নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বাতাসে পূজোর গন্ধ। যতদূর চোখ যায়, কেবল কাশফুল আর কাশফুল। দিনের দিগন্তজোড়া চনমনে রোদ, আকাশজুড়ে পেঁজা তুলার সাদা মেঘের মানচিত্র, মাঝে মধ্যে বৃষ্টির তোড়জোড় এই হলো শরৎকাল। শরৎকালে প্রকৃতির এই অপরূপ মোহনীয় রূপের সঙ্গে বাতাসে এখন ভেসে বেড়াচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজ।
কেননা, সিঁদুররাঙা আমেজ নিয়ে মনদুয়ারে যে কড়া নাড়ছে শারদীয় দূর্গাপূজা। চারদিকে চলছে এখন পূজোর প্রস্তুতি। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে পাঁচদিন ব্যাপী সনাতন ধর্মালম্বীদের সেই সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গা পূজা।

উৎসব মানেই নতুন পোশাকের আনন্দ! সঙ্গে মানানসই সাজ। তাইতো উৎসবকে সামনে রেখে সব বয়সী সনাতনী ধর্মাবলম্বীরা নতুন পোশাক কেনার জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শপিং মল থেকে বিপনী বিতান।

শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর ডিআইটি থেকে চাষাড়া পর্যন্ত বিভিন্ন শপিং মল, বিপনী বিতান ঘুরে দেখাগেছে, দূর্গোৎসবের দিনের বেলায় পূজার আচার অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণের লক্ষ্যে পোশাক হিসেবে রেডিমেড ধূঁতি-পাঞ্জাবী কিনতে আকৃষ্ট হচ্ছেন পুরুষেরা। আর নারীরা ঢু মারছেন বুটিক শপসহ বিভিন্ন শাড়ীর দোকানে।

শহরের চাষাড়াস্থ বেইলী টাওয়ার ও শান্তনা মার্কেটে গিয়ে দেখাগেছে, ফ্যাশন হাউসগুলো পূজা উপলক্ষে তাদের কালেকশন সাজিয়েছে বর্ণিলভাবে। ত্রিশূল, দেব-দেবীর অবয়ব, ওম লেখাসহ বিভিন্ন পূজার মোটিফ শোভা পাচ্ছে পোশাকের ক্যানভাসে। রঙেও আছে বৈচিত্র। লাল, কমলা, হলুদ, সাদা, বেগুনী, ম্যাজেন্টা, গোলালী রংগুলো বেশ দেখা যাচ্ছে।

ফ্যাশন হাউস ঘুরে দেখা যায়, পাঞ্জাবীর গলায় এবার ব্যান্ড কলার, শার্টের কলার ছাড়াও সাদামাটা কাট বেশ চলছে। তরুণদের জন্য পকেটসহ পাঞ্জাবীতে কাঁধের ওপর জুড়ে দেওয়া হয়েছে বেল্ট। কোনো কোনো পাঞ্জাবীর কনুই ও কাঁধে কাজ করা হয়েছে। সূতার কাজ ছাড়াও ভিন্ন কাপড়ের প্যাচওয়ার্ক, মেশিন এম্ব্রয়ডারী, ব্লক বেশ চলছে।

কেউ কেউ রাতের বেলায় প্রতিমা দর্শনে বের হওয়ার সময় পরিধানের উপযোগী খাদি সিল্ক, তসরের ওপর ভারী এম্ব্রয়ডারী কাজ করা পাঞ্জাবীও কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ফতুয়া বা শার্ট কিনছেন। আবার অনেককে পছন্দের কাপড় কিনে টেইলার্সে শার্ট, প্যান্ট ও পাঞ্জাবী বানাতে দেখা গেছে।

অপরদিকে, ফ্যাশন হাউজ গুলোতে আন্তর্জাতিক ফ্যাশনকে মাথায় রেখে তরুনীদের আকৃষ্ট করতে সূতি, গরদ, জামদানী, তাঁত, তসর ইত্যাদি ট্র্যাডিশনাল ফ্যাব্রিক ব্যবহার করে পূজার পোশাক ও শাড়ীতে ডিজাইন করা হয়েছে।

লাল পেড়ে সাদা শাড়ীর জমিনে অথবা গেরুয়া শাড়ীর আঁচলে পূজাভিত্তিক কিছু মোটিফ প্রিন্ট বা ব্লক করা হয়েছে। মাঝবয়সীদের জন্য তাঁতের শাড়ীতে চওড়া পাড় আর গোল্ডেন জরির ব্যবহার এবং জামদানীর বুনন ও রঙে বৈচিত্র আনা হয়েছে।

এছাড়াও নগরীর বিভিন্ন শাড়ীর দোকানে পূজা উপলক্ষ্যে ভারতের চেন্নাই, কলকাতা, ব্যাঙ্গালোর, দিল্লি ও জয়পুর থেকে বিভিন্ন রঙ ও ডিজাইনের শাড়ী বিক্রি করতে দেখা যায়। এগুলোর মধ্যে ‘ক্যাটলগ’ নামের শাড়ী ভালোই সাড়া ফেলেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

এ শাড়ীর বিশেষত্ব হল পাড়ের মধ্যে বুটিকসের চোখ ধাঁধানো কাজ। মানভেদে এসব শাড়ীর দাম রাখা হয়েছে ৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা। এছাড়াও আছে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা মূল্যের কাঞ্চিভরম, ২ থেকে ২০ হাজার টাকা মূল্যের চেন্নাই কাতান, বেনারস কাতান, বেঙ্গালুরু সিল্কসহ বিভিন্ন ডিজাইনের তাঁতের শাড়ী। যেগুলোর দাম রাখা হচ্ছে ১ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে।

চাষাড়া এলাকার বুটিক শপের মালিক বিদ্যুৎ সাহা জানান, দূর্গোৎসবের মূল আনন্দ হচ্ছে মন্দিরে মন্দিরে গিয়ে দেবী দর্শন ও পূজার আচার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ। আর তাই পূজোর দিন গুলোতে ছেলেদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন ডিজাইনের পাঞ্জাবী ও নারীদের জন্য শাড়ী প্রস্তু করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here