নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নেতাকর্মী সংকটের কারনে পুলিশের বাঁধার মুখে দায়াসারা বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করে উল্টো প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে মহানগর বিএনপি। আর ব্যাপক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটানোর পাশাপাশি খোদ পুলিশের সামনেই সরকার বিরোধী মুহুর্মুহু শ্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করে দাপট দেখিয়ে যাওয়ায় জেলা বিএনপির ভাবমূর্তিও উজ্ঝল হয়েছে বলে অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে গত ৩ ডিসেম্বর সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে হাতেগোনা স্বল্প সংখ্যক নেতা নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করতে আসার কারনেই পুলিশের বাঁধার মুখে পড়তে হয়েছিল মহানগর বিএনপিকে।

কারন, তাদের বিক্ষোভ সমাবেশে যতজন না নেতা উপস্থিত ছিলেন, তার চেয়ে বেশী ছিল পুলিশ। যার ফলে বিক্ষোভ সমাবেশ করতে এসে পুলিশের বাঁধার সম্মুখীন হতে হয় মহানগর বিএনপির নেতাদের।

আর তন্মধ্যে মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল সদর মডেল থানার ওসি মীর শাহীন শাহ্ পারভেজের সাথে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের কথা বলে অনুমতি নিলেও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে বার বার ব্যানার দিতে তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও টিপু ভয়ে ব্যানার দিতে দেরী করায় এবং সভাপতি এড. আবুল কালাম পুলিশঅ ঝামেলা এড়াতে সমাবেশের শেষ সময়ে এসে যোগদান করেই সমাবেশের সমাপনী ঘোষণা করায় আগামীতে সরকার বিরোধী আন্দোলনে মহানগর বিএনপির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তৃণমূণ নেতৃবৃন্দ।

অপরদিকে, একই ইস্যুতে বিকেলে শহরের চাষাড়া শহীদ মিনার এলাকা হতে বেশ দাপটের সাথেই সরকার বিরোধী নানা শ্লোগান দিয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এসে বিক্ষোভ সমাবেশ করে যায়।

কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীদের তুলনায় নিজেদের লোকবল কম থাকায় পুলিশ সদস্যরাও তখন নীরব দর্শক বনে যায়! দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বিএনপির নেতৃবৃন্দদের মুখে সরকার বিরোধী নানা শ্লোগান আর ঝাঁজালো বক্তব্য শোনা ছাড়া আর কিছুই করা সম্ভব হয়নি সদর মডেল থানা পুলিশের।

সমাবেশ চলাকালে ওয়্যারলেসে উর্ধ্বতন কৃর্তপক্ষের সাথে সদর মডেল থানার কর্মকর্তার আলাপকালেও এমনই অসহায়ত্বের কথা শোনা গেছে বলে জানান, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পুলিশ সদস্য। জনৈক কর্মকর্তা তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট নাকি স্বীকার করেছেন, যে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের তুলনায় পুলিশ সদস্যের সংখ্যা খুবই সীমিত। তাই তাদের কোন বাঁধা দেয়া যায়নি।

তবে এব্যাপারে জানতে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর শাহীন শাহ্ পারভেজের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি মুঠোফোন রিসিভ করেননি ।

আর তাই জেলা বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতি কাজী মনির না আসলেও তাকে ছাড়াই বেশ দাপটের সাথে নগরীর বুকে সমাবেশ করে সবাইকে তাক্ লাগিয়ে দিয়েছে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দরা বলে মন্তব্য করেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।

তাদের অভিমত আগামীতেও যে কোন আন্দোলন সংগ্রামে যদি এভাবেই জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দরা রাজপথে সক্রিয় থাকতে পারে, তাহলে তৃণমূল নেতাকর্মীরাও ঐক্যবদ্ধ ভাবে সরকার পতনে রাজপথ প্রকম্পিত করতে উদ্বুদ্ধ হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here