নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: পথিমধ্যে প্রতিবন্ধকতার শংকা নিয়েই কেন্দ্রের ‘গুডবুকে’ স্থান পাওয়ার লক্ষ্যে নিজ বলয়ের অনুগামী নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢাকা যাত্রা শুরু করেছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীতে সমাবেশ করছে আজ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।

রবিবার (১২ নভেম্বর) দুপুর ২ টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।

তাই দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কেন্দ্রীয় সমাবেশে ব্যাপক লোক সমাগম ঘটাতে এবং কোন রকম প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি না হওয়ার লক্ষ্যে তাই একদিন আগে অর্থাৎ শনিবার থেকেই শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতা ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। আর অনুগামী নেতাকর্মীদের যথাসময়ে সমাবেশস্থলে থাকতে দিয়ে যান বিভিন্ন দিক নির্দেশনা।

তবে রবিবার সকাল থেকেই দলবদ্ধ ভাবে সমাবেশে যোগদানের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা যাত্রা করবে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা বলে জানান, জেলা ও মহানগর বিএনপির একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা। বাস, ট্রাক, ট্রেনে যে যেভাবে পারবেন, সেভাবেই যাবেন ঢাকা।

কিন্তু যাত্রা পথে নির্দিষ্ট পরিমানে যানবাহন না পাওয়াসহ বিভিন্ন ভাবে সরকারী দলের নেতাকর্মীসহ পুলিশ প্রশাসনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির আশংকাও করছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।

তাদের দাবী, যেহেতু সমাবেশ লোক সমাগম ঘটানোর লক্ষ্যে কেন্দ্র থেকে নারায়ণগঞ্জে নেতৃবৃন্দদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, সেহেতু বিএনপির নেতাকর্মীদের নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথেই নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হবে। কিন্তু যত প্রতিবন্ধকতাই আসুক না কেন, শত প্রতিকূলতা পেরিয়েই ঢাকায় বিএনপির সমাবেশে স্বত:স্ফূর্ত ভাবে যোগদান করবেন নেতাকর্মীরা।

এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, ‘১২ নভেম্বরের সমাবেশে ব্যাপক লোক সমাগমের মাধ্যমে অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করবে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি। দীর্ঘ আড়াই বছর পর বিএনপি চেয়ারপার্সন জনসমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। আগামী নির্বাচন ইস্যুতে নেতাকর্মীদের করনীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিতে পারেন। তাই ঢাকা যাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির শংকা থাকলেও আশা করছি এবার সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। তারা বিএনপির শান্তিপূর্ন সমাবেশে নেতাকর্মীদের যাত্রাপথে কোন বাঁধার সৃষ্টি করবে না।’

তবে মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামালের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে, এই সমাবেশে ব্যাপক লোক সমাগম ঘটানোর গুরু দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই কয়েকদিন যাবত বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে দফায় দফায় মিটিং করাসহ ব্যস্ত সময় পার করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।

কারন, রাজধানীর নিকটবর্তী জেলা হওয়ার সুবাদে নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকেই সমাবেশ ব্যাপক লোক সমাগম ঘটানো সহজতর হবে, তাই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির সভাপতি সাধারন সম্পাদককে ঢাকায় তলব করে নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা।

শুধু মহাসচিবই নয়, গত ৯ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জে এসে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সভাপতি শাহজাহান, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দদের সাথে সমাবেশে লোক সমাগম ঘটানোর লক্ষ্যে প্রস্তুতি মূলক সভা করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে জনসমুদ্রে পরিনত প্রত্যাশা ব্যক্ত করে যান।

এছাড়াও, একইদিন মহানগর যুবদলের নেতৃবৃন্দের সাথেও প্রস্তুতি মূলক সভা কওে যান কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও সাধারন সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তখন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের আশ^স্ত করার পাশাপাশি সমাবেশে বিপুল লোক সমাগমের লক্ষ্যে যুবদলের নেতৃবৃন্দদের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেন মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

তাই তো সমাবেশকে জনসমুদ্রে পরিনত করতে যেই প্রত্যাশা করেছিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা, তা পূরণে প্রস্তুতি নিয়ে ঢাকা যাত্রা শুরু করেছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতৃবৃন্দরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here