নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: কখনো সাংসদ শামীম ওসমান কখনো সাংসদ সেলিম ওসমান কখনো প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমান, কখনো বা বিশিষ্ট শিল্পপতি মোঃ আলী ও সাংসদ পুত্র আজমেরী ওসমান ও অয়ন ওসমান। বাদ দেয়নি বিএনপির সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিন ও আবুল কালাম কেও।
ডিস অফিসের ভিতর সাঁটানো হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দদের ছবি সম্বলিত ব্যানার।

আর এই এমপি ও রাজনীতিবীদদের ছবির সাথে ফেন্সি আওলাদের ছবি ব্যবহার করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে ফতুল্লার মুসলিমনগর এতিম খানা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ফেন্সি আওলাদ ওরফে ডিস আওলাদ। গত কয়েক বছর আগে এই ডিস আওলাদের বাড়ী থেকে র‌্যাবের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে বিপুল বোমা ও বোমা তৈরীর সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। স্থাণীয় থানায় রয়েছে ফেন্সি আওলাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও।

অথচ এই ফেন্সি আওলাদ ক্ষমতাসীনদলের এমপি ও প্রভাবশালী রাজনীতিবীদদের আস্থাভাজন পরিচয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তাররের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অপকর্ম করে আসলেও এ বিষয়ে কিছুই জানেন না ক্ষমতাসীনদলের নেতারা। এদিকে এই ফেন্সি আওলাদ সর্বদাই বিএনপির ক্যাডারদের সাথে নিয়ে হোন্ডা মহড়ার মাধ্যমে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। স্থাণীয় এলাকায় ফেন্সি আওলাদ নিয়ন্ত্রনে গড়ে উঠেছে একাধিক মাদক স্পট। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে ডিস অফিসের নামে গড়ে তুলা বিল্ডিংয়ের ভিতরে মাদক সেবনের স্বর্গরাজ্য আর গভীর রাত হলেই মাদক সেবনের সাথে চলে নারী নিয়ে রঙ্গলীলা।

বর্তমানে তার অপকর্মের বিষয়ে স্থাণীয় লোকজন ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে জাতীয় পার্টির প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের পুত্র সুযোগ্যপুত্র তরুনদের তারুন্যের অহংকার আজমেরী ওসমানের নাম ব্যবহার করে এই কর্মগুলো চালিয়ে আসছে বলেও স্থাণীয় লোকজন অভিযোগ করেন। ডিস আওলাদ ওরফে ফেন্সি আওলাদের স্বার্থের জন্য উল্লেখিত সকল প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে যখন যাকে প্রয়োজন তাকেই ব্যবহার করছে। প্রভাবশালী এমপি ও এমপি পুত্রসহ স্থাণীয় প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দের সাথে গভীর সখ্যতা রয়েছে বলেও ডিস আওলাদ এলাকায় চড়াও করে বেড়ায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ডিস আওলাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মুসলিমনগর এলাকার মৃত সালু মাদবরের ছেলে আওলাদ হোসেন ওরফে ডিস আওলাদ। ছেলে বেলা থেকেই স্থাণীয় মাদবরের ছেলে বিধায় বেপরোয়া হয়ে উঠে। জড়িয়ে পরে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্মে। স্থাণীয় এলাকায় সম বয়সীদের নিয়ে গড়ে তুলে একটি বাহিনী। এই বাহিনীর মাধ্যমে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি, মারামারিসহ বিভিন্ন অপকর্ম করার ফলে স্থানীয় মানুষের কাছে বেয়াদব আওলাদ হিসেবে উপাধি পায়। এরপর যোগ দেয় স্থাণীয় বিএনপির রাজনীতিতে। গিয়াস উদ্দীন এ আসনে সাংসদ থাকাকালীন সময়ে বিভিন্ন করে বেড়াতে থাকে ডিস আওলাদ। এক পর্যায়ে ক্ষমতার পালাবাদালে কখানো জাতীয় পার্টি কখনো আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতাদের নাম ব্যবহার করে এলাকায় ডিস ব্যবহার আধিপত্য নিয়ে নেয় আওলাদ।

এরপর থেকেই স্থাণীয় বিএনপির কতিপয় লোকজনদের সহযোগিতায় এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। শুরু করে মাদক ব্যবসা, ইন্তাজউদ্দিন ইন্তাজের মাধ্যমে ফতুল্লার মুসলিমনগর, এতিম খানাসহ আশে পাশের এলাকায় ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইনসহ বিভিœ ধরনের মাদকের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। আর ডিস আওলাদের নিয়ন্ত্রনে মাদক ব্যবসার ছোবলে আক্রান্ত হচ্ছে স্থাণীয় যুব সমাজ। কতিপয় কিছু সাংবাদিক ও পুলিশের প্রত্যক্ষ মদদ থাকায় দেদারছে চালাচ্ছে এ ব্যবসা। তাই স্থাণীয় সাধারন মানুষসহ তরুন সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য অনতিবিলম্বে ডিস আওলাদ ওরফে ফেন্সি আওলাদকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে স্থাণীয়রা। সে সাথে ক্ষমতাসীনদল ও স্থণীয় মুরুব্বীদের ছবি সম্বিলিত ব্যানারের মাধ্যমে এলাকার সাধারন মানুষকে যেভাবে আতংক দেখাচ্ছে এ ব্যাপারে স্থাণীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ সাংসদ শামীম ওসমান এবং সাংসদপুত্র তারুন্যের অহংকার আজমেরী ওসমানের জরুরী হস্তক্ষেপ দাবি এলাকাবাসীর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here