নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আর মাত্র দু’দিন পরেই উদযাপিত হতে যাচ্ছে মুসলমান সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানীর ঈদ। সরকারী ছুটি শুক্রবার থেকে শুরু হলেও নারায়ণগঞ্জ থেকে ইতিমধ্যেই নারীর টানে বাড়ী ফিরতে শুরু করেছে ঘুরমুখোরা। তবে ঈদের অজুহাতে গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধির নামে চরম নৈরাজ্য চলছে বলে অভিযোগ করেন সাধারন যাত্রীরা।

বুধবার (৩০ আগষ্ট) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জ চিটাগাং রোডে সরেজমিন ঘুরে এমনই অভিযোগের প্রমাণও মিলেছে।
জানাগেছে, সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক গত ২৯ আগষ্ট থেকেই নারায়ণগঞ্জের শিল্পঞ্চল খ্যাত ফতুল্লার বিসিক, রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ, বন্দরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত গার্মেন্ট ফ্যাক্টরী, শিল্প কারখানায় ঈদের ছুটি ঘোষণা করায় শ্রমিকরা এখন গ্রামের বাড়ীতে প্রিয়জনের সাথে ঈদ করতে বাসে, ট্রেনে, লঞ্চে চড়ে যে যেভাবে পারছে বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হচ্ছেন।

চিটাগাং রোডে গিয়ে দেখাগেছে, দক্ষিনবঙ্গ গামী যাত্রীদের মধ্যে বেশীরভাগই ছিল নিন্ম মধ্য আয়ের মানুষ। যারা কর্মস্থল থেকে ছুটি পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদ করতে গ্রামের বাড়ীতে যাচ্ছেন। কিন্তু সমস্যা হয়েছে বাসের ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে। বাসে সিট আছে কথা বলে যাত্রীদের হেলপাররা গাড়ীতে উঠালেও ভিতরে গিয়ে সিট না পেয়ে অনেক যাত্রীকে চালক হেলপারদের সাথে তর্কে জড়াতে দেখাযায়।

নোয়াখালীগামী গার্মেন্ট কর্মী সুলতান মিয়া অভিযোগ করেন, মায়ের দোয়া পরিবহনের একটি বাসে ভাড়া বেশী দিতে হবে বলে সিট থাকার কথা বলে তাকে হেলপার গাড়ীতে উঠায়। কিন্তু বাসে উঠে যখন দেখেন কোন সিট খালি নেই, কিছুদূর যাওয়ার পর সিট পাওয়া যাবে, তখন তিনি বাস থেকে নেমে পড়েন।

এমনই আরো নৈরাজ্য চলছে গণপরিবহন গুলোতে। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পরিদর্শনে এসে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গণপরিবহনে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারী প্রদান করলেও বাস্তবে কোন বাসের হেলপার চালকই তা মানছেনা বলে অভিযোগ করেন ঘরমুখো যাত্রীরা।

অপরদিকে, বন্দর উপজেলা প্রতিবেদক জানান, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বন্দর উপজেলার বিভিন্ন রুটে গনপরিবহনের ভাড়া আশংকা জনক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন অভিযোগ তুলেছে যাত্রী সাধারনরা।

ভূক্তভোগী যাত্রী সাধারন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে, বিশেষ করে বন্দর উপজেলার মদনগঞ্জ টু মদনপুর রুটে চলাচলরত গনপরিবহনের মধ্যে বাস, সিএনজি ও ইজি বাইকের ভাড়া অনেককাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা আরো জানিয়েছে, পূর্বে একজন যাত্রী মদনগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড হইতে মদনপুর বাসস্ট্যান্ড গিয়ে বাস ভাড়া দিত ২০ টাকা। এখন একজন যাত্রী মদনগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে উঠে মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে বাস ভাড়া গুনতে হচ্ছে ৩০টাকা। এছাড়াও মদনগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে মদনপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সিএনজির পূর্বে ভাড়া ছিল ২৫ টাকা । এখন ওই পথে একজন যাত্রীকে সিএনজি ভাড়া গুনতে হয় ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। বন্দরের বিভিন গুরুত্বপূর্ন রুটে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান না থাকায় এ সুযোগে গনপরিবহনের মালিক ও শ্রমিকরা সাধারন যাত্রীদের নানা অজুহাত দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। এ ছাড়াও এ রুটে ইজিবাইকের ভাড়াও বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে সাধারন যাত্রীরা এ অভিযোগ তুলেছে। মদনগঞ্জ টু মদনপুর সড়কসহ বন্দরে বিভিন্ন রুটে অতিরুক্ত গনপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির কারনে সাধারন যাত্রীরা পরেছে চরম বিপাকে।

এছাড়াও রূপগেঞ্জ ঢাকা-সিলেটগামী মহাসড়কেও গণপরিবহনে চলছে চরম নৈরাজ্য। নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে যাত্রীদের অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশী ভাড়া দিতে হচ্ছে বলে জানান, রূপগঞ্জ উপজেলা প্রতিবেদক। কিন্তু মহাসড়কে ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও ভাড়া বেশী নেয়ার ব্যাপারে কোন বাস চালক হেলপারদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে কাউকে দেখা যায়নি। যার ফলে ঈদের অজুহাতে সাধারন যাত্রীদের পকেট কাটছে বাসর চালক হেলপাররা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here