নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ হবে আগামী ১০ ডিসেম্বর আর ঐদিনই ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার ঘোষনা দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। একই দিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হওয়ায় তাই বিপাকে পড়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। তবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যাণে জনসভার ঘোষনা দিলেও এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় প্রতীক বরাদ্দের দিকেই বেশী মনযোগী রয়েছেন তারা।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আগামী ১০ ডিসেম্বর সোমবার বেলা ২ টায় ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এদিকে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ হবে আগামী ১০ ডিসেম্বর আর প্রতীক বরাদ্দের সাথে সাথেই শুরু হয়ে যাবে নির্বাচনের মূল আনুষ্ঠিকতা। এদিন থেকে শুরু করে পরবর্তী ২০ দিনের প্রচার প্রচারনায়ই মিলবে প্রার্থীদের জয়ের মালা। তাই ১০ ডিসেম্বর প্রতীক পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুণছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ ১০ বছর পরে জাতীয় নির্বাচনের উত্তেজনায় উজ্জিবীত নেতাকর্মীরা ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে নামার পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সে মুহুর্তে ঢাকার জনসভায় অংশ নেওয়াটা সম্ভব হবে কিনা আর অংশ নিলেও পুলিশী হামলা মামলার শিকার হলে নির্বাচনে এর কি প্রভাব পরবে তাই ভাবনার কারন হয়ে দেখা দিয়েছে। তাছাড়া জনসভায় অংশ নিলে নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন হওয়ার ঝুঁকিও থেকে যায়।

সূত্রে প্রকাশ, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ থেকে বিএনপি’র মনোনয়ন পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকার, বর্তমান সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ-২ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ ও আড়াইহাজার থানা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুর রহমান সুমন, নারায়ণগঞ্জ-৩ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ-৪ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি মো: শাহ আলম এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ থেকে বিএনপি’র মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক এমপি এড. আবুল কালাম আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে এ আসনে ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছেন নাগরিক ঐক্যের এসএম আকরাম ও ২০ দলীয় জোট থেকে সাম্যবাদী দলের কমরেড সাইদ আহমেদ।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর থেকেই মনোনয়ন পত্র ক্রয়, জমা ও যাচাই বাছাই পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ অত্যান্ত সতর্কতার সাথে পালন করে এসেছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র প্রার্থী ও সমর্থকরা। এ সময়ের মধ্যে নানা বাঁধা বিপত্তি পার হয়ে নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র সম্ভাবনা টিকিয়ে রেখেছেন তারা। এখন সামান্য ভুলে তা আর হারাতে চাননা তারা। নির্বাচনকেই মুক্তির একমাত্র পথ ভেবে ঐক্যবদ্ধ নেতাকর্মীরা তাই শেষ সময়ে পা পিছলাতে রাজি না। ফলে আগামী ১০ ডিস্মেবরের জনসভা নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে মনে করেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here