমার্কেট এলাকার শিবু, নাসির, লিমন, সাথী, জাহাঙ্গীর, ধর্মগঞ্জ এলাকার আলম, হাসান, জহির, রবিউল, কাশিঁপুর এলাকার মাহাবুব, শাহীন, পঞ্চবটি এলাকার পাপ্পু, জাহাঙ্গীর, কাইল্যা মাহাবুব, ইব্রাহীম, আবু, বোছা সোহেল, এতিম খানা এলাকার সাদ্দাম, শাহাদাত, খলিল, নাছির, নবীনগর এলাকার সফিক, বক্তাবলী এলাকার আলমগীর, রাসেল, শাহীবাজার এলাকার মাহাবুব, জুয়েল, লিটন।

এ সকল সোর্সরা ফতুল্লার বিভিন্ন মাদক স্পট,ঝুট সন্ত্রাস,তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসীসহ বিভিন্ন অপরাধীদের হয়ে কাজ করে থাকে।

সন্ত্রাসীদের তথ্য অনুয়ারী আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের মি গাইডের মাধ্যমে সাধারন মানুষকে হয়রানী করা থেকে শুরু করে নানা ভাবে ব্ল্যাক মেইলিং করে আসছে দীর্ঘদীন ধরে। এমনকি ফতুল্লা মডেল থানার কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য বিক্রি করে আসছে বলেও উঠেছে অভিযোগ।

সূত্রে জানা যায়, ফতুল্লার বক্তাবলী এলাকায় বসবাস সুরুজ্জামান ওরফে চায়না নামক এক সোর্সের বাড়ী। সোর্স চায়না দীর্ঘদীন ধরে ফতুল্লা থানা পুলিশ সদস্যদের সাথে সোর্সের কাজ করে আসছে। পুলিশের সাথে গভীর সখ্যতা থাকায় স্থাণীয় একাধিক মাদক ব্যবসায়ীদৈর কাছ থেকে আর্থিকভাবে সুবিধা নিয়ে আসছে দীর্ঘদীন ধরে। সোর্স সুরুজ্জামান ওরফে চায়নার চাহিদা মোতাবেক মাসোয়ারা না দিলে নানা ভাবে হয়রানী করারও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি সোর্স চায়না নিজেও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদক ব্যবসা ছেড়ে বর্তমানে গার্মেন্টে কর্মরত এক ব্যাক্তি জানান, এক সময় সে মাদক বিক্রির সাথে জড়িত ছিল। এখন আর সে মাদক ব্যবসা করেন না। বিসিক এলাকায় অবস্থিত একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করে। গত কয়েকদিন ধরে পুলিশ সোর্স চায়না তার কাছে মাসোয়ারা দাবি করে। দাবিকৃত মাসোয়ারা দাবিকৃত অপরাগতা প্রকাশ করাসহ মাদক ব্যবসার সাথে সে জড়িত নয় দাবি করলেও নানা ভাবে সোর্স চায়না লোকটিকে ভয় দেখাচ্ছে। সোর্স সুরুজ্জামান চায়নার ভয়তে বর্তমানে ঐ লোকটি পলাতক রয়েছে বলে তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন।

এমনকি কথিত সোর্স জাহাঙ্গীর এবং সাথী নামের দুই সোর্স প্রতিপক্ষের লোকজনদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে ফতুল্লা মডেল থানার এস আই আমিনুলকে দিয়ে ব্যবসায়ী শামীম আহাম্মেদকে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার করান। এ সময় পুলিশ শামীমকে না পেয়ে শামীমের দুই বন্ধুকে গ্রেফতার করলেও কোন ধরনের মাদক পাননি। তারপরেও এস আই আমিনুল শামীমের দুই বন্ধুকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে এবং ৪৫ হাজার টাকার বিনিময়ে থানা থেকে ছেড়ে দেন।

এস আই আমিনুলের অত্যাচারসহ মিথ্যা মামলার হুমকিতে এস আই আমিনুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করেছেন। একই অবস্থা বিরাজ করছে ফতুল্লার সর্বত্র। বর্তমানে ফতুল্লা থানার রাজত্ব সোর্সদে দখলেই বলা চলে। এদিকে ফতুল্লা মডেল থানার বিচক্ষন ওসি কামাল উদ্দিন থাকার পরেও পুলিশ সোর্সদের এমন অত্যাচার কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না ফতুল্লাবাসী। ফতুল্লাবাসী মনে করেন, পুলিশ সোর্সদের বিতর্কিত কর্মকান্ডে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। তাই বিতর্কিত উল্লেখিত সোর্সদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা পুলিশ সুপারের জরুরী ভিত্তিতে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি কামাল উদ্দিন জানান, সোর্সদের বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ করেননি। তবে সুনিদিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যেহেতু সোর্সদের বিষয়ে বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি আশ্বস্থ করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here