নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর কোন প্রকার সতর্কতাই নেই নারায়ণগঞ্জের ফুটপাতে। অথচ এসব ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকে পণ্য কেনার জন্য নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের উপচে পরা ভীড় দেখা গেছে। একজনের গায়ের উপরে দাড়িয়ে অন্য আরেকজন পণ্য কেনায় ব্যস্ত, সামাজিক দুরত্ব মানার কোন বালাই নেই তাদের মধ্যে। এমনকি শারিরীক দুরত্বটুকুও মানা হচ্ছে না সেখানে। যদিও পুলিশ কিছুক্ষণ পর পর এসে হকারদের তুলে দিচ্ছে কিন্তু পুলিশ চলে গেলেই আবার হকাররা ফুটপাত দখল করে বসে যাচ্ছে আর ক্রেতারাও হুমড়ি খেয়ে পরছেন সেখানে।

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমন প্রতিরোধে গত ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ হওয়া দেশের সকল মার্কেট ও বিপনিবিতান খুলেছে রবিবার ১০ মে। দীর্ঘ ৪৫ দিন বন্ধ থাকার পরে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে খুলে দেয়া হয়েছে এসব মার্কেট ও দোকানপাট। যদিও দেশের অনেক জেলায় দোকান মালিক সমিতি বন্ধ রেখেছে তাদের মার্কেট, এমনকি রাজধানী শহর ঢাকার বড় বড় মার্কেটও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কিন্তু নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীরা করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়ে রবিবার খুলে দিয়েছে তাদের সকল দোকানপাট ও শপিংমল। আর মার্কেট খোলার পর থেকেই ক্রেতাদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে মার্কেটগুলোতে।

মার্কেট দোকানপাট খোলার পরপরই ফুটপাতে একজন দুজন করে বসে যেতে থাকেন হকাররা। আর ঈদ ঘনিয়ে আসায় এখন জমজমাট বেচাকেনা চলছে ফুটপাতের দোকানগুলোতে। মার্কেটে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ফুটপাতে নেই সে রকম কোন বন্দোবস্ত তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেখানে কেনাকাটা করছেন অনেকে। এতে করে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পরার আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরু পর থেকে ঘরে থাকার বিষয়ে প্রথমে বেশ কড়াকড়ি ছিলো নারায়ণগঞ্জে। কিন্তু ২৬ এপ্রিল গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী খুলে দেওয়ার পর থেকে শিথিল হতে থাকে সবকিছু। এরপর হোটেল রেস্তোরা খুলে দিলে আরেকটু ধাক্কা খায় লকডাউন পরিস্থিতি আর গত রবিবার ১০ মে থেকে দোকানপাট ও মার্কেট খুলে দেয়ার পর থেকে পুরোপুরিভাবে ভেঙ্গে পরেছে নারায়ণগঞ্জে করোনা মোকাবেলার সকল প্রস্তুতি। এখন নারায়ণগঞ্জে লকডাউন আছে কেবল সরকারী ঘোষনায় সীমাবদ্ধ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here