নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ৫ জানুয়ারী গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালনে সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুলিশের হামলা মামলাকে উপেক্ষা করে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করলেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র এমপি প্রত্যাশী দুই নেতা মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু ও নজরুল ইসলাম আজাদকে রাজপথে খুঁজে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।
নগরীর রাজপথে এদিন দলীয় কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে যেখানে জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দদের পুলিশের ধাওয়ার মুখে পড়েও কর্মসূচী পালন করতে হয়েছে, সেখানে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা হওয়ার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের দু’টি আসনে আগামী সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালনে নিস্ক্রিয় ছিলেন এই দুই নেতা।

যার মধ্যে দিপু ভূইয়া নিজ এলাকা রূপগঞ্জে দলীয় কর্মসূচী পালনের পরিবর্তে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আনন্দ ফুর্তিতে কাটিয়েছেন দিনভর।

অন্যদিকে নজরুল ইসলাম আজাদ ছিলেন একেবারেই নিরুদ্দেশ।

ফলে গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালনে বিএনপির নেতাকর্মীদের একদিকে পুলিশের ধাওয়া খাওয়া দৃশ্য, অপরদিকে একইদিন উত্তরাধিকার সূত্রে শিল্পপতি দিপু ভূইয়ার আমোদ ফূর্তির হাস্যোজ্জল ছবি সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন শীর্ষস্থানীয়সহ তৃণমূল নেতৃবৃন্দরা।

আর নারায়ণগঞ্জ বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠন গুলোকেও বগলদাবা করার নীল নকশায় ব্যস্ত থাকা নজরুল ইসলাম আজাদের কর্মসূচী পালনের পরিবর্তে নিরুদ্দেশ থাকার ঘটনায়ও ক্ষোভ জানিয়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

সূত্রে প্রকাশ, এ বছর ৫ জানুয়ারী ‘গনতন্ত্র হত্যা দিবস’ উদযাপনে কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচী দেয় বিএনপি। সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা কর্মসূচী পালনে সকাল থেকে রাজপথে অবস্থান নেয়। কিন্তু পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারনে বিভিন্ন স্থানে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

অথচ, দলের এই ক্রান্তিকালে ৫ জানুয়ারীর মতো দিনে দিপু ভূইয়া ও নজরুল ইসলাম আজাদের মত নেতারা রাজপথে না থাকায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে হয়েছে ক্ষোভের সঞ্চার।

তৃণমূল নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, দিপু ভূইয়া ও নজরুল ইসলাম আজাদের মত নেতারা দলের নয়, প্রকৃতপক্ষে নিজ স্বার্থে রাজনীতি করে থাকেন। তারা মূলত, অর্থের বিনিময়ে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে দলের পদ দখল করে আয়েশী জীবন কাটান। আর তৃণমূলে প্রভাব বিস্তার করে নিজেদের উচ্চ পর্যায়ের নেতা হিসেবে দলের মধ্যে জাহির করার চেষ্টা করেন।

নারায়ণগঞ্জ বিএনপি সূত্রে প্রকাশ, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু রূপগঞ্জ থেকে ও সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ আড়াইহাজার থেকে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী।

উত্তরাধিকার সূত্রে বিশাল অর্থ বিত্তের মালিক দিপু ভূইয়া রাজপথের লড়াকু সৈনিক কোন কালেই ছিলেন না। গত প্রায় এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থাকায় সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা পুলিশের ভযকে উপেক্ষা করে আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে থাকলেও দিপু ভূইয়াকে রাজপেথে পাননি নেতাকর্মীরা। তবে বিশাল অর্থ বিত্তের টানে গ্রামের সাধারণ মানুষ তার সাথে থাকলেও রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা তার তেমন একটা দেখা মেলেনা।

অপরদিকে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলী রহমানের নাম ব্যবহার করে নজরুল ইসলাম আজাদ ইতিমধ্যেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র রাজনীতিতে একটা প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে করায়ত্ত করার জন্য নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কমিটিগুলোতে নিজস্ব লোকদের অন্তর্ভূক্ত করছেন এই কৌশলী নেতা। এমনকি আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসন থেকে বিএনপি’র দলীয় মনোনয়নও আশা করছেন তিনি।

কিন্তু রাজপথে না থেকে শুধুমাত্র জিয়া পরিবারের নাম ভাঙ্গিয়ে কমিটি গঠন করা গেলেও দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে আজাদের পথ ততটা সুগম নয় বলে মন্তব্য করেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here