নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: দেরীতে হলেও অবশেষে পূর্ণাঙ্গ হয়েছে ক্ষমতাসীন দল নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ। আর পূর্ণাঙ্গের পরিবর্তে ফের পুনর্গঠিত হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি।
যার ফলে ক্ষমতাসীন দলের তৃণমূলে পূর্ণাঙ্গতার উচ্ছাস বিরাজ করলেও বিরোধী দল বিএনপির মূল নেতৃত্বে বিরাজ করছে ক্ষোভ।
জানাগেছে, বিগত ২০১৩ সালে আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেনকে সভাপতি এড. খোকন সাহাকে সাধারন সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটি অনুমোদনের পর ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর ঘোষিত হয়েছিল মহানগর আওয়ামীলীগের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি।

আর গত বছরের ৯ অক্টোবর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইকে সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীকে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদলকে সাধারন সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণার পর আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দীর্ঘ একবছর যাবত যাচাই বাছাই শেষে গত ২৫ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের ৮১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারীতে কাজী মনিুরুজ্জামানকে সভাপতি ও অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে সাধারন সম্পাদক করে জেলা বিএনপি এবং এড. আবুল কালামকে সভাপতি ও এটিএম কামালকে সাধারন সম্পাদক করে মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হলেও বিতর্কিত ব্যাক্তিদের কমিটিতে স্থান দেয়া, মূল দলের সাথে অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দদের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টিসহ নানাবিধ স্থবিরতার কারনে পূর্ণাঙ্গের পরিবর্তে আংশিক কমিটিই ফের পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

মূলত দলের মধ্যে থাকা কোন্দল সৃষ্টিকারী, নিষ্ক্রিয় ও সংগঠনের স্বার্থবিরোধী কাজে লিপ্ত নেতাদের এবার কোণঠাসা করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলের হাই কমান্ড।

তবে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল পুনর্গঠনের আওতামুক্ত থাকছেন।

অথচ, জেলা ও মহানগর বিএনপির এই নেতৃত্বকে নিয়েই দলটির শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নানা অভিযোগ রয়েছে। তাই এই ৪ জনকে বাদ দিয়ে যদি জেলা ও মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়, তাহলে দলের মধ্যে কোন পরিবর্তন আসবেনা বলে মন্তব্য করেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দরা।

দলের কেন্দ্রীয় একটি জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি নিয়ে নানা অভিযোগ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই আসতে থাকে। এসব অভিযোগ মহাসচিবের কাছেও যায়। দলীয় প্রধানের কাছেও এসব অভিযোগের নথি পাঠানো হয়। তাই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি ব্যর্থতা ঘুঁচাতে শীর্ঘই আংশিক কমিটিই পুনগর্ঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।

উল্লেখ্য, মহানগর বিএনপির ২৩ সদস্যের মহানগর কমিটিতে সহ-সভাপতি হলেন, এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, নুরুল ইসলাম সরদার, আতাউর রহমান মুকুল, হাজী নূরউদ্দিন, এড. জাকির হোসেন, এড.সরকার হুমায়ূন কবির, ফখরুল ইসলাম মজনু, বেগম আয়েশা আক্তার।

যুগ্ম সম্পাদক ২ জন হলেন, আজহারুল ইসলাম বুলবুল ও মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। সাংগঠনিক সম্পাদক তিনজন হলেন আবদুস সবুর খান সেন্টু, ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু ও আবু আল ইউসুফ খান টিপু।

সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আওলাদ হোসেন, মনিরুল ইসলাম সজল, মাহাবুবউল্লাহ তপন। কোষাধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মনির। দপ্তর সম্পাদক হান্নান সরকার ও প্রচার সম্পাদক সুরুজ্জামান।

আর ২৬ সদস্যের জেলা কমিটিতে সহ-সভাপতি হলেন শাহ আলম, খন্দকার আবু জাফর, জান্নাতুল ফেরদৌস, শাসমসুজ্জামান, আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, আজহারুল ইসলাম মান্নান, আবদুল হাই রাজু, মনিরুল ইসলাম রবি, ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদ ও লুৎফর রহমান।

যুগ্ম সম্পাদক লৎফর রহমান খোকা, এম এ আকবর। সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, নজরুল ইসলাম পান্না, মাসুকুল ইসলাম রাজীব।

সহ সাংঠনিক সম্পাদক উজ্জল হোসেন, এড. মাহমুদুল হাসান ও রুহুল আমিন শিকদার। সদস্য হলেন, সাবেক এমপি রেজাউল করীম, গিয়াস উদ্দিন, বদিরউজ্জামান খান খসরু, নজরুল ইসলাম আজাদ, আতাউর রহমান আঙ্গুর ও মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here