নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এখন হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য। আর মাদক ব্যবসায়ীদের প্রত্যক্ষভাবে মদদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফতুল্লার তালিকাভূক্ত চিহ্নিত পুলিশের তিনজন সোর্সের বিরুদ্ধে।

মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ এবং মাদক সুবিধা পাওয়ার ফলে মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে পরছে না সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। এমনকি পুলিশের সোর্স হওয়ার সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে পুলিশের এই তিন সোর্স মাদকের বড় বড় চালান নিদিষ্ট গন্তব্যস্থলে পেীছে দেওয়ারও অভিযোগ উঠে আসছে দীর্ঘদীন ধরে। মাদক ব্যবসায়ীদের প্রত্যক্ষ্যভাবে মদদ দেয়াসহ এই সকল সোর্সের মধ্যে সবার প্রথমই যার নাম উঠে এসেছে এর মধ্যে অণ্যতম হচ্ছে হত্যা, মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি বাদল ওরফে লুইচ্যা বাদল, মাদক মামলার আসামি নুরুজ্জামান চায়না এবং চ্যাপ্টা নূরাসহ তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে।

সরজমিনে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, ফতুল্লা মডেল থানার ১০০ গজ দূরেই শাহ্ফাতেহউল্লাহ মাজারের পিছনে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছে ফতুল্লা থানা পুলিশের সোর্স বাদল ওরফে লুইচ্চ্যা বাদল। তার ভাড়াটিয়া রুমের পাশেই আরো একটি রুম ভাড়া নিয়ে চালাচ্ছে দেহ ব্যবসা ও মাদকের রমরমা ব্যবসা। থানার পাশে দীর্ঘদীন ধরে পুলিশ সোর্স বাদলের এ সকল অবৈধ কার্য্যকলাপ পরিচালনা হয়ে আসলেও রহস্যজনক কারনে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ নিশ্চুপ। এমনকি সোর্স বাদলের দেহ ব্যবসার পরিচালিত ভাড়াটিয়া রুমে ফতুল্লা মডেল থানার জনৈক একাধিক পুলিশ সদস্যদের আনাগোনার খবরও পাওয়া গেছে।

ঐ সকল পুলিশ সদস্যরা একদিকে ইয়াবা সেবন এবং অণ্যদিকে নারী নিয়ে ফুর্তি করারও গুরুতর অভিযোগ উঠে আসছে পাশ্ববর্তী ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে। পাশ্ববর্তী ভাড়াটিয়াদের চোঁখের সামনে দীর্ঘদীন ধরে এ ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ চলে আসলেও আতংকে ও হয়রানীর ভয়তে একটু টু শব্দ করারও সাহস পাচ্ছে না নীরিহ ভাড়াটিয়ারা। এমনকি পুলিশ সোর্স বাদলকে ফতুল্লা মডেল থানার এক সিভিল টিমের গাড়ীতে অনেক সময় ঘুরতেও দেখা যায়। মাদক জোন হিসেবে পিিচত ফতুল্লার ফাজিঁলপুর এলাকায় গড়ে ১৫ জন ইয়াবা বিক্রেতা আছে। প্রতিটি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কখনো ইয়াবা কিংবা জন প্রতি মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নগদ ১ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে নির্বিঘেœ মাদক ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য সহযোগিতা করে আসছে সোর্স বাদলসহ তার সহযোগীরা। তাই মাদকমুক্ত ফতুল্লা গড়ে তুলতে হলে পুলিশ সোর্স বাদলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

অপর পুলিশ সোর্স নুরুজ্জামান ওরফে চায়না। ফতুল্লার ফাজিঁলপুর এবং নবীনগর এলাকার অর্ধ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করে আসার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এই সোর্সের বিরুদ্ধে। এমনকি পুলিশের সোর্স হওয়ার পুজিঁকে কাজে লাগিয়ে বিতর্কিত এই সোর্স নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন মাদকের ডিলারের কাছ থেকে ইয়াবা সরবরাহ করে নবীনগর এবং ফাজিঁলপুর এলাকার খুঁচরা ব্যবসায়ীদের কাছে পেীছিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ সোর্স চায়নার বিরুদ্ধে। এর বিনিময়ে পুলিশ সোর্স নুরুজ্জামান চায়না দৈনিক প্রতি মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা করে আদায় করে নিচ্ছে। আর মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দৈনিক মানথি চাওয়ার অডিও রেকর্ড এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

অপর পুলিশ সোর্স নূরা ওরফে চ্যাপ্টা নূরার প্রধান কাজ হচ্ছে আইনশৃংখলা বাহিনীর গতিবিধি লক্ষ্য রাখা। ফতুল্লার পঞ্চবটিস্থ বনানী হলের সামনে সর্বদা দাড়ানো অবস্থায় থেকে এলাকায় আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা প্রবেশ করার সাথে সাথেই এ তথ্য মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পেীছে দেওয়াই হচ্ছে সোর্স চ্যাপ্টা নূরার দায়িত্ব। এর বিনিময়ে প্রতি মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জন প্রতি ৫শ’ টাকা করে সুবিধা ভোগ করে আসছে সোর্স নূরা। কোন মাদক ব্যবসায়ী মানথি প্রদানে অপরাগতা প্রকাশ করলেই পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়াসহ পরবর্তীতে ছাড়িয়ে রাখার দায়িত্বও এই চ্যাপ্টা নূরা পালন করে থাকেন বলে স্থাণীয় সাধারন মানুষের অভিযোগ।

বিতর্কিত এ সকল পুলিশ সোর্সদের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি (অপারেশন) মজিবুর রহমান জানান, বিতর্কিত এ সকল সোর্সরা যদি পুলিশের নাম ব্যবহার করে কোন ধরনের অপকর্মের সাথে জড়িত থাকে তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here