নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের উপর আবারো চরাও হচ্ছে সরকারী দল ও প্রশাসন-এমনটাই জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল। অতি সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে সরকারী দলের অঙ্গ সংগঠন ও পুলিশের বাঁধা এবং মামলা দায়েরের কারনে তৃণমূলের এমন ধারনার জন্ম হয়েছে। আর আবারো মামলার ভয়ে রাজপথে কর্মসূচির বদলে গৃহবন্দি কর্মসূচি পালন করছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। যা আগামী নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করে তৃণমূল।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে সংগঠিত করার জন্য সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি ঘোষনা করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থাকার ফলে সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের অবস্থাও নাজেহাল। সরকারী দলের মামলা হামলায় জর্জরিত হয়ে ঘর বাড়ি ছেড়ে যাযাবর জীবন যাপণ করছে। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মাঠ পর্যায়ের এসব তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে দলকে সাংগঠনিকভাবে গতিশীল করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ণ কর্মসূচি ঘোষনা করে বিএনপি।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনকালে বিভিন্ন স্থানে পুলিশী বাঁধার মুখে পরতে হয় নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান নগরীর ১৮নং ওয়ার্ডে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার সময় পুলিশ বাঁধা দিয়ে অনুষ্ঠান পন্ড করে দেয়। একইভাবে বিএনপি’র চেয়ারপার্সণ খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকারের উদ্যোগে সিদ্ধিরগঞ্জে আয়োজিত সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ণ কর্মসূচিতে বাঁধা দেয় পুলিশ।

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম আজাদের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও র‌্যালীর আয়োজন করা হয় ৬ সেপ্টেম্বর বুধবার। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর আগে থেকেই সেখানে জড়ো হয়ে মিছিল করে আওয়ামীলীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে সরকারী দলের নেতাকর্মীদের সাথে যোগ দিয়ে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠান ভন্ডুল করে দেয়। আর এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম আজাদসহ ৮৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আড়াইহাজার থানা পুলিশ।

এরপর গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ১০ম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে ডিআইটিতে মহানগর বিএনপির আয়োজনে আলোচনা সভার আয়োজন করে মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। সে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শহরের দেওভোগ থেকে জাকির খানের সমর্থনে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল, মৎস্যজীবি দলসহ অন্যান্য অংগসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে শহরের ২নং রেলগেট হয়ে মন্ডলপাড়া যাওয়ার পথে পুলিশ বাঁধা দিয়ে সেখান থেকে ৭ জনকে আটক করে। পরে সেদিন রাতে বাসা থেকে আরো দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।এরপর রাতে চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জল হোসেন ও জেলা স্বেচ্ছা সেবকদলের যুগ্ম আহবায়ক আকরাম প্রধানসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাত ৩০/৪০ জনকে আসামী করে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করে সদর মডেল থানা পুলিশ।

বিএনপি চেয়ারপার্সণ বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর প্রতিবাদে গত ১০ অক্টোবর কাঁচপুরে সোনারগাঁ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটলে পুলিশসহ চারজন আহত হয়। এ সময় পুলিশ দুটি ককটেলসহ শাহজাহান ও সাখাওয়াত নামে দুই স্বেচ্ছাসেবক দল কর্মীকে আটক করে। এর পরের দিন সোনারগাঁ থানার এসআই মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতা মো: শাহ গিয়াসউদ্দিন ও মো: শাহ আলমসহ প্রায় শতাধীক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পুলিশের উপর হামলা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ককটেল বিস্ফোরণসহ সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অভিযোগে বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় ইসমিত আলী ফকির নামে এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) ২২ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৪৫ থেকে ৫০ জনকে আসামী করে রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাব্বির আহাম্মেদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর সরকারী দল ও পুলিশের এই অগণতান্ত্রীক আচরনে ক্ষোভ জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র অংশগ্রহনের সবুজ সংকেত পাওয়ায় ক্ষমতাশীণদের এই অমানবিক অচরন বলে মনে করছেন তারা। নির্বাচনে বিএনপিকে অংশ নিতে না দেওয়ার কুট কৌশল হিসেবে এই পথ বেছে নিয়েছে তারা এবং সরকারের আজ্ঞাবহ প্রশাসনকে এই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবী নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূলের। সুষ্ঠ নির্বাচনে বিএনপি বিশাল ব্যবধানে বর্তমান ক্ষমতাশীণ দল আওয়ামীলীগকে পরাজিত করে সরকার গঠন করবে বলে ভয়ে তারা এই অন্ধকার পথ বেছে নিয়েছে এবং এই পথেই তাদের পতন ঘটবে বলে হুশিয়ারী তাদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here