নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার পিপি এড. ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়ে মাইশা ওয়াজেদ প্রাপ্তিকে (১৭) জোরপূর্বক বিষ খাওয়ানোকারী ৩ যুবককে গ্রেফতারে হন্য হয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে র‌্যাব ও পুলিশ প্রশাসন।

মেয়ে মাইশা ওয়াজেদ প্রাপ্তি (১৭) কে বিষ জাতীয় দ্রব্য সেবন করিয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৪ আগষ্ট) বিকেলে অজ্ঞাত ৩ আসামীর নামে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার সরকারী কৌসুলি এড. ওয়াজেদ আলী খোকন।

মেয়েকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করেন তিনি।

এরপর ‘আপনার মেয়েকে হত্যা চেষ্টার নেপথ্যে কারা থাকতে পারে’ এমন প্রশ্নের জবাবে এড. ওয়াজেদ আলী খোকন নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, ‘আমার মেয়েকে কারা হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে সেটা আমরা যেহেতু দেখি নাই, সেহেতু কিছু বলতে পারছি না। তবে ঘটনার পর বুধবার রাত থেকেই র‌্যাব-পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমে পড়েছে। কারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তা তদন্ত করা হচ্ছে।’

তবে এর আগে ঘটনার দিন রাতে এড. ওয়াজেদ আলী সাংবাদিকদের কাছে দাবী করেছিলেন, সাত খুনের মামলায় সাজাপ্রাপ্তদের মৃত্যুদন্ড হাইকোর্টে বহাল থাকার ক্ষোভেই হয়তো বা কেউ তার মেয়েকে বিষ খাইয়ে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন।

মামলা দায়েরের বিষয়টি নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে নিশ্চিত করেছেন, সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জানান, ‘মাইশাকে বিষজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে তার পিতা এড. ওয়াজেদ আলী খোকন অজ্ঞাত ৩ জন আসামীর নামে এজাহার দাখিল করেছেন। হত্যা চেষ্টাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।’

এদিকে, বুধবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক জানিয়েছিলেন, ‘আমরা প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার থেকে জেনেছি ৩ জন যুবক এসে প্রাপ্তিকে বিষাক্ত কিছু খাওয়ানোর চেষ্টা করেছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
আর র‌্যাব-১১’র সিইও লে. কর্ণেল কামরুল হাসান পরিদর্শন শেষে জানিয়েছিলেন, ‘প্রাপ্তিকে যারা বিষ জাতীয় দ্রব্য খাওয়ানোর চেষ্টা করেছে তাদের খুঁজে বের করতে র‌্যাবের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।’

উল্লেখ্য, গত ২৩ আগষ্ট সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কের পাশে অবস্থিত ‘হাজী মঞ্জিলের’ সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি এড. ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়ে মাইশাকে বিষ জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অপহরণের চেষ্টা চালায় ৩ যুবক। পরে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন মাইশা। পরে তাকে দ্রুত নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে, এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা শেষে বাড়ী ফিরিয়ে আনা হয়।

এব্যাপারে মেয়ের বরাত দিয়ে এড. ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, ‘বিকেলে প্রাপ্তি নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের উল্টো দিকে অবস্থিত হাজী মঞ্জিলের চতুর্থ তলায় তার মামা তৌহিদের বাসায় প্রাইভেট পড়তে যায়। সন্ধ্যার ঠিক আগ মুহূর্তে পড়া শেষ করে নিচে নেমে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিল সে। ওই সময় স্যুট পরিহিত একজন হ্যান্ডসাম ব্যক্তি একটি কেরিনা গাড়ি থেকে নেমে প্রাপ্তির কাছে এসে জানতে চায়, ‘সে নারায়ণগঞ্জের পিপি এড. ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়ে কি না?’ ‘হ্যাঁ’ সূচক উত্তর পেয়ে অপহরণকারী নিজেকে তার বাবার বন্ধু হিসেবে পরিচয় দেয়। এরপরই অপহরণকারী প্রাপ্তিকে উদ্দেশ্য করে বলে, ‘মঙ্গলবার তো তোমার বাবার জন্য একটি বিশেষ দিন ছিল। তোমার বাবা ৭ খুনের যে মামলা নারায়ণগঞ্জে লড়েছিল সেই মামলায় হাইকোর্ট আসামীদের রায় বহাল রেখেছে। এজন্য তোমাকে মিষ্টি খাওয়াতে এসেছি।’ এ কথা বলেই জোর করে প্রাপ্তির মুখে একটি মিষ্টি গুঁজে দিয়েই পানি খাইয়ে দেয়। ওই সময় সে সম্ভাব্য বিপদ আঁচ করতে পেরে অপহরণকারীকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় এসে একটি রিকশায় উঠে পড়ে এবং ঘটনাটি মোবাইল ফোনে আমাকে জানিয়ে কাঁদতে শুরু করে। পরে রিকশার পেছন দিয়ে তাকিয়ে দেখে, তাকে অপহরণের চেষ্টাকারী ওই ব্যক্তি সাদা রঙের কেরিনা গাড়িতে চড়ে নগরীর ২ নম্বর রেলগেট এলাকার দিকে চলে যাচ্ছে।’

খোকন আরও জানান, এরপর তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং মেয়ের কাছে সব শুনে তাকে নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। এরপর রাতেই চিকিৎসা শেষে মাইশাকে বাসায় নিয়ে আসেন।

মাইশার বাবা এড. ওয়াজেদ আলী খোকন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগেরও নেতা।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে সংঘটিত সাত খুনের মামলার রায়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত কাউন্সিলর নূর হোসেন, র‌্যাব-১১-এর সাবেক তিন কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, আরিফ হোসেন ও মাসুদ রানাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদন্ড ও বাকী ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছিল। এরপর গত ২২ আগষ্ট হাইকোর্ট ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিলের রায়ে নূর হোসেন, তারেক, আরিফ ও রানাসহ ১৫ জনের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন। উচ্চ আদালতের রায়ের পরদিনই এ ঘটনা ঘটে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here