নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আবারো কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার গ্রেফতার বাণিজ্যের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে জেলা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি)। নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের পূর্বে ডিবি পুলিশের জমজমাট গ্রেফতার বাণিজ্য থাকলে তৎকালীন পুলিশ সুপার হিসেবে ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন দায়িত্ব নেওয়ার পরই ডিবির গ্রেফতার বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়।
কেননা তিনি দায়িত্ব দেওয়ার পরই ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ডিবির তিন ওসিসহ ৮৩জন এসআই ও এএসআইয়ের বদলী হয়ে যায়।
কিন্তু এখন আবার সেই গ্রেফতার বাণিজ্য শুরু হয়ে গেছে। যদিও বর্তমানে ডিবির এসআই মফিজুল ইসলাম, মিজানুর রহমানের মত কয়েকজন দক্ষ পুলিশ অফিসার ডিবিতে রয়েছে। কিন্তু অসাধুদের গ্রেফতার বানিজ্যের কারনে সেই ভালদের ভাল কাজ এখন ম্লান হতে বসেছে। আর প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে পুরো জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

অভিযোগে রয়েছে, গত বুধবার ফতুল্লার কাশীপুর ঢালী বাড়ি এলাকা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টায় জুলহাস নামে একজনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশের এসআই আরিফুল রহমান। এসময় স্থানীয় কয়েকজন জুলহাসকে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে জানতে চাইলে এসআই আরিফুল রহমান উত্তরে বলেন, সন্দেহ জনক কারণে তাকে নিয়ে যাচ্ছি। আপনার একজন একটু পরে ডিবিতে আসেন ছেড়ে দিবো।

এরপর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় স্থানীয় কয়েকজন এসআই আরিফুল রহমানের সাথে দেখা করলে তিনি প্রথমে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন। দেন দরবারে না হওয়ায় তারা চলে আসেন। পরে এসআই আরিফুল রহমান আসামীর সাথে নিজেই ৫০ হাজার টাকা চুক্তি করেন। আসামীকে দিয়ে ফোন করিয়ে পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আসতে বলেন।

তারপর রাত সাড়ে ১১টায় খানপুর মেট্রো হলের সামনে আটক ব্যাক্তির স্বজনরা টাকা নিয়ে আসলে এস আই আরিফুল রহমান আরেক পুলিশ (সম্ভবত) রফিককে টাকাগুলো গুনতে বলেন। হাতে ৪৫ হাজার টাকা বুঝে পান তিনি। পরে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে জানিয়ে আটক ব্যাক্তিকে নিয়ে যান। এরপর থেকেই আরিফুল রহমান আর আটক ব্যাক্তির স্বজনদের মুঠোফোন রিসিভ করেন নি।

পরদিন সকালে ডিবি পুলিশের কার্যালয়ে গিয়ে আটক জুলহাসের স্বজনরা আরিফুল রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, রাতের টাকার কথা ভুলে যান। আরো ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আসলে ৩৪ ধারায় চালান করে দিবো। বাধ্য হয়ে ৫০ হাজার যোগাড় করতে না পেরে শেষতক ২০ হাজার টাকা নিয়ে হাজির হন জুলহাসের স্বজনরা।

এরপর আরিফুল রহমানের হাতে তারা ২০ হাজার টাকা তুলে দিলে সে কিছু সময় পরে ফিরে এসে ১৭ হাজার টাকা তাদের হাতে ফেরত দিয়ে বলেন ওসি স্যার মানেন না। তাকে ছাড়া যাবে না। পরে জুলহাসকে ২০ পুরিয়া হেরোইন দিয়ে মামলা দেওয়া হয়। মামলা দেওয়ার পর আরিফুল রহমানের কাছ থেকে ৪৮ হাজার টাকা ফেরত চাইলে তিনি জুলহাসের স্বজনদের বলেন, ‘বেশি কথা বললে তোদেরও ভরে দিবো।’

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আরিফুল রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আপনি জুলহাসের পরিবারকে জিজ্ঞেস করেন টাকা আমার হাতে দিসে কিনা। উত্তরে প্রতিবেদক বলেন, আপনি রফিক নামে একজনকে টাকা গুনতে দিয়েছেন। উত্তরে আরিফুল রহমান পুনরায় এই প্রতিবেদকে নাম ও পত্রিকার নাম জিজ্ঞেস করেন এবং শনিবার দেখা করতে বলেন। অত:পর ফোনটি কেটে দেন।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here