নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি, ফতুল্লা প্রতিনিধি: ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত ২৭ নভেম্বর রাতে নন্দলালপুর এলাকা থেকে মাদ্রাসার ছাত্র আলোচিত নাঈম হত্যা মামলার আসামী সুমন ওরফে রাফাকে গ্রেপ্তার করেছে। এই আসামীকে নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করলে আহম্মেদ হুমায়ুন কবিরের ১ম আদালতে স্বেচ্ছায় ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। আসামীর দেয়া তথ্য মোতাবেক মামলার আলামত মোবাইল, চাকু উদ্ধারসহ অন্যান্য সহযোগি আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে ।

মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে ফতুল্লার মডেল থানায় অফিসার ইনচার্জ মো. কামাল উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, ১৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় নন্দলালপুর কাকুলি ডাইংয়ের পাশে অজ্ঞাতনামা যুবক (২২) এর একটি লাশ রক্তাক্ত একটি লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। পরে আমি ও আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনা স্থলে গিয়ে তদন্ত করি। পরে লাশটি উদ্ধার করে তার ছবি থানার ফেসবুকে দেয়া হয়। পরে ঐ লাশের ছবি দেখে তার আত্মীয় স¦জনরা হাসপাতালের মর্গে গিয়ে লাশটি সনাক্ত করে এবং তার পরিচয় জানাযায়। এরপর মুনসুর আহম্মেদ থানায় এসে পুলিশের কাছে বলেন আমার ছেলে আবু নাঈম । তাকে যারা হত্যা করেছে । আমি তাদের চিনতে পারিনি। তারপর সে ২০ নভেম্বর পুত্র হত্যার বিচার দাবী করে আমার থানায় ৩০২/৩৪ দ:বি ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছে। যার মামলা নং ৮৮(১১)১৭।

এই মামলা মুরু হওয়ার পর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় এবং থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত টীমের সহায়তায় মামলার তদন্ত কারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (আই.সি.পি) মো. গোলাম মোস্তফা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বল্প সময়ের মধ্যে মামলার ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত মো. সুমন ওরফে রাফা (১৮) কে ২৭ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টায় নন্দলালপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আসামী রাফা জানায়, পিলকুনি গ্রামের জনি (১৮), হৃদয় (১৮)সহ অজ্ঞাতনামা সহযোগিরা বেশ কিছুদিন যাবৎ ফেসবুকে বিভিন্ন মেয়েদের নামে ভূয়া আইডি খুলে লোকজনদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাক মেইল করে আসছে। ইতিমধ্যে জনি “সিনথিয়া জাহান তোরা (এন.টি) ” নামে একটি ফেসবুক ভূয়া আইডি খুলে। ঐ আইডিতে ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে ভিকটিম মো.আবু নাঈম কে এ্যাড করে। জনি ও তার সহযোগিরা ঐ ভূয়া আইডির মাধ্যমে ভিকটিম আবু নাইম এর সাথে দীর্ঘ যাবৎ চ্যাটিং করে আসছিল। গত ১৬ নভেম্বর বিকেল সাড়ে তিনটায় জনি, তুরাব (২২), হৃদয়, সুমন ওরফে রাফার সাথে আবু নাঈম এর কাছ থেকে তার মোবাইল ও টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করে।

একপর্যায় গ্রেপ্তারকৃত আসামী সুমন ওরফে রাফা তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৯ নভেম্বর নাঈম কে নন্দলালপুর কাকুলি ডাইংয়ের পাশে আনার জন্য তাদের হৃদয় কে পাঠায়। এদিকে, পরিকল্পনা অনুযায়ী ঐ ডাইংয়ের গলিতে আসামী সুমন ওরফে রাফাসহ ২০/২২ জনসহযোগি অবস্থান করেছিল। ঐ দিন সন্ধ্যা ৬টায় আসামী রাফা সহযোগি হৃদয় , ভিকটিম মো. আবু নাঈম কে ঐ গতিতে নিয়ে আসে। আনার সাথে সাথেই তাকে সবাই ঘিরে ধরে। এলোপাথারীভাবে কিল ঘুষি লাথি মারতে থাকে নাঈম মাটিতে পরে যায়। রাফার স্বীকারোক্তি মতে সিফাত নামের এক যুবক তার হাতে থাকা ধারালো ছোড়া দিয়ে বুকে-পিঠে এলোপাথারী আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। এতে মো. আবু নাঈম ঘটনা স্থলেই মারা যায়। এসময় আসামীগন ভিকটিমের মোবাইল নিয়ে দ্রুত ঘটনা স্থল ত্যাগ করে। রাফার তার স্বীকারোক্তিমূলক জবান বন্দিতে এমনটাই বললো ।

এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত ) মো. শাহজাল , থানার চৌকশ ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মো. মজিবুর রহমান, এই মামলার তদন্তকারী অফিসার, ইন্সপেক্টর মো. গোলাম মোস্তফা । এছাড়া ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাব, ফতুল্লা প্রেস ক্লাব এবং ফতুল্লা রিপোটার্স ইউনিটির সাংবাদিক ছাড়াও ইলেট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here