নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নগরীর ফুটপাতে ব্যবসা করতে হলে দৈনিক চাঁদা দিতে হবেই তাদের। এমনকি ফুটপাতে চৌকি বসানো থেকে অন্যের চৌকি দখলদারিত্বের কাজও টাকার বিনিময়ে সংঘবদ্ধ ভাবে করে থাকেন এই চাঁদাবাজরা। আর তাদের নিয়ন্ত্রণ করছেন নাকি জেলা যুব সংহতির আহবায়ক রাজা হোসেন।
যেই কারনে এই চাঁদাবাজরা ফুটপাতে চাঁদা উত্তোলন বা কোন দোকানপাট বসাতে গেলে রাজার নামটিই ব্যবহার করে থাকেন বলে সাধারন হকাররা অভিযোগ করেন। যদিও যুবসংহতি নেতা রাজা ফুটপাতের কোন নিয়ন্ত্রণ করেন না বলেই দাবি করেছেন, কিন্তু সাধারন হকারদের মনে প্রশ্ন জেগেছে তাহলে রাজার পিএস মোক্তার ও আলীর নেতৃত্বে কেন দৈনিক হাজার হাজার টাকা চাঁদা উত্তোলন করছে?

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, নগরীর উকিলপাড়া স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক মোড় থেকে চাষাড়া জিয়া হল পর্যন্ত নগরীর প্রধান সড়কের দু’ধারের ফুটপাতের সাধারন হকাররা ৮ চাঁদাবাজের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। গত বছর সাংসদ শামীম ওসমান ফুটপাতের হকারদের কাউকে কোন প্রকার চাঁদা দিতে নিষেধ এমনকি কেউ চাঁদা নিতে আসলে তাকে লাঠি পেটা করার নির্দেশনা দিলেও এই চাঁদাবাজ চক্র কারো নির্দেশই কর্ণপাত করছে না।

বরং দোকানের আকার ভেদে প্রতিদিন এই ৮ চাঁদাবাজকে ৩০-৫০ টাকা করে দৈনিক চাঁদা দিতে হচ্ছে। এমনকি কোথাও দোকান বসাতে গেলেও তাদের অনুমতি নিয়ে টাকা দিতে হচ্ছে। অন্যথায় কেউ ফুটপাতে দোকান বসাতে পারে না বলে অভিযোগ করেন সাধারন হকাররা।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, যুবসংহতি নেতা রাজার আশীর্বাদপুষ্ট হকার নেতা আসাদের দুই শ্যালক আলী ও ইকবাল চাঁদাবাজি টিমের নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। আর তাদের টিম লিডার বানিয়ে দিয়েছেন নাকি খোদ রাজা। আর টিমের অন্যান্য সদস্যরা হলেন, রাজার পিএস মোক্তার, ভাগ্নে পরিচয়দানকারী মহসীন, সুমন, মঞ্জিল, ইকবাল-২ ও বুড়ো মহসীন।

যারা প্রতিদিন সন্ধ্যায় ৪টি ভাগে বিভক্ত হয়ে উকিলপাড়া স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক মোড় থেকে চাষাড়া জিয়া হল পর্যন্ত প্রায় ৫’শ দোকান থেকে দৈনিক চাঁদা উত্তোলন করে থাকেন। যার একটি ভাগ পুলিশকে, একটি ভাগ রাজাকে এবং একটি ভাগ নিজেদের পকেটে ভরেন। আর এবছর রমজানে মানবিক বিবেচনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী ফুটপাত উচ্ছেদ না করায় আরো পোয়াবারো হয়ে উঠেছে চাঁদাবাজরা।

অথচ, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সাংসদ শামীম ওসমান, জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হকের কড়া নির্দেশনা থাকলেও ফুটপাতের এই চাঁদাবাজদের কাছে যেন রীতিমত অসহায় পুলিশ প্রশাসন।

কিন্তু হতদরিদ্র ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকে চাঁদাবাজ চক্রটি প্রকাশ্যে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা লুটে নিলেও পুলিশ কেন গ্রেফতার করছেনা এব্যাপারে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মো: শরফুদ্দীন নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, ‘চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। যদি কেউ ফুটপাতে চাঁদাবাজি করে থাকে তাহলে তাকে পাওয়া মাত্রই গ্রেফতার করা হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here